কিশোরীকে গর্ভপাতের ওষুধ সেবন করায় গুরুতর অসুস্থ

3

গোফরান পলাশ, কলাপাড়া প্রতিনিধি: পটুয়াখালীল কলাপাড়ায় ভয় দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করার ফলে গর্ভবতী হয়ে পড়া কিশোরী রেমিজা (১৪) কে গর্ভপাতের ওষুধ খাইয়ে দেয়ায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরনে এখন গুরুতর অবস্থায় সে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে । পুলিশ এ ঘটনায় অভিযুক্ত কাকলী বেগমকে সোমবার রাতে গ্রেফতার করেছে। অভিযুক্ত মুল আসামি পিয়াস ও তার বাবা ফারুক হাওলাদার পলাতক রয়েছে। তিনজনকে আসামি করে   সোমবার রাতে কলাপাড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

কলাপাড়া থানার ওসি জিএম শাহনেওয়াজ জানান, কাকলি বেগম রেমিজাকে ওষুধ খাইয়েছিল। ভিক্টিম ও আসামিদের বাড়ি পূর্ব মধুখালী গ্রামে। বর্তমানে রক্তশুন্যতায় ভুগছে কিশোরী রেমিজা। চিকিৎসক কামরুল ইসলাম জানান, রেমিজাকে রক্ত দেয়া প্রয়োজন। প্রয়োজন তার যথাযথ চিকিৎসার। তবে তারা রেমিজাকে যতদুর সম্ভব চিকিৎসার ব্যবস্থা করছেন।

জানা গেছে, দুই বছর বয়সে রেমিজার বাবা মোতালেব মারা গেছেন। মা মাহিনুর অন্যত্র বিয়ে করেছেন। নিরুপায় হয়ে পুর্বমধুখালী গ্রামের ফরিদ হাওলাদারের বাড়িতে ঝিএর কাজ করছিল রেমিজা। চাকরির সুবাদে ফরিদ ঢাকায় থাকেন। একই বাড়িতে বসবাসরত ফরিদের ভাই ফারুক হাওলাদারের ছেলে পিয়াস রেমিজার এমন সর্বনাশ করে বলে রেমিজা ও তার মায়ের অভিযোগ। রেমিজার গর্ভে সন্তানের অস্তিত্ত্বের টের পেয়ে পিয়াসের মা কাকলি বেগম ভিটামিনের ওষুধের কথা বলে রেমিজাকে গর্ভপাতের ওষুধ খাওয়ায়। চার/পাঁচ দিন আগের কথা। ২৩ জুলাই রেমিজার রক্তক্ষরন শুরু হয়। তার অবস্থার অবনতি ঘটলে ২৪ জুলাই সন্ধ্যায় তাকে কলাপাড়া হাসপাতালে নিয়ে আসেন কাকলি বেগম। ২৫ জুলাই রেমিজাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সোমবার রাতে রেমিজা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে থানা পুলিশকে খবর দেয়া হয়। বর্তমানে রেমিজা হাসপাতালের প্রসুতি বিভাগের ২০৫ নম্বর কেবিনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে রেমিজার এখন যথাযথ চিকিৎসার পাশাপাশি সকল ধরনের সহায়তার প্রয়োজন।

এদিকে গৃহকর্তা ফরিদ দাবি করেন, রেমিজা ও তার মা মিথ্যা কথা বলছে। তাদেরকে হয়রানি করতে এসব বলে বেড়াচ্ছে।