কলাপাড়ায় নষ্ট হচ্ছে সরকারের কোটি কোটি টাকার সম্পদ

0

সোলায়মান পিন্টু,কলাপাড়া প্রতিনিধিঃ পটুযাখালীর কলাপাড়ায় সরকারের কোটি কোটি টাকা মূল্যের ফেরি, পল্টুন, গ্যাংওয়ে মাটির সাথে মিশে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। উপজেলার অন্ধারমানিক, সোনতলা ও শিববাড়িয়া নদীতে অকেজো হয়ে পড়ে থাকা এসব ফেরির বিভিন্ন মুল্যবান অংশ রাতের আধারে চুরি হয়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকতারা একটু সচেষ্ট হলেই এসব ফেরি, গ্যাংওয়ে এবং পল্টন মাটির সাথে মিশে যাওয়া থেকে রক্ষা পেত। অকেজো পন্য হিসাবে বিক্রয়ে সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের দীর্ঘসূত্রিতার কারনে কোটি টাকার এসব সম্পদ মাটির নিচে চাপা পড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এমন মন্তব্য অভিজ্ঞদের।

২০১৫ সালে পটুয়াখালী-কুয়কাটা মহাসড়কের ২২কি.মি সড়কের আন্ধারমানিক নদীতে শেখ কামাল সেতু, হাজিপুর সোনাতলা নদীতে শেখ জামাল সেতু, শিববাড়িয়া নদীতে শেখ রাসেল সেতু নির্মিত হয়। সেতুগুলো নির্মানের পূর্বে কুয়াকাটায় যাওয়া আসার যানবাহন পারপারের একমাত্র মাধ্যম ছিল এই ফেরি। সেতু নির্মানের দুই বছর পার হলেও এ ফেরিগুলো অপসারনের কোন উদ্যোগ নেয়নি যথাযথ কর্তৃপক্ষ। ফলে দীর্ঘদিন চরের উপর পড়ে আছে ফেরিগুলো। আর দিনে দিনে লবনাক্ত পানি ও মাটির সাথে মিশে বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে ফেরিগুলো।

সরেজমিনে দেখা যায়, কলাপাড়া অন্ধারমানিক নদী চরে তিনটি ফেরি, একটি গ্যাংওয়ে, হাজীপুর সোনাতলা নদী চরে চারটি ফেরি, একটি পল্টুন এবং মহিপুর শিববাড়িয়া নদী চরে দুইটি ফেরি, দুইটি পল্টুন, দুইটি গ্যাংওয়ে অকেজো হয়ে পড়ে আছে।  এসব ফেরি ও পল্টুন গুলোর বেশির ভাগই ব্যবহারে অনুপোযোগী ও মেরামত অযোগ্য হওয়ায় ফেলে রাখা হয়েছে। তাই বছরের পর বছর ধরে পরে থেকে লবন পানিতে মরিচা ধরে আর পলি মাটির স্তরে এগুলো মাটির নিচে চাঁপা পরছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একটু সচেষ্ট হলেই স্ক্র্যাপ পন্য হিসাবে বিক্রি করে রাজস্ব খাতে অনেক টাকা জমা করা যেত। তবে সংশ্লিস্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, স্ক্রাপ পন্য হিসাবে এসব সম্পদ বিক্রি করার ইচ্ছে করলেই বিদ্যমান নীতিমালার কারনে তা করা যাচ্ছেনা। রয়েছে চিঠি চালাচালির দীর্ঘ প্রক্রিয়া, ব্যবহার অনুপযোগিতার সঠিকতা যাছাই-বাছাই এবং দরপত্র প্রক্রিয়া।

মহিপুর ফেরিঘাট এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান জানান, অনেক দিন ধরেই এ ফেরিগুলো চরের উপর পড়ে আছে। লবনাক্ত মাটির নিচে চাঁপা পড়ে ফেরিগুলো দিনে দিনে ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে।

কলাপাড়া ফেরিঘাট এলাকার বাসিন্দা মিলন সরকার জানান, ফেরিগুলো এখন আর কোন কাজে আসছেনা। রাতের আধারে এ ফেরিগুলোর বিভিন্ন মূল্যবান যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে যাচ্ছে।

পটুয়াখালী সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, পড়ে থাকা ফেরী এবং পল্টুন গুলো পরিসংখ্যান করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বর্তমানে উম্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিক্রি করার কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।