কুকুয়া খালের সেতুটি ধসে ১০ গ্রামের সড়ক যোগাযোগ  বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে

5

 

আমতলী  প্রতিনিধি ঃ আমতলীর কুকুয়া খালের অমড়া গাছিয়া নাম স্থানের সেতুটি যে কোন ধসে কুকুয়া চাওরা ও গুলিশাখালীসহ ৩ ইউনিয়নের ১০ গ্রামের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। বৃহস্পতিবার সকালে একটি ই্ট বোঝাই ট্রলি সেতুর উপর দিয়ে যাওয়ার সময় সেতুটি আকস্মিক দেবে যায়।

আমতলী উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ সালে ৮০ লাখ টাকা ব্যায়ে কুকুয়া, চাওরা ও গুলিশাখথালী ইউনিয়নের ১০ গ্রামের মানুষের চলাচলের সুবিদার্থে  কুকুয়া খালের উপর আমড়াগাছিয়া নামক স্থানে একটি লোহার সেতু নির্মান করা হয়। সেতুটি নির্মানের পর আর কোন সংস্কার না করায় দ্রুত বৃদ্ধ মানুষের দাঁতের মত নরবড়ে হয়ে যায়। এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে ইট বোঝাই একটি ট্রলি সেতুটি পার হওয়ার সময় ট্রলি সহ আকস্মিক সেতুর মাঝ খান দিয়ে প্রায় ২০ মিটার দেবে যায়। ট্রলিটি কোন রকম দেবে যাওয়া যায়গা থেকে উঠতে পারলেও বর্তমানে সকল ধরনের যান বাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। সেতুটির এ অবস্থা হওয়ায় সবচেয়ে বেশী অসুবিধায় পড়েছে গুলিশাখালী ইউনিয়নবাসী। কেননা তাদের উপজেলা সদরে আসতে এবং গোছখালী, বাইনবুনিয়া, খেকুয়ানী, ডালাচাড়া গ্রামে চলাচলসহ ইউনিয়ন পরিষদে যেতে এই সেতু পার হয়ে যেতে হয়। বর্তমানে যান বাহন চলাচল বন্ধ থাকায় প্রায় ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার রাস্তা পায় হেটে উল্লেখিত গ্রামের মানুষের  চলাচল করতে হয়। এছাড়া কুকুয়া ইউনিয়নের কালিপুরা, রহমতপুর, সাহেব বাড়ি, কালিপুরা আমরাগাছিয়া ও চাওরা ইউনিয়নের উত্তর ঘটখালী  গ্রামের সাথে এই সেতুর সংযোগ রয়েছে। এসকল গ্রামের শত শত মানুষ প্রতিদিন এই সেতু পার হয়ে এক ইউনিয়ন থেকে অন্য ইউনিয়নে চলাচল করে। বর্তমানে সেতুটি ধসে পরার আশঙ্কায় এবং সেতু দিয়ে যান বাহন চলাচল বন্ধ থাকায় প্রতিদিন শত শত মানুষ ভোগান্তি করে চলাচল করছে। খেকুয়ানি গুচ্ছ গ্রামের ষাটোর্ধ আনছার প্যাদা বলেন, সেতুটি ভাইঙ্গা গেলে  মোগো মরন দশা ছাড়া উপায় নাই। মোরা ক্যাম্মে এই খাল পার অইয়া চলমু। আমড়াগাছিয়া বাজারের প্রতিবন্ধী মতিন বলেন, মুই হুইল চেয়ার লইয়া সেতু পার অইতাম এহন ক্যাম্মে খাল পার অমু। গুলিশাখালী ইউপি চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে সেতুটি আকস্মিক দেবে যায়। বর্তমানে যে অবস্থা তাতে যে কোন সময় সেতুটি ধসে ৩ইউনিয়নের ১০ গ্রামের মানুষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে তাই সেতুটি দ্রুত জনসার্থে নতুন করে নির্মান করা প্রয়োজন। কুকুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যার বোরহান উদ্দিন আহম্মে মাসুম তালুকদার বলেন, কুকুয়া খালের সেতুটি অত্যন্ত গুরুত্ব পূর্ন। প্রতিদিন এই সেতু পার হয়ে শত শত লেঅক চলাচল করে। তাই এটি সংস্কার প্রয়োজন। আমতলী উপজেলা এরজিইডির প্রকৌশলী মো: নজরুল ইসলাম বলেন, সেতুটি সংস্কারের জন্য প্রকল্প জমা দেয়া হয়েছে বরাদ্দ পাওয়া গেলে কাজ শুরু করা হবে।