কলাপাড়ায় বিএনপি প্রার্থী কোনঠাসা সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ

0

কলাপাড়া প্রতিনিধি ঃ পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী গাজী আক্কাস উদ্দিনের সমর্থকরা গণসংযোগে নামলে প্রতিদিনই অপমান, লাঞ্চিত এবং রক্তাক্ত হতে হয়। বিএনপির প্রার্থী আ.লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী সৈয়দ মশিউর রহমানের সমর্থকদের অব্যাহত হুমকি, ভয়ভীতি এবং একের পর এক হামলার কারণে কোনঠাসা হয়ে পড়েছে। নির্বাচন যেখানে উৎসব মুখর হওয়ার কথা, সেখানে সন্ত্রাসের উৎসব চলছে।

গতকাল রবিবার বেলা ১১ টায় কলাপাড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এমন সব অভিযোগ করেন বিএনপি প্রার্থী গাজী আক্কাস উদ্দিন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ- সেচ্ছাসেবক বিষয় সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী হুমায়ুন সিকদার, পৌর বিএনপির সভাপতি নুর বাহাদুর তালুকদার, যুগ্ম সম্পাদক গাজী মোহাম্মদ ফারুক ও নান্নু মুন্সী প্রমুখ।

লিখিত বক্তব্যে গাজী আক্কাস উদ্দিন বলেন, সর্বশেষ গত ১১ মার্চ প্রচার মাইকের মেশিন ছিনতাই, ১২ মার্চ ৩০-৪০টি মোটর সাইকেলে করে মহড়া দিয়ে আমি প্রার্থীসহ আমার সমর্থকদের গালমন্দ করে হুমকি দিয়ে প্রচারণা থেকে ফিরে আসতে বাধ্য করেছে। এর আগে এ নিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা, কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, নির্বাচন কমিশনকে লিখিতভাবে অন্তত ১০ বারের মত জানানো হয়েছে।

গাজী আক্কাস উদ্দিন আ. লীগ প্রার্থীর প্রতি আহবান জানিয়ে আরও বলেন, আসুন অত্যাচারের পথ পরিহার করে গণতন্ত্রকে লালন করে মানুষের ভালোবাসা অর্জন করি। সম্মান দেখাই ভোটাধিকারের। নিজেকে যাচাই করি জনপ্রিয়তার কষ্টি পাথরে। দেখবেন মানুষের ভালোবাসায় মন ভরে উঠবে।

আ. লীগ মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ মশিউর রহমান এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, অন্যদের যোগসাজসে প্রচার মাইক ছিনতাইয়ের ঘটনাটি সাজানো হয়েছে। আর আমি কোনো মোটর সাইকেল মহড়া দেইনা। আমি বা আমার সমর্থকরা প্রতিপক্ষের সমর্থকদের বাঁধা, হুমকি, ভয়ভীতি দেখাইনা। তিনি আরও বলেন, আমিও চাই মানুষ তাঁর ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে। মানুষ তাঁর পছন্দের প্রার্থীকে বেছে নেবে। এখন আমার বিরুদ্ধে যা বলা হচ্ছে, তা অপপ্রচার ছাড়া আর কিছুই নয়।

টিয়াখালী ইউনিয়নের রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা পশুসম্পদ কর্মকর্তা মো. ইমরুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ প্রার্থীরা দিয়ে থাকে। যদি প্রমান সাপেক্ষে প্রার্থীরা কোনো তথ্য দেয়, তখন আমরা ব্যবস্থা নিতে পারি। ইতিমধ্যে সব অভিযোগের ব্যবস্থা নিতে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বলেছি। তাছাড়া আগামী ১৫ মার্চ জেলা প্রশাসক কলাপাড়া আসবেন। সে সময় প্রার্থীদের নিয়ে সভা করার চিন্তা রয়েছে। আমরা ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করারও চিন্তা করছি। আশা করি যতটুকু সমস্যা আছে তা ঠিক হয়ে যাবে।

কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিএম শাহনেওয়াজ বলেন, সকল অভিযোগ সাধারণ ডায়েরি হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।