কুয়াকাটায় দুই রাখাইন পরিবারকে হুমকি

1

কুয়াকাটা প্রতিনিধি ঃ কুয়াকাটা লতাচাপলী ইউনিয়নে সংখ্যালঘু রাখাইন মংখেচিং মাতুব্বর ও মংচাচিংসহ তাদের দুই পরিবারের প্রায় চার একর জমির ওপর লোভ পড়েছে স্থানীয় একটি ভূমিদস্যু চক্রের। জমি দখলে ইতোমধ্যে এক দফা হামলা চালানো হয়েছে। এখন হুমকি দেয়া হচ্ছে বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ করে দেশছাড়া করতে। এ পর্যন্ত তিন দফা হুমকি দেয়া হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে এখন পর্যন্ত জমি দখল করতে পারেনি। তবে সন্ত্রস্ত অবস্থায় দুই পরিবারের লোকজন বাড়িতে অবস্থান করছে। জমিজমাসহ জান-মালের নিরাপত্তা চেয়ে এ দুই পরিবার প্রশাসনের কাছে আবেদন করলে সেখান থেকে এর বিস্তারিত জানা যায়। করেছেন কলাপাড়া থানায় একটি জিডি। সেখানেও দিয়েছেন লিখিত অভিযোগ।

লতাচাপলীর দিয়ারামখোলা রাখাইন পল্লীর বাসীন্দা এ দুই রাখাইন পরিবার। দুই বোন। স্বামী-সন্তান সংসার নিয়ে বসবাস করে আসছেন। একই গ্রামের মনির চৌকিদার, শাহাবুদ্দিন, শহিদুলসহ পাঁচ জনের নাম উল্লেখ করে তাদের লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, আসামিরা বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করতে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন তারা। এ অবস্থায় তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি দখল করে রাতারাতি বসতভিটা তুলে ফেলার শঙ্কা করছেন।

লতাচাপলী মৌজার ৯৮৭ নম্বর খতিয়ানের তিন একর ৮৯ শতক জমি দখল করতে প্রথম ১৮ মার্চ হামলা করে। কুয়াকাটা নৌ-পুলিশের সহায়তায় কলাপাড়া থানার ওসির নির্দেশে ওই দফা জমির দখল বন্ধ হয়। এরপরে রাখাইন এ সদস্যদেরকে মাটিতে পুতে ফেলার হুমকি দেয়া হয়। ১৯ মার্চ রাতে বাড়িতে গিয়ে দেশ ছাড়া করার হুমকি দেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০ মার্চ এ সংক্রান্ত একটি জিডি করেন কলাপাড়া থানায়। বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এ পরিবার দু’টি।

কলাপাড়া থানার ওসি জিএম শাহনেওয়াজ জানান, সকল ধরনের আইনি সহায়তা এ দুই পরিবারকে দেয়া হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদ হাসান পাটোয়ারী জানান, কলাপাড়া থানার ওসিকে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অভিযুক্ত মনির চৌকিদার ওরফে মনির হাওলাদার জানান, হুমকির ঘটনা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তাদের মধ্যে আমাদের কেনা জমি রয়েছে, ওই জমি মাপার কথা বললেই এ ধরনের মিথ্যা-বানোয়াট অভিযোগ দেয়া হয়। একই খতিয়ানের জমি তাদের কেনা মালিকানা রয়েছে দাবি করে মনির হাওলাদার আরও পাল্টা তার জমির দখল না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন।