কলাপাড়ায় ৫ দফা দাবিতে ক্ষতিগ্রস্থ জমির মালিকদের সাংবাদিক সম্মেলন

0
SAMSUNG CAMERA PICTURES

সোলায়মান পিন্টু,কলাপাড়াঃ পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পায়রা বন্দর, শের-ই-বাংলা নৌ ঘাটি ও কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মানে অধিগ্রহনকৃত জমির মূল্য বর্তমান বাজার দরের সাথে সংগতি রাখা সহ ৫ দফা দাবিতে ক্ষতিগ্রস্থ জমির মালিকরা সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন। মঙ্গলবার দুপুরে কলাপাড়া প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে উপজেলার লালুয়া, ধানখালী, চম্পাপুর, টিয়াখালী, বালিয়াতলী ও ধুলাসারের ক্ষতিগ্রস্থ জমির মালিকদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অধ্যাপক মঞ্জুরুল আলম।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, পায়রা বন্দরকে কেন্দ্র করে যে সব উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহন করা হয়েছে তার জন্য যে পরিমান ভূমি অধিগ্রহন করা হবে সে জমি দিতে এলাকাবসীর প্রথম থেকেই কোন আপত্তি ছিলনা। ইতিমধ্যে নিশানবাড়িয়া মৌজায় কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মানের জন্য অধিগ্রহনকৃত জমির মূল্য নির্ধারন করা হয়েছে এবং অধিগ্রহনকৃত জমির টাকা যে ভাবে প্রদান করা হচ্ছে তা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। বর্তমানে কলাপাড়ার জমির মূল্য ৩ থেকে ৪গুন বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকার যে প্রক্রিয়ায় জমির প্রতি শতাংশ মূল্য নির্ধারন করেছেন তা দিয়ে দেশের কোথাও জমি কিনে ক্ষতিগ্রস্থ জনগন বাড়ি-ঘর নির্মান করে বসবাস করতে পরবে না। এর জন্য এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যে সব ইউনিয়নের জমি অধিগ্রহন করা হয়েছে  তাদের অধিগ্রহনের টাকা তুলতে ও কাগজ পত্র জমা দিতে ৮০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে জেলা শহর পটুয়াখালী যেতে হয় । সেখানে গিয়ে দালালদের খপ্পরে পড়ে এবং এলও অফিসের  কর্মকর্তা/ কর্মচারীদের নানা অনিয়মের কারনে জমির  মূল টাকার অর্ধেক চলে যায়। এছাড়া নিশানবাড়িয়া মৌজায় যে পরিমান জমি অধিগ্রহন করা হয়েছে তার ৯০ ভাগ জমির মালিকরা এখন পর্যন্ত টাকা তুলতে পারে নাই। বর্তমানে ওইসব পরিবার বেড়িবাঁধের বাহিরে মানবেতর জীবন জাপন করছে। এছাড়া অধিগ্রহনকৃত জমির টাকা তারা আদৌ তুলতে পারবে কিনা তা নিয়ে তাদের মধ্যে শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে।

এছাড়া তাদের ৫ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, বর্তমান বাজার দরের সাথে সংহতি রেখে জমির মূল্য নির্ধারন, ক্ষতিগ্রস্থ ভূমির মালিকদের স্বার্থে বিশেষ প্রনোদনা ঘোষনা, জমির মালিকদের টাকা প্রদানের জন্য কলাপাড়ায় এলও অফিসের একটি শাখা স্থাপন, জমির কোন মামলা থাকে তবে কলাপাড়ায় বিশেষ আদালত স্থাপন করে দ্রুত নিস্পতি করে প্রকৃত জমির মালিকে মূল্য প্রদান, অধিগ্রহনের ফলে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার সমূহের পক্ষ থেকে একজন প্রতিনিধি পায়রা বন্দর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সাথে সংযুক্ত করা। সাংবাদিক সম্মেলনে এসময় উপস্থিত ছিলেন, সৈয়দ আকতারুজ্জামান কোক্কা, শওকত হোসেন বিশ্বাস তপন, আলাউদ্দিন মধু, মীর আবদুল বারেক, রাইসুল ইসলাম বিশ্বাস টিপু, ফোরকানপ্যাদা সহ অর্ধ শত ক্ষতিগ্রস্থ মানুষ।