কলাপাড়া সাব রেজিস্ট্রি অফিসে সিটিজেন চার্টার

30

সোলায়মান পিন্টু,কলাপাড়া প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর কলাপাড়া সাব রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে, এমনকি ভিতরে টানিয়ে দেয়া হয়েছে বিভিন্ন সতর্কবানী ও দলিল সম্পাদনের বিভিন্ন তথ্যাদি। যেখানে উল্লেখ রয়েছে মৌজার শ্রেনী অনুযায়ী জমির সরকারী মূল্য তালিকা, শ্রেনী ভেদে দলিলের খরচ, দলিল বিক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজ পত্রের বিবরন। রয়েছে উপজেলার সকল দলিল লেখকদের তালিকা। সাব-রেজিস্ট্রি অফিস মানেই ভোগান্তি। জমির ক্রেতা-বিক্রেতাদের এমন ধারনাকে পাল্টে দিতেই এ উদ্যোগ।

জমির ক্রেতা কিংবা বিক্রেতার দলিল সম্পাদনের অজানা সব তথ্য প্রচারের ফলে সাধারন মানুষের ভোগান্তি এবং প্রতারিত হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে আসবে বলে মনে করেন কলাপাড়া উপজেলা সাব-রেজিস্টার ফজলে রাব্বীর। তিনি আরো জানান, জমির ক্রেতা কিংবা বিক্রেতারা একটু সচেতন হলেই তাদের ভোগান্তি অনেকাংশেই কমে আসবে। ক্রেতা-বিক্রেতারা সরাসরি আফিসে এসে জেনে নিতে পারে শ্রেণী এবং মৌজা অনুযায়ী দলিল সম্পাদনের প্রকৃত খরচ কত। কি ধরনের কাগজপত্র দলিল সম্পাদনে প্রয়োজন। অফিসের সামনে রাখা হয়েছে অভিযোগ বাক্স। আয়োজন করা হয়েছে প্রতিদিন গন শুনানীর।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কলাপাড়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে শোভা পাচ্ছে বিভিন্ন সিটিজের চার্টারের বড় বড় ব্যানার। এসময় বেশ কয়েকজন জমির ক্রেতা-বিক্রেতা জানান, বেশ ভাল একটি উদ্যোগ। তবে এই পদ্ধতি আরও আগে করা উচিৎ ছিল।  দলিল সম্পাদন করার পূর্বে যদি এসব তথ্য জেনে কাজ করা যায় তবে অনেক ক্ষেত্রেই লাভবান হবে সংশ্লিস্টরা।

আবার অনেক ভূক্তভোগী বলেন, আগামী এক ফেব্রুয়ারী দুদকের গনশুনানী হবে, তাই তরিঘড়ি করে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দুদকের গনশুনানী শেষ হওয়ার পর আবার পূর্বের চরিত্রে ফিরে যাবে সাব-রেজিষ্ট্রি অফিস।

তবে জমির ক্রেতা-বিক্রেতারা বলেন, অভিযোগ বাক্সের অভিযোগ যাতে বাক্স বন্দি হয়ে না থাকে সে বিষয়ে উদ্যোগী হতে হবে অফিস কর্তৃপক্ষকেই। অবশ্য এ বিষয়ে সাব রেজিস্টার ফজলে রাব্বী জানান, যতদ্রুত সম্ভব তদন্ত করে অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। বেশ কয়েকজন দলিল লেখকের শিক্ষা সনদ জালিয়াতির অভিযোগ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, এমন একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে দেখে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।