কেন্দ্রে বিশেষ সুবিধা প্রদানে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়

1

এম. রহমান, দুমকি : পটুয়াখালীর দুমকিতে কারিগরি শাখার নবম শ্রেণীর পরীক্ষায় বিশেষ সুবিধা দেয়ার নাম করে প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে ২শ’ টাকা করে আদায় করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত রবিবার দুমকি কেন্দ্রের গণিত পরীক্ষা শুরুর পূর্বেই সংশ্লিষ্ট ট্রেড শিক্ষক প্রতিকক্ষে গিয়ে পরীক্ষার্থীদের কাছ ওই টাকা করেছেন। তবে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ অসত্য দাবি করে অভিযোগটি উড়িয়ে দেন।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানাযায়, দুমকি কেন্দ্রে কারিগরি বোর্ডের অধীনে চলমান নবম শ্রেণীর গণিত পরীক্ষা শুরুর পূর্বেই বিশেষ সুবিধার আশ্বাস দিয়ে প্রত্যেক পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২শ’টাকা করে আদায় করা হয়েছে। দুমকি আপ্তুন নেছা খাতুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কারিগরি শাখার শিক্ষক মাহবুবুর রহমান প্রতিটি কক্ষে গিয়ে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে এই টাকা উত্তোলন করেন। একই সময় সাতানী আমির উদ্দিন স্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা উত্তোলণ কালে ঘটনাটি কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের নজরে আসলে টাকা উত্তোলণ বন্ধ হয়ে যায়। সূত্রমতে, কেন্দ্র স্কুলের ট্রেড শিক্ষক মাহবুবুর রহমান কেন্দ্রর অন্যান্য কারিগরি শাখা স্কুলগুলোর ট্রেড ইন্সট্রাক্টরদের মাধ্যমে গণিত পরীক্ষার দিন প্রত্যেক পরীক্ষার্থীকে ২শ’টাকা করে নিয়ে আসতে বলেছেন। ওই নির্দেশণা মাফিক টাকা উঠানো হয়। কোন কোন পরীক্ষার্থী ওই টাকা দিতে অনীহা প্রকাশ করলে তাদের ভয় দেখানো হয়। এ নিয়ে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবক মহলে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। কয়েকজন অভিভাবক ক্ষোভের সাথে জানায়, এটি ট্রেড শিক্ষকদের অতিমাত্রায় বাড়াবাড়ি। প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে ফরম ফিলাপ কালে কেন্দ্র ফি, ব্যবহারিক ফি নিয়ে নিয়েছেন। পরীক্ষা শুরুর দিনে প্রবেশপত্র দেয়ার সময় ৮’শ টাকা আদায় করেছেন। পরীক্ষার মাঝামাঝি সময়ে ফের ২’শটাকা ধার্য্য করা অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি। ব্যবহারিক পরীক্ষার মান বন্টনের ক্ষমতা ট্রেড শিক্ষকের কাছে ন্যস্ত থাকায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অনেকটা জিম্মি রয়েছে। ট্রেড শিক্ষককে খুশী রাখতেই পরীক্ষার্থীরা তার অনৈতিক আবদারও পূরণ করতে বাধ্য হয়। এতে পরীক্ষার্থীদের মাঝে চাঁপা ক্ষোভের সঞ্চার হলেও মুখ ফুটে কেউ কিছু বলতে সাহস পাচ্ছে না। এ বিষয়ে কেন্দ্র সচিব মো: আলমগীর হোসেন বলেন টাকা উত্তোলনের খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক অভিযুক্ত শিক্ষককে হল থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যে কজন পরীক্ষার্থীর টাকা উঠানো হয়েছে তা সাথে সাথেই ফেরত দেয়া হয়েছে। অভিযুক্ত ট্রেড শিক্ষক মাহবুব হোসেনকে হল থেকে সড়িয়ে নেয়ার পর তাঁকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো: মশিউর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, পরীক্ষায় সুবিধা দেয়ার নামে পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে এ ভাবে টাকা নেয়া রীতিমতো একটি প্রতারণা এবং গর্হিত অপরাধ। যথোপযুক্ত প্রমাণ পেলে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।