কুয়াকাটায় জমির মালিক ও বিনিয়োগকারীদের মানববন্ধন

2

মোঃ মনিরুল ইসলাম,মহিপুর প্রতিনিধি ঃ পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা ও পায়রা সমুদ্র বন্দর নির্মানের জন্য জমি অধিগ্রহন প্রক্রিয়া দীর্ঘ পাঁচ বছরেও কোন সুরাহা না হওয়া এবং প্রকল্প এলাকার জমি ক্রয় বিক্রয় ও স্থাপনা নির্মানে কর্তৃপক্ষের পারমিশন জটিলতার নিরসনের দাবীতে কলাপাড়া উপজেলা দলিল লেখক সমিতির উদ্যোগে সোমবার (২৮নভেম্বর) সকাল ১০টায় কুয়াকাটায় মানববন্ধন কর্মসুচী পালিত হয়েছে। এ মানববন্ধন কর্মসুচীতে কুয়াকাটা পৌর মেয়র,কাউন্সিলর,বিনিয়োগকারী, কলাপাড়া দলিল লেখক সমিতি,আবাসন কোম্পাণী ও জমির মালিকসহ পাঁচ শতাধিক মানুষ অংশ গ্রহন করেন।

মানববন্ধনকালে ভুক্তভোগিরা জানান, পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার ৪টি মৌজায় প্রায় ২৬ হাজার একর জমি এবং পায়রা বন্ধরের জন্য অধিগ্রহনকৃত জমি মাষ্টারপ্লান ও পারমিশনের নামে হয়রানী এবং জমি বেচাকেনায় নিষেধাজ্ঞার কারনে পর্যটন নগরী কুয়াকাটার উন্নয়ন এখন মুখথুবরে পরেছে। বিনিয়োগকারীরা তাদের ব্যবসা বানিজ্য গুটিয়ে চলে যাচ্ছে। জমির মালিকরা জমি বেচাকেনা না করতে পারায় ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া ও চিকিৎসা করাতে পারছেন না টাকার অভাবে। মাষ্টারপ্লানের নামে আবাসন ব্যবসায়িদের নিবন্ধন না দেয়ার কারনে আবাসনখাতে বিনিয়োগ এখন শুণ্যের কোঠায় নেমে এসেছে। অপরদিকে জমি বেচাকেনা না হওয়ায় সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব। সব মিলিয়ে কুয়াকাটাকে নিয়ে সরকারের মহা-উন্নয়ন পরিকল্পণার নামে ভুমি প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নানা হয়রানীর কারনে দিশেহারা হয়ে পরেছেন বিনিয়োগকারী ও এলাকাবাসীরা। তাই তারা মাষ্টারপ্লান দ্রুত বাস্তবায়ন ও পারমিশন জটিলতার সমাধানের লক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

উল্লেখ্য বর্তমান সরকার ২০১২ সালে কুয়াকাটা পর্যটন উন্নয়ন ও পরিকল্পিত নগরায়নের জন্য একটি মহা-পরিকল্পনা হাতে নেয়। এ প্রকল্পের কাজ সুষ্ঠু ভাবে পরিচালনার জন্য ২০/০৫/২০১২ তারিখে প্রধান মন্ত্রীর কার্যালয়ের তৎকালীন সিনিয়র সচিব জনাব ওয়াহিদুজ্জমান মোল্লা স্বাক্ষরিত ১১৯ নং স্মাকের একটি পত্রে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াটাকার ৪টি মৌজা লতাচাপলী, গঙ্গামতি, চরচাপলী ও কাউয়ার চর এলাকার ২৬৬৯ একর জমি ক্রয় বিক্রয় ও কোনরূপ স্থাপনা নির্মানের জন্য প্রস্তাবিত মহাপরিকল্পনা প্রজ্ঞাপন বা সেশে স্বরক প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত পটুয়াখালী জেলা প্রসাশকের অনুমোদন নেয়ার জন্য বলা হয়। এরপর থেকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কয়াকাটার ৪টি মৌজার প্রায় ৪৫ হাজার মানুষ পারমিশন জটিলতার কারনে চরমভোগান্তিতে পরেন। একশ্রেনীর অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীদের বাড়তি আয়ের অঘোষিত বানিজ্যে পরিমত হয়। এরই ধারা বাহিকতায় ৩০/১১/২০১৩ ইং তারিখে ১০.২৭৯ একর জমি নিয়ে পর্যটন সংরক্ষিত অঞ্চল ঘোষনা করা হয়। পরবর্তীতে ৪/১২/২০১৪ ইং তারিখে প্রস্তাবিত কুয়াকাটা পর্যটন মহা পরিকল্পনার পূর্ব ঘোষিত গেজেট বা প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়। গত ২০/০৫/২০১২ তারিখের ১১৯ নং স্মারকের চিঠির আলোকে গেজেট প্রকাশের পূর্ব পযন্ত জেলা প্রশাসনের অনুমোদন নেয়ার কথা থাকলেও অদ্য পর্যন্ত এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের দীর্ঘ সূত্রিতা ও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা না থাকায় এখনও ভুক্তভোগীদের জমি রেজিষ্ট্রেশন ক্রয় বিক্রয় ও স্থাপনা নির্মানের জন্য প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ধর্না দিতে বাধ্য হচ্ছে। এ সুযোগ এক শ্রেনীর কর্মকর্তা কর্মচারীরা প্রতিটি অনুমতিপত্রের বিপরিতে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

এ বিষয় কুয়াকাটা পৌর মেয়র আঃ বারেক মোল্লা সাংবাদিকদের বলেন,একজন মানুষ যখন তার দেনা শোধ ও ব্যবসা বানিজ্য সহ বিভিন্ন কাজে আর্থিক সংকটে পরেন, তখন একান্ত জরুরী প্রয়োজনে তার মৌলিক অধিকার জমি বা স্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে তা পুরনের চেষ্টা করে। কিন্তু বর্তমান ভুমি জটিলতার কারনে উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীর অপার সম্ভাবনায় পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার হাজার হাজার মানুষ তার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অপর দিকে কলাপাড়ার রাসনাবাদ চ্যানেল তীরবর্তী টিয়াখালী সহ ১১টি মৌজার জমির উপর নির্মিত হচ্ছে পায়রা সমুদ্র বন্দর ও তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। উন্নয়ন কার্যক্রমের জন্য হাজার হাজার একর ফসলি জমি, বাড়ীঘর, মৎস খামার, বাগান বাড়ী অধিগ্রহন করার আবশ্যকতা দেখা দেয়ায় সংশ্লিষ্ট এলাকার জমি ক্রয় বিক্রয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেয়ার জন্য বলা হলে বর্তমানে এলাকার চরম হাতাশা বিরহ করছে। সেখানেও জমি বেচাকেনায় সৃষ্টি হচ্ছে নানা জটিলতা। পৌর মেয়র সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে মাষ্টারপ্লান দ্রুত বাস্তবায়ন এবং জমি বেচাকেনায় পারমিশনের নামে ভুমি প্রশাসনের হয়রানী বন্ধের দাবী জানান ।