কুয়াকাটায় নির্মাণাধিন দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল ল্যান্ডিং স্টেশনের সীমানা প্রাচীর ধ্বস

1

কুয়াকাটা প্রতিনিধি ঃ কুয়াকাটায় নির্মানাধীন দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল ল্যান্ডিং স্টেশনের প্রায় ৩’শ ফুট সীমানা প্রাচীর সামান্য বৃষ্টিতেই ধ্বসে পড়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ল্যান্ডিং স্টেশনের সীমানা দেয়ালের পশ্চিম পাশের একাংশ ভেঙ্গে মাটির সাথে মিশে যায়। হস্তান্তরের আগেই এমন দুর্ঘটনায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক কাজের গুনগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সাধারন মানুষের মাঝে।

সুত্র জানান, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কে,কে এন্টারপ্রাইজ প্রথম ধাপে ১০ একর জমিতে বালু ভরাট এবং ১৭২০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১১২০ ফুট প্রস্থ সীমানা প্রাচীরের কাজ সম্পন্ন করে। দ্বিতীয় ধাপে মূল ভবন, প্রধান ফটক ও শোভা বর্ধনের কাজ চলমান রয়েছে। যা চলতি বছরের নভেম্বরে সাবমেরিন কোম্পানীর কাছে হস্তান্তরের কথা রয়েছে। এরমধ্যেই ৩’শ ফুট সীমানা প্রাচীরের ধ্বসে পড়ায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাজ নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা সমালোচনায় বিষয়বস্তুতে রুপ নিয়েছে। ভাঙ্গা প্রাচীর দিয়ে লবন পানি মিশ্রিত বালু জহির খানের মালিকাধীন জমির প্রান্তিক চাষী ইয়াসিন মাঝির আমনের ক্ষেতে ঢুকে ক্ষতি করছে বলে জানিযেছে তারা। এদিকে কাজের গুনগত মান নিয়ে নিয়োজিত কনসালটেন্সী প্রতিষ্ঠান সিভিল ওয়াস একাধিকবার লিখিত ও মৌখিক নির্দেশনা দেয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে। সাবমেরিন কোম্পানীর প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা কর্তাব্যক্তিরা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা গ্রহন করায় নি¤œমানের ইট, বালু, পাথর, সিমেন্ট, রড ব্যবহার করা হয় এমন অভিযোগ করেছে নির্মানাধীন একাধিক শ্রমিক। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কে,কে এন্টারপ্রাইজ এমন অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, প্রকল্প এলাকায় বালু ভরাটের সময় পাশ্ববর্তী ফসলি জমিতে লবন পানি যাতে না যায় সেজন্য পানি নিষ্কাষন বন্ধ রাখা হয়েছিল। ফলে বর্ষা মৌসুমের জমে থাকা পানির প্রবল চাপে দেয়াল ধ্বসের মত ঘটনা ঘটেছে। প্রকল্প এলাকায় চারদিকে প্রস্তাবিত ১০ ফুট রাস্তা নির্মানসহ চারদিকের ড্রেনেজ ব্যবস্থা চালু হলে এ থেকে পরিত্রান পাওয়া সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প প্রকৌশলী ইমরান।

 

প্রকল্প এলাকার বাসিন্দা লতিফ মোল্লা এমন ধ্বংসযজ্ঞ দেখতে এসে আক্ষেপ করে বলেন, “হুনছি এ্যাডা বোলো বড় প্রতিষ্ঠান, হ্যালে ভাইঙ্গা পরলো ক্যামনে। তয় আগে যেইড্যা হুনছিলাম কনটেকটারের লোক জাফর যে রড, সিমিট বেইচা খাইছে এবং খারাপ ইট দিয়্যা কাম করছে হ্যায়াই সত্ত অইল।

 

প্রকল্পের কাজের গুনগতমান নিয়ে চ্যালেঞ্জ করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কে,কে এন্টারপ্রাইজের সত্ত্বাধীকারী মো. কবির হোসেন জানান, “পানি নিষ্কাষনের ব্যবস্থা না থাকায় প্রবল পানির চাপে সীমানা প্রাচীর উপড়ে পড়েছে।”

 

দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল ল্যান্ডিং ষ্টোশন’র প্রকল্প পরিচালক (পিডি) পারভেজ মনন আশরাফ প্রকল্পে নতুন যোগদান করেছে এমন দাবী করে বলেন, “এমন দুর্ঘটনার কথা শুনেছি, তবে সাবমেরিনের তদারকি টিম সরেজমিনে পরিদর্শন পাঠানো হয়েছে।

 

সাবমেরিন কোম্পানীর লি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনোয়ার হোসেন জানান, সামন্য বৃষ্টিতে কেন সীমানা প্রাচীর ধ্বসে পড়ল খতিয়ে দেখা হবে এবং দ্রুত গতিতে ক্ষতিগ্রস্থ দেয়াল সংস্কার করা হবে। ##