কলাপাড়ায় শিশু শিক্ষার নামে অ্যালফাবেট কিন্ডার গার্ডেন এর বিরুদ্ধে বানিজ্যের অভিযোগ

6

 

কলাপাড়া প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় শিশুদের জন্য মান সম্মত শিক্ষার নামে চলছে কিন্ডার গার্ডেন বানিজ্য। শিশু শিক্ষাকে পূঁজি করে চাকুরী বঞ্চিত কতিপয় বেকার যুবক সরকারের নীতিমালাকে তোয়াক্কা না করে কিংবা কোন রকম অনুমোদন ছাড়াই ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে তুলছে কিন্ডার গার্র্ডেন স্কুল। উপজেলার কলাপাড়া ও কুয়াকাটা পৌরসভা সহ বিভিন্ন ইউনিয়নে রয়েছে প্রায় অর্ধ-শতাধিক কিন্ডার গার্ডেন স্কুল। কিন্ডার গর্ডেন স্কুল এর জন্য কোন সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বই, টিউশন ফি এবং কোচিং ফি’র নামে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এসব কিন্ডার গার্ডেন কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, কলাপাড়া পৌরসভার সামনে বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের বাসার নিচ তলার কয়েকটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে গড়ে  তোলা হয়েছে অ্যালফাবেট কিন্ডার গার্ডেন। এই প্রতিষ্ঠানের নেই কোন খেলার মাঠ। প্লে শ্রেনীর শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হয় মেঝেতে বসিয়ে।  ছোট কক্ষে গাদাগাদি করে দুই শিফটে  নেয়া হচ্ছে ক্লাশ। এরপর আবার রয়েছে কোচিং। সম্প্রতি এ প্রতিষ্ঠানের স্ব-ঘোষিত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা জামান সুজন চারদিন ব্যাপী আনন্দমেলা ও বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার নামে দেড়শত শিশু শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সাড়ে চারশত টাকা করে আদায় করে। অত:পর শিশুদের টাকা দিয়ে নিজের ছবি ও লেখা দিয়ে রঙিন  ফেষ্টুন বানিয়ে কবি পরিচিতির জন্য প্রচারনা করে। এছাড়া বিশ্বকবি, জাতীয় কবি, পল্লী কবি সহ দেশের খ্যাতিমান কবি এবং পাঠ্যপুস্তকের কবিতা ও ছড়াকে পাশ কাটিয়ে তার লেখা ছড়া ও কবিতা আবিৃত্তি প্রতিযোগিতায় জন্য নির্ধারন করে দেয় শিশুদের। জাতীয় পাঠ্য পুস্তক বোর্ড ও বাংলা একাডেমীর অনুমোদনবিহীন এসব কবিতার বই কিনতে বাধ্য করা হয় শিশু শিক্ষার্থীদের এমন অভিযোগ করেছেন একাধিক অবিভাবক। অভিযোগ রয়েছে প্রতিযোগিতার ১ম, ২য় ও তৃতীয় স্থান নির্ধারন করা নিয়েও। তার পছন্দের বিচারক প্যানেলের স্বজন প্রীতির এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ সকল অবিভাবক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অবিভাবক বলেন, কেন এবং কি কারনে স্কুল কর্তৃপক্ষ কোমলমতি শিশুদের উপর স্থানীয় কবিদের ছড়া ও কবিতা চাপিয়ে দিয়ে নিজেদের চরম ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করেছে তার উত্তর জানা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেনীর ছাত্রীর অবিভাবক নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, পুরো প্রতিযোগিতায় বিচার প্রক্রিয়া ছিল স্বজন প্রীতি আর মুখ চিনে খুশী করার নাটক। প্রতিযোগিতার পুরস্কারের ক্রেস্ট এবং ব্যানারে স্কুলের এক শিশুর ছবি দেয়া নিয়ে ক্ষুব্ধ অনেক অবিভাবক।

এ বিষয়ে অ্যালফাবেট কিন্ডার গার্ডেনের প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা বলেন, ’আবৃত্তির কবিতা নির্ধারন, পুরস্কার ক্রয়সহ বিচারক প্যানেল নির্ধারনের সকল প্রক্রিয়া সম্পাদন করেছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক। ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা জামান সুজনের দৃস্টি আকর্ষন করা হলে তিনি বলেন, আপনাদের এত প্রশ্নের ব্যাখ্যা দিতে আমি বাধ্য নই।

কলাপাড়া উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: আরিফুজ্জামান জানান, ’কিন্ডারগার্ডেন শিক্ষা ব্যবস্থা সরকারের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার  গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মত অবস্থা হয়েছে। এগুলো বন্ধের জন্য সরকার উদ্যোগ নিবেন বলে তিনি আশা করছেন।