কলাপাড়ায় বিএনপি’র অভ্যন্তরীন কোন্দল ছাত্রদল সভাপতি ও যুবদল সম্পাদকসহ ৯ জনের নামে মামলা

1

গোফরান পলাশ, কলাপাড়া : পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বিএনপি’র অভ্যন্তরীন কোন্দলের জেরে গত মঙ্গল বার উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমানের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসী হামলা-ভাংচুরের অভিযোগে ছাত্রদল সভাপতি ও যুবদল সম্পাদকসহ ৯ জনের নামে দন্ডবিধির ৩৮৫/৩৮০/৫০৬ (খ) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় আরও অজ্ঞাত ২০/২৫ জনকে আসামী করা হয়েছে। অধ্যাপক মোস্তাফিজ বাদী হয়ে গতকাল কলাপাড়া থানায় এ মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামীরা হলেন ছাত্রদল কলাপাড়া উপজেলা শাখার সভাপতি মো.জাকির হোসেন বাদল মৃধা, উপজেলা যুবদলের সাধারন সম্পাদক মো.হারুন-অর-রশিদ, মো.সোহেল দেওয়ান, মো.রুহুল আমিন, মো.রুহুল ঢালী, মো.মোস্তাফিজ, নূর এলাহী, মো.মনু সিকদার, মো.সোহেল হাওলাদার। পুলিশ এ ঘটনায় সোহেল (৩০) নামের একজনকে গ্রেফতার করেছে।

বিএনপির বর্তমান সভাপতি এবিএম মোশাররফ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক হাজী হুমায়ুন গ্রুপের সমর্থকরা এ হামলা-ভাংচুর ঘটনার সাথে জড়িত বলে দাবী করেছেন পদ বঞ্চিত নেতা অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান। হামলার সময় আশপাশের ব্যবসায়ীরা এ হামলা প্রতিরোধ করে। ঘটনার পর পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা বিএনপি’র কমিটি নিয়ে বর্তমান সভাপতি এবিএম মোশাররফ হোসেনের গ্রুপের সাথে মো.মনিরুজ্জামান গ্রুপের বেশ কিছুদিন ধরে দ্বন্দ চলে আসছিল।   গত ১৭ জানুয়ারী আগে কোনরকম নোটিশ ছাড়াই কলাপাড়া উপজেলা কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে পটুয়াখালী জেলা বিএনপি’র সভাপতি মো.আলতাফ হোসেন চৌধুরী এবং সাধারন সম্পাদক আ.রব মিয়ার যৌথ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমানকে সভাপতি এবং মো.মনিরুজ্জামানকে সাধারন সম্পাদক করে একটি কমিটি গঠন করে পাঠায়। এর পরদিন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এবিএম মোশাররফ হোসেনকে সভাপতি এবং হাজী হুমায়ুন সিকদারকে সাধারন সম্পাদক করে আরেকটি কমিটি করে পাঠায়। এ নিয়ে এ দু’গ্রুপের মধ্যে চাঁপা উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

এ ব্যাপারে উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি এবিএম মোশাররফ হোসেন জানান, এ ঘটনা একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এঘটনার সঙ্গে বিএনপির কোন সম্পৃক্ততা নেই। তিনি এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন।

হুমায়ুন সিকদার জানান, ভাংচুর-হামলার ঘটনা সাজানো।

 

কলাপাড়া থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ মনিরুজ্জামান জানান, শহরে পুলিশ প্রহরা বাড়ানো হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিএনপি’র দু’গ্রুপ অভ্যন্তরীন কোন্দলের জের ধরে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে এক গ্রুপ এ নিয়ে সভা-সমাবেশ করতে চাইলে এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় তাদের তা করতে দেয়া হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।