কলাপাড়া প্রাইভেট ডায়গনষ্টিক সেন্টার’র সাথে চিকিৎসকদের হট কানেকশন ॥ রোগীরা বিপাকে

2

গোফরান পলাশ, কলাপাড়া প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সরকারী হাসপাতালের চিকিৎসকদের প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়গনষ্টিক সেন্টার কানেকশনে উপকূলীয় এলাকার সাধারন মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা নিতে এসে আর্থিক ভাবে হয়রানীর শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী এসকল রোগীরা স্বাস্থ্য প্রশাসনকে জানিয়েও  রহস্যজনক কারনে কোন প্রতিকার পাচ্ছেনা।

জানা যায়, উপজেলার মহিপুর ইউনিয়নের নজিবপুর গ্রামের গৃহবধূ মাকসুদা বেগম ভীষন পেটে ব্যথা নিয়ে কলাপাড়া হাসপাতালে আসেন ফ্রি চিকিৎসা নিতে। হাসপাতালের বহি:র্বিভাগ থেকে লাইনে দাড়িয়ে ৫টাকার টিকিট নিয়ে সিরিয়াল পান ডা: জেএইচ খান লেলীনের। সকাল থেকে দাড়িয়ে থেকে দুপুরে দেখা পান ডাক্তার সাহেবের। অত:পর  ডাক্তারের কক্ষে প্রবেশের পর রোগীর কথা ভালো ভাবে না শুনেই তাকে একটি স্লিপ ধরিয়ে দিয়ে এশিয়া ডায়গনষ্টিক সেন্টার থেকে টেষ্ট গুলো করিয়ে রিপোর্ট নিয়ে আসতে বলেন ডাক্তার লেলীন। হাসপাতালের গেট থেকে বের হওয়ার পর সে খপ্পড়ে পড়ে যমুনা ডায়গনষ্টিক সেন্টারের দালাল চক্রের। তাকে টেনে-হিঁচড়ে তোলা হয় যমুনা ডায়গনষ্টিক সেন্টারে। সেখানে পরীক্ষা গুলো করার পর হাতে ধরিয়ে দেয়া হয় মোটা অংকের টাকার বিল। এরপর পুরো টাকা পরিশোধ করতে না পারায় তাকে দেয়া হয়নি রিপোর্ট। দু’দিন পর সহায়-সম্বল বিক্রী করে ডায়গনষ্টিক সেন্টার থেকে রিপোর্ট নিয়ে ডা: লেলীনের কাছে যেতেই পছন্দের ল্যাবে না যাওয়ায় তিনি ছুঁড়ে ফেলে দেন রিপোর্টের কাগজ। অবশেষে অনেক মিনতির পর মেলে প্রেসক্রিপশন। বুকে জ্বালা ও পেটে ব্যাথার জন্য প্রতিদিন দু’টো এন্টিবায়োটিক সহ মেলে কিছ্ ুঔষধের নাম। এভাবে চলে সাতদিন। কিছুতেই কাজ না হওয়ায় ফের হাসপাতালে আসেন মাকসুদা। এবার তাকে ধরিয়ে দেয়া হয় ফের টেষ্টের স্লিপ। রিপোর্ট নিয়ে আসার পর ভর্তি রাখা হয় হাসপাতালে। তিনদিন হাসপাতালে অবস্থানকালীন সময়ে তাকে এক বেলার জন্যও হাসপাতাল থেকে খাবার  দেয়া হয়নি। এমনকি ডাক্তার সাহেবও তাকে একবার হাসপাতালে দেখতে যাননি এমন অভিযোগ মাকসুদার। শেষে নিরুপায় হয়ে বেঁচে থাকার অদম্য ইচ্ছায় বরিশাল মেডিকেলে গিয়ে মাকসুদা জানতে পারে তার পিত্তে পাথর এর কথা। জানতে পারে অপারেশন করে পাথর অপসারনের পর সুস্থ্য হয়ে উঠবে সে। অপরদিকে সোমবার বলো ১১টার দিকে নীলগঞ্জ গ্রামের ইউসুফ হাওলাদার তার এক স্বজনকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এনে বিপাকে পড়েন। ইউসুফ হাওলাদার জানান, অসহায় ভাবীকে নিয়ে কলাপাড়া হাসপাতালে ফ্রি চকিৎসার জন্য আসি। ৫ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে ডাক্তার লেলীনের রুমে যাই। তারপর ডাক্তার আমাকে লাইফ কেয়ার ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে পাঠিয়ে পরীক্ষা করে রিপোর্ট নিয়ে আসতে বলেন। ওই ল্যাবে গিয়ে দেখি টেষ্ট গুলো করতে ১৮০০/ টাকা লাগবে। এরপর একই টেষ্ট অন্য ল্যাবে গিয়ে ৯০০ টাকায় করিয়ে রিপোর্ট নিয়ে তার কাছে যেতেই তিনি ছুঁড়ে ফেলে দেন রিপোর্টের কাগজ। একই অবস্থা হাসপাতালের বহি:র্বিভাগের অন্য চিকিৎসকদের। তাদের সাথেও রয়েছে কোন না কোন ডায়গনষ্টিক সেন্টারের কানেকশন। এমনকি ইনডোর বিভাগের ব্রাদার, ষ্টাফ নার্স, আয়া, বুয়া, বাবুর্চিদের সাথে বখশিস ছাড়া কোন কথা বললেই তারা রুঢ় আচরন করেন রোগীদের সাথে।

এ বিষয়ে ডা: জেএইচ খান লেলীনের সাথে কথা বললে তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।

কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: আবদুল মান্নান জানান, হাসপাতালে ৩১ জন রোগীর খাবারের বরাদ্দ থাকায় এর বেশী খাবার সরবরাহ করা সম্ভব নয়। এছাড়া সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২:৩০ পর্যন্ত চিকিৎসকরা বহি:র্বিভাগে চিকিৎসা করে থাকেন। হাসপাতালে মেশিনারীজ ও টেকনিশিয়ানদের শূন্যতার কারনে রোগীদের চিকিৎসার স্বার্থে চিকিৎসকরা ভালো ডায়গনষ্টিক সেন্টারে গিয়ে ডিজিটাল মেশিনে পরীক্ষা করে রিপোর্ট গ্রহনের পরামর্শ দিয়ে থাকেন বলে তিনি জানান।