কুয়াকাটার সমুদ্র সৈকত লন্ড ভন্ড

4

গোফরান পলাশ, কলাপাড়া প্রতিনিধি: সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত দর্শনের জন্য খ্যাত পর্যটন নগরী কুয়াকাটার সৈকত এখন লন্ড ভন্ড। সমুদ্রের বিক্ষুব্দ ঢেউয়ের তান্ডবে ক্রমশ: ছোট হয়ে আসছে কুয়াকাটার সৈকত। এছাড়া অমাবস্যার প্রভাবে অস্বাভাবিক জোয়ারের প্রভাবে সৈকতের বালু সরে গিয়ে সংরক্ষিত সবুজ বনাঞ্চলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে।

দেখা যায়, ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর পর অমাবস্যার প্রভাবে গত কয়েক দিনের বিক্ষুদ্ধ সাগরের  ঢেউয়ের তান্ডবে সৈকতের জিড় পয়েন্টের পূর্ব দিকে অসংখ্য গাছ বালু সরে উপড়ে  গেছে। কুয়াকাটার জাতীয় উদ্যানের ঝাউ গাছ গুলো ঢেউয়ের তান্ডবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। অব্যাহত ভাঙ্গনের ফলে ব্যবসায়িরা তাদের ঝিনুক ষ্টল গুলো সরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছে। গত কয়েক বছর ধরে একই অবস্থা চললেও সৈকত রক্ষায়  কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি অদ্যবধি।

জানা যায়, ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সৈকতের একই স্থানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের বিরল দৃশ্য অবলোকন করার জন্য শীত, গ্রীস্ম ও বর্ষা সব ঋতুতেই দেশী-বিদেশী পর্যটকদের পদভারে মুখরিত থাকে কুয়াকাটা। কিন্তু বিক্ষুব্দ ঢেউয়ের তান্ডবে কুয়াকাটার মূল রক্ষাবাঁধটি এখন চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

কুয়াকাটা প্রেস ক্লাবের সভাপতি নাসির উদ্দীন বিপ্লব জানান, সৈকতের এখন বেহাল দশা। বর্ষা মৌসুমে কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগ এলে ভাঙ্গনের ব্যাপকতা আরও বৃদ্ধি পায়। দিন দিন পর্যটকদের বিনোদন স্পট গুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

মহিপুর বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা এস এম শামছুদ্দোহা জানান, অস্বাভাবিক জোয়ারে ঝাউ বাগানের বেশ ক্ষতি সাধিত হয়েছে। তবে কয়টি গাছ উপড়ে পড়েছে গননা না করে বলা যাচ্ছেনা। এজন্য স্থানীয় বিট কর্মকর্তাকে তালিকা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র আব্দুল বারেক মোল্লা জানান, সাগরের অব্যাহত ঢেউয়ের তান্ডবে কুয়াকাটা সৈকত এখন বিলীন হওয়ার পথে। সৈকত রক্ষায় তিনি মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার আসু হস্থক্ষেপ কমনা করেছেন বলে জানান।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কলাপাড়া অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল খায়ের জানান, কুয়াকাটার সৈকত রক্ষায় একটি ডিজাইন করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় এ ডিজাইনের কাজ পরীক্ষা মুলক ভাবে করা হবে

বলে তিনি জানান।