কলাপাড়ায় হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে ইয়াবা, গাঁজা ও চোলাই মদ

3

গোফরান পলাশ, কলাপাড়া প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কলাপাড়ার ১২টি ইউনিয়ন, দু’টি থানা শহর ও দু’টি পৌর এলাকার হাট-বাজার সহ প্রত্যন্ত জনপদে এখন হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে সর্বনাশা ইয়াবা, গাঁজা ও চোলাই মদ। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জ্ঞাতসারে সকাল থেকে মধ্যরাত অবধি অর্ধ-শতাধিক স্পটে দেদারছে বিক্রী হচ্ছে ইয়াবা, গাঁজা ও চোলাই মদ। এসকল স্পট থেকে লাখ লাখ টাকা আদায় করা হচ্ছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সহ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের নামে। পুলিশ ও র‌্যাব-৮ সদস্যরা মাঝে মধ্যে দু’একটি অভিযান পরিচালনা করলেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের অভিযান পরিচালিত হতে দেখা যায়নি দীর্ঘদিনেও। এছাড়া পুলিশের দুর্বল তদন্ত রিপোর্ট ও স্বাক্ষী দুর্বলতায় অভিযুক্তরা জামিনে বেরিয়ে ফের জড়িয়ে পড়ছে মাদক ব্যবসায়।

 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পুলিশ ও র‌্যাবের পৃথক অভিযানে কলাপাড়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে ১লা জানুয়ারী ২০১৫ থেকে ৩০ জুন ২০১৬ পর্যন্ত ১১০০ পিস ইয়াবা, ৬ কেজি গাঁজা ও ১০ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার হয়। এসময় গ্রেফতার করা হয় ৩৬ জনকে। কলাপাড়া থানায় গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে মোট  ৩৩টি মামলা করা হয়। এসকল মামলার আসামীদের বিচারের জন্য পুলিশ ইতোমধ্যেই আদালতে চার্জ শীট দাখিল করেছে। তন্মধ্যে ৬টি মামলা বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে, ৪টি মামলা বিজ্ঞ দায়রা জজ আদালতে এবং ২৩টি মামলা বিজ্ঞ কলাপাড়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে। অপরদিকে পুলিশের অভিযানে স্বল্প পরিমানে মাদক সহ আটক অর্ধ-শতাধিক মাদক বিক্রেতাকে ভ্রাম্যমান আদালতে সোপর্দ করে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদন্ড সহ আর্থিক দন্ড প্রদান করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত এসকল মাদক বিক্রেতাদের মধ্যে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরাও রয়েছে।

 

সরেজমিনে জানা যায়, ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তির সহায়তায় কলাপাড়ায় মাদকের ভয়াল আগ্রাসন চলছে। কলাপাড়া পৌরশহরের মদিনাবাগ এলাকায় এদের বিক্রেতা হিসাবে কাজ করছে কুলি কালাম, কহিনুর বেগম, দুলু ও বয়াতি কালাম। মহাসড়কে অটো চালক হাসান। টিয়াখালী ইঊনিয়নের হাট খোলা বাজার এলাকায় হাচান মোল্লা। রজপাড়া দুলাল সিকদার। বাদূরতলী কলোনি এলাকায় ভূলি বেগম। চিংগড়িয়া সংলগ্ন টিয়াখালীতে কসাই সালাম। নীলগঞ্জ আবাসনে হামেদ লিটু, রশিদ ও বেল্লাল। কলাপাড়া মহিলা কলেজ রোডে আফজাল, সুবেল ও মুছা প্যাদা। মৎস্যবন্দর আলীপুরে সানু, নুডুলস ইদ্রিস, কানামইয়া। বাবলাতলা  বাজারে হাসিনা বেগম। এছাড়া রাখাইন অধ্যুষিত হাড়িপাড়ার ৭টি স্পট, মধুপাড়ার ৩টি স্পট, পক্ষিয়াপাড়ার ১০টি স্পট, তুলাতলি পাড়ার ৪টি স্পট, কালাচাঁন পাড়ার ৭টি স্পট, মিশ্রী পাড়ার ৩টি স্পট, বেতকাটা পাড়ার ২টি স্পট, সোনা পাড়ার ৭টি স্পট, বৌলতলি পাড়ার ৩টি স্পট, আমখোলা পাড়ার ২০টি স্পট ও থনজু পাড়ার ২টি স্পটে প্রতিদিন সকাল থেকে মধ্যরাত অবধি বিক্রী হচ্ছে চোলাই মদ। দাম তুলনামুলক কম হওয়ায় গাঁজা ও চোলাই মদে আসক্তদের সংখ্যা ক্রমশ: বৃদ্ধি পাচ্ছে। অপরদিকে উঠতি বয়সের ধনাঢ্য যুবকরা আসক্ত হচ্ছে ইয়াবায়। প্রতি পিস ইয়াবা বিক্রী হচ্ছে ২৫০-৪০০ টাকা দরে। মুঠো ফোনে স্পট নির্ধারন করে টিকটিকির উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েই আসক্তদের মাঝে ছাড়া হচ্ছে ইয়াবা। ইয়াবা বিক্রেতারা ধরা পড়লেও গড ফাদাররা বরাবরই থেকে যাচ্ছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। সম্প্রতি মাদক বিক্রীতে বাঁধা দেওয়ায় বালিয়াতলীতে বেল্লাল এবং টিয়াখালীতে জনৈক সোহেল নামের দু’জনকে কুপিয়ে জখম করে মাদক চক্র।

 

এ বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো: রাশেদুজ্জামানের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জনবল সংকট ও যানবাহন সংকট হেতু কোন অভিযান সফল করা যাচ্ছেনা স্বীকার করে এ প্রতিবেদককে বলেন, পটুয়াখালীতে দু’জন পরিদর্শক ও একজন সিপাহী রয়েছে। তিনি বরিশালের দায়িত্ব পালন করছেন এবং অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলা ও পিরোজপুর জেলার। এরমধ্যে মাদক গোয়ান্দা বিভাগের সমগ্র বরিশাল বিভাগের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে তাকে।