কুয়াকাটায় চীফ হুইপের নামে সাইন বোর্ড টানিয়ে জমি দখলের অভিযোগ

5

pic-2গোফরান পলাশ, কলাপাড়া : জাতীয় সংসদের মাননীয় চীফ হুইপ আসম ফিরোজের নামে বায়না সুত্রে মালিক সাইন বোর্ড টাঙিয়ে এবার কুয়াকাটায় কয়েক কোটি টাকার জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। পর্যটন নগরী কুয়াকাটায় প্রতিনিয়ত জমি জমার কাগজপত্রের ফাঁক ফোকর বের করে নামে বেনামে দখল বানিজ্য চলে আসছে বীর দর্পে। প্রশাসনও পড়েছে বেকায়দায়। এসব দখল বানিজ্য নিয়ে যখন কোন হাঙ্গামা বাধে তখন ভিআইপিদের ফোন আসে পক্ষে বিপক্ষের তদ্বির নিয়ে। সংগত কারনে এসব দখল বানিজ্যের বিরুদ্ধে কোন আইনী এ্যাকশনে যেতে পারছে না স্থানীয় প্রশাসন।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাদেকুর রহমান সরকার নামে মাননীয় হুইপের ভাগ্নে ৬৬ শতাংশ জমি ক্রয় ও বায়না সুত্রে মালিকানা দাবি করলেও প্রায় ৫ একর জমি দখলে নিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের কোন অনুমতি ছাড়াই বাউন্ডারী ওয়াল নির্মান করছেন। পর্যটন নগরী কুয়াকাটায় জাতীয় সংসদের চীফ হুইপের নামে সাইন বোর্ড টাঙিয়ে জমি দখলের খবরে কুয়াকাটায় এখন চাঞ্চ্যল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জনমনে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।

 

তবে হুইপের ভাগ্নে মোঃ সাদেকুর রহমান সরকার জমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রায় ৮ বছর পূর্বে নভোদয় হাউজিংয়ের সাগর নীড় প্রকল্পের কাছ থেকে জমি ক্রয় করেছেন তারা। আমরা কয়েকজন মিলে একটি সমিতি করেছি, ওই সমিতির নামে জমি কিনেছি, মামা (চীপ হুইপ) সমিতির সদস্য, তাই মামার নামে সাইন বোর্ড দিয়েছি।

 

জানা যায়, কুয়াকাটা দাখিল মাদ্রাসা ও মীরা বাড়ি সংলগ্ন লতাচাপলী মৌজার ২৭৯৯ নং খতিয়ানের ৫১২৬ নং দাগে এবং এস এ ১৪৭ নং,২২০ ও ১৩৬ নং খতিয়ানের প্রায় ২৪ একর জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত দ্বন্দ্ব চলে আসছে। এ জমির মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলাও রয়েছে। নভোদয় নামক ওই হাউজিং কোম্পানী ২০১০ইং সালে কাগজপত্রে ত্রুটি থাকায় ওই জমি নাম মাত্র মুল্যে কিনে “সাগর নীড় প্রকল্প” নামে প্ল¬ট তৈরী করে তা গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করে দিয়ে প্ল¬ট বুঝিয়ে দেন গ্রাহকদের। কিন্তু জমির মালিকানার কাগজ পত্র নিয়ে ওই খতিয়ানের প্রায় শতাধিক শরিকরা তাদের জমি বুঝে নিতে আসলেও প্রভাবশালীদের চাপের মূখে ব্যর্থ হয় জমির বুঝ নিতে। এসকল ওয়ারিশদের মধ্যে অনেকেই কাগজ পত্র নিয়ে জমির বুঝ পেতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। আদালত তাদের পক্ষে রায় দিলে নভোদয় হাউজিং কর্তৃপক্ষ ও গ্রাহকরা পক্ষ হয়ে আবার আদালতে আপিল করেন। আবার কেউ কেউ জমির কাগজপত্র অনুযায়ী জেলা ও উপজেলা লেভেলের প্রভাবশালী নেতাদের কাছে বিক্রি করে দেয়। ওই সকল প্রভাবশালী ক্রেতারা জমির মালিকদের নিয়ে কয়েকটি প্ল¬ট দখলে নিয়ে সাইন বোর্ড টাঙিয়ে দেয়। একই জমি দখল পাল্টা দখলের কারনে কুয়াকাটায় এখন আতংক দেখা দিয়েছে। সাগর নীড় প্রকল্পের কাছ থেকে প্ল¬ট কেনা মালিকরা পড়েছেন বিপাকে।

 

ভুক্তভোগি বাচ্চু শেখ গংরা এ প্রসংগে অভিযোগ করে বলেন,২৭৯৯ খতিয়ানের ৫১২৬ নং দাগে মোকসেদ মূন্সী গংদের কাছ থেকে দেড় একর জমি ক্রয় করে পাকা স্থাপনা তৈরী করে তারা ভোগদখল করে আসছিলো। হুইপের ভাগ্নে সাদেকুর রহমান সরকার সাগর নীড় প্রকল্পের কাছ থেকে ৬৬শতাংশ জমি ক্রয় করে, যার কাগজপত্র সঠিক নয় এবং ক্রয় কৃত জমি তার দখলে থাকলেও বর্তমানে তিনি মাননীয় চীফ হুইপ সহ আরো ৫ জনের নামে ৩ টি বায়না সুত্রে সাইন বোর্ড টাঙিয়ে তাদের ভোগদখলীয় জমি সহ প্রায় ৫ একর জমি দখলে নেয়। বাচ্চু শেখ গংরা আরো দাবি করেন, চীফ হুইপের ভাগ্নে তাদেরকে নানা রকম ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।

 

সাগর নীড় প্রকল্পের প্রকল্প কর্মকর্তা মোঃ আলতাফ হোসেন দাবি করেন, তাদের জমির কাগজপত্র সঠিক আছে। যারা জমির মালিকানা দাবি করে মামলা করেছেন তারা কোন জমি পাবে না। আলতাফ হোসেন উল্টো অভিযোগ করে এলন, তাদের জমি ভুয়া মালিকানা দাবি করে দখলের পায়তারা চালাচ্ছে একটি চক্র।

 

এ বিষয়ে কুয়াকাটা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই সঞ্জয় মন্ডল জানান, কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজিজুর রহমানের নির্দেশ ক্রমে বিরোধীয় ওই জমিতে চলমান বাউন্ডারী ওয়ালের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দুই পক্ষের কাগজপত্র পর্যালোচনা করে পরবর্তীতে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

 

এ বিষয়ে জাতীয় সংসদের মাননীয় চীফ হুইপ আ স ম ফিরোজ (এমপি) তার নামে সাইন বোর্ড টানানোর সত্যতা স্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, আমার আপন ভাগিনা কুয়াকাটায় ৮/১০ বছর আগে জমি কিনেছেন। সে কোন জমি জবর দখল করে নাই। উল্টো স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ আমার ভাগিনার ক্রয়কৃত জমি বার বার দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, জমির দাম বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় কতিপয় ভূমি দখলবাজরা পটুয়াখালী ও বরগুনার লোকজনদের মালিক সাজিয়ে আদালতে মামলা করে তার ভাগিনাকে হয়রানী করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে দেড় একর জমি কিনে প্রায় ৫ একর জমি দখলের বিষয়ে তিনি বলেন, কাগজপত্র দেখে স্থানীয় ভাবে ফয়সালা করার জন্য তিনি বলে দিয়েছেন।