কলাপাড়ায় ভূমিহীনদের পূনর্বাসনে সরকারের নেয়া উদ্যোগ ভেস্তে যেতে বসেছে

1

 

গোফরান পলাশ, কলাপাড়া প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ভূমিহীনদের পূনর্বাসনে সরকারের নেয়া উদ্যোগ ভেস্তে যেতে বসেছে। ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় দালাল ও প্রভাবশালীদের আগ্রাসী মনোভাব হেতু অগনিত ভূমিহীন পরিবারের স্বপ্ন এখন ধুলিস্যাৎ হওয়ার পথে।

জানা যায়, উপজেলার লতাচাপলী মৌজার গোড়া আমখোলা গ্রামের ১১৭৪/৬ ও ১২২৮ নম্বর দাগ থেকে দেড় একর কৃষি খাস জমি বন্দোবস্ত পায় ভূমিহীন ছমির মল্লিক। যার বন্দোবস্ত কেস নম্বর ৩১৪কে/৮৯-৯০। দলিল নম্বর ৬৯৭৭, তারিখ-২৩ জানুয়ারি ২০১১। নতুন খতিয়ান নম্বর ২৪৯৬। স্ত্রী ছালেহা খাতুনকে নিয়ে ওই সম্পত্তির একাংশে একখানা ঘর তুলেছিলেন ছমির মল্লিক। জীবনের শেষ বয়সকাল যেন সরকারের দেয়া এ জমিতে নির্বিঘেœ দিনাতিপাত করতে পারেন এমন ভাবনায় ছিলেন এ দম্পতি। কিন্ত প্রভাবশালী আনছার মোল্লা, আলম খা, আসলামসহ ছয় জনে ঘরটি ভেঙ্গে দেয়। বুধবার কলাপাড়া প্রেসক্লাবে উপস্থিত হয়ে কান্না জড়িত কন্ঠে ছমির মল্লিক জানান, ভূমি অফিস থেকে জমি বুঝিয়ে দেয়ার পরে একটি বছর বর্গাচাষীর মাধ্যমে তিনি জমি আবাদ করেছিলেন। আর পারেন নি। জমি বন্ধকী রেখে ব্যাংক থেকে লোনও নিয়েছেন। এখন জমির কাছে গেলে জীবনে মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হয় তাকে। ছমির মল্লিক কোন উপায় না পেয়ে এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ কলাপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যানকে দিয়েছেন। চেয়ারম্যান সালিশে বিষয়টি মিমাংশার জন্য লতাচাপলী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে দিয়েছিলেন। কিন্ত ইউপি চেয়ারম্যান কোন সমাধান দিতে পারেন নি। এ বিষয়ে অভিযুক্ত আনছার মোল্লার কাছে মুঠো ফোনে জানতে চাইলে তিনি জানান, ঘর ভাঙ্গা তো দুরের কথা এই নামে তিনি কাউকে চেনেন না বলে জানান।

এদিকে উপজেলার মহিপুর ইউনিয়নের ২৬ নং জেএল শিববাড়িয়া মৌজায় ১নং খাস খতিয়ানের ২৯৩৫ নং দাগে ১ একর ৫০ শতাংশ জমি ৪৮৭/ কে ১৯৮৯-৯০ নং বন্দোবস্ত কেস মুলে বিপিনপুর গ্রামের মোঃ ছালেক হাওলাদার ও তার স্ত্রী মোসাঃ জয়নব বিবি’র নামে জেলা প্রশাসক বন্দোবস্ত প্রদান করেন। বন্দোবস্ত কেসটি ২০০০ ইং সালের ফেব্রুয়ারী মাসের ২৭ তারিখে ৬৬৮ নং কবুলিয়ত রেজিষ্টিকৃত দলিল মূলে ৩৯৫ নং খতিয়ান ও ২৯৫৩ নং নতুন দাগ খোলা হয়। শর্ত ভঙ্গের কোন কারন ছাড়াই ভূমি বন্দোবস্ত পাওয়ার পর থেকে বন্দোবস্ত বাতিলের জন্য জেলা প্রশাসক, উপজেলা ভূমি অফিস বরাবরে স্থানীয় বিএনপি নেতা মোঃ নোয়াব হাওলাদার, মাহবুব ঘরামী ও শহিদ হাওলাদারের নেতৃত্বে দখলবাজরা একাধিকবার আবেদন করে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়াম্যান ও ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে বন্দোবস্তকৃত জমি নাম মাত্র মূল্যে দলিল করে দিতে বার বার চাপ সৃষ্টি করা সহ শাররীক ও মানসিক ভাবে হয়রানী করে আসছে অসহায় ওই পরিবারটিকে।

এ বিষয়ে উপজেলা ভূমি ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আঃ মোতালেব তালুকদার জানান, বন্দোবস্ত গৃহীতারা আমার কাছে একটি আবেদন করেছেন।