কলাপাড়ায় লবণসহিষ্ণু জাতের পাট চাষে কৃষকের আগ্রহ

1

গোফরান পলাশ, কলাপাড়া: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পতিত জমিতে লবণসহিষ্ণু জাতের পাট চাষে উপকূলীয় এলাকার কৃষকদের মাঝে আগ্রহ বাড়ছে। বর্ধিত জনসংখ্যার খাদ্যের যোগান দিতে কৃষি জমির উপর প্রতিনিয়ত চাপ বাড়ায় সোনালী আঁশ পাটের আবাদ চলে গেছে প্রান্তিক জমিতে। ফলে একসময় বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে পাট অন্যতম ভূমিকা রাখলেও কালক্রমে সেই পাটের চলছে এখন দুর্দিন। তাই পাটের সেই সুদিন ফিরিয়ে আনা আর উন্নত জাতের পাট কী করে অতিদ্রুত কৃষকের কাছে পৌঁছে দেয়া যায় সে লক্ষ্যে সরকার ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে। আর এ নিয়ে নিরলস কাজ করছেন দেশের কৃষি বিজ্ঞানীরা। উদ্ভাবন করেছেন লবণাক্ততা সহনশীল পাটের জাত।

 

একসময় উপজেলার সর্বত্র ব্যাপক পাটের আবাদ হতো। প্রাকৃতিক দুর্যোগে সৃষ্ট ঝড় ও বন্যায় লোনা পানির প্লাবনে জমিতে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় পাটের আবাদ উপযোগিতা হারিয়ে ফেলে। এখন তোষা জাতের ছড়ানো-ছিটানো কিছু পাটের আবাদ হয়। যা শুধু শাক হিসেবে খাওয়ার জন্য স্থানীয় বাজারে বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু বাণিজ্যিকভাবে পাটের আবাদ নেই। অথচ চরাঞ্চলের পতিত লবনাক্ত জমিতে অর্থকরী ফসল পাট আবাদের মাধ্যমে অন্তত: দু’টি ফসল ফলানোর সুযোগ রয়েছে। রয়েছে কৃষকের আর্থিক লাভবান হওয়ার পাশাপাশি ব্যাপকভাবে সোনালী আঁশ পাট আবাদের সম্ভাবনা।

 

জানা যায়, দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় ১৮ টি জেলায় রয়েছে প্রায় ১.০৬ মিলিয়ন হেক্টর পতিত লবনাক্ত জমি। যার মধ্যে উপকূলীয় পটুয়াখালী জেলায় রয়েছে ১,৫৫,১৮০ হেক্টর চরাঞ্চলের লবনাক্ত পতিত জমি। এসব পতিত জমিকে চাষের আওতায় আনতে লবণসহিষ্ণু জাতের পাটের আবাদের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি বছরের এপ্রিল-মে মাসে পরীক্ষামূলকভাবে কলাপাড়া উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ২৫০ চাষীর ২৫ হেক্টর পতিত জমিতে লবণসহিষ্ণু জাতের পাট চাষ করা হয়। কৃষক পর্যায়ে পাটের আবাদের এমন উদ্যোগ নেয়ায় কৃষকের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। কৃষকদের পাট চাষে আগ্রহী করে পতিত জমিকে চাষের আওতায় আনতে ২০০১ সালে কলাপাড়ার পাখিমারায় গড়ে তোলা হয় পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট। কুয়াকাটাগামী মহাসড়ক লাগোয়া প্রায় ১০ একর জমির উপরে প্রতিষ্ঠিত পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের ভেতরে রয়েছে আবাদ করা বিভিন্ন জাতের পাটের ক্ষেত, গবেষণা প্লট, বীজ উদ্ভাবন প্লট, পচন প্রক্রিয়ার চৌবাচ্চা। চলছে গবেষণা কার্যক্রম। পাটকে অন্যান্য ফসলের সাথে অন্তর্ভূক্ত করে উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য একটি উপযোগী শস্যবিন্যাস প্রবর্তন, শীতকালীন সবজির সাথে পাট বীজ উৎপাদন, অন্যান্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ফসলের লবণাক্ত সহিষ্ণু জাত উদ্ভাবন গবেষণা কার্যক্রম চলছে এখানে। এখানে গবেষনা চালিয়ে পাটের উচ্চ লবণাক্ত সহিষ্ণু জাতের (৯ ডেসি চ/স) ও (১৪ ডেসি চ/স) চারটি লাইন উদ্ভাবন করেছেন কৃষিবিদ ড. মাহমুদ আল হোসেন। যা ইতিমধ্যে জাতীয় বীজ বোর্ডের সভায় অনুমোদন পেয়েছে। সফল এই কৃষিবিদ পরীক্ষামূলকভাবে উপকূলীয় এলাকার চাষীদের পতিত জমিতে আবাদ করেছেন তার উদ্ভাবিত জাতের পাট। প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকদের পতিতে জমিতে পাট চাষে উদ্ভুদ্ব করেছেন তিনি। প্রতিকূল আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে মাঠে থেকে করেছেন নিয়মিত তদারকি। তার নিয়মিত তদারকি আর সহযোগিতায় কৃষকরা পেয়েছেন পাট চাষে আশাতিরিক্ত সাফল্য। এখন কৃষকরা জমিকে পতিত না রেখে পাট চাষে অধিক ফলন পাওয়ার ক্ষেত্রে আশাবাদী।