ক্লাশ কার্যক্রম বন্ধ করে স্কুল ছুটি ঘোষনা পটুয়াখালীতে অজ্ঞাত রোগের প্রাদুর্ভাব অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আক্রান্ত

0

 

মজিবুর রহমান,দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সৃজনী বিদ্যানিকেতনে (স্কুল এন্ড কলেজ) অজ্ঞাত রোগের প্রদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। ক্লাশ চলাকালীন আকস্মিক শরীর ঘামিয়ে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত তাদের (শিক্ষার্থীদের) পবিপ্রবি’র মেডিকেল সেন্টার, স্থানীয় লুথ্যারাণ হাসপাতাল ও উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার আকস্মিকতায় কর্তৃপক্ষ কøাশ কার্যক্রম বন্ধ করে স্কুল ও কলেজে সাধারন ছুটি ঘোষনা করেছে। ঘটনা শোনার সাথে সাথে পটুয়াখালী পুলিশ সুপার সৈয়দ মোসফিকুর রহমান অসুস্থ শিক্ষার্থীদের দেখতে যান।

গতরবিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সৃজনী বিদ্যা নিকেতনের ক্লাশ চলাকালীন পঞ্চম শ্রেণীর অন্তত: ৮/১০জন ছাত্রছাত্রীর শরীর ঘাম দিয়ে শ্বাসকস্ট বৃদ্ধি পেয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। খবর পেয়ে শিক্ষক কর্মচারীরা ছুটে এসে অসুস্থ ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবকদের ফোন দিয়ে দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে পাঠিয়ে দেয়। এর ৩০মিনিটের ব্যবধানে বিদ্যালয়ের অন্যান্য ক্লাশের আরও অন্তত: ৩০/৩৫জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে কর্তৃপক্ষ স্কুল সাধারণ ছুটি ঘোষনা দিয়ে সবাইকে যার যার বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। অপর দিকে অসুস্থ ছাত্র/ছাত্রীদের স্থানীয় লুথ্যারাণ হাসপাতাল, পবিপ্রবি মেডিকেল সেন্টার ও উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করে। সৃজনী স্কুল এন্ড কলেজের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আবদুস কুদ্দুস জানান, শিক্ষার্থীদের যথারীতি ক্লাশ চলছিল। সাড়ে ৯টার দিকে ৫ম শ্রেণীর ৮/১০জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের স্ব স্ব অভিভাবকদের অবহিত করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কিছুক্ষণ পর পরই অন্যান্য ক্লাশে রোগের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়লে তাৎক্ষণিক স্কুল ছুটি দিয়ে অসুস্থদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

অসুস্থদের মধ্যে লুথ্যারাণ হাসপাতালে ২০জন, বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে ১৫জন ও উপজেলা হাসপাতালে ৫জন ভির্তি করা হয়েছে। এছাড়া এ তিন হাসপাতালে অন্তত: ১৫/২০ শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক চিকিৎসায় সুস্থ হওয়ার পরে যার যার বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। এদিকে সৃজনী বিদ্যা নিকেতনে আকস্মিক শিশু শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হওয়ার খবরে এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। অভিভাবকরা তাদের শিশু সন্তানদের নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। এলইচসিবি’র কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নেছার উদ্দিন বলেন, এটি একটি ভাইরাস জনিত সমস্যা। প্রাথমিক চিকিৎসায় ভালো হয় তবে ভয় বা আতংকিত হওয়ার কোন কারণ নেই।

উপজেলা হাসপাতালের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, এটি ভাইরাস সংক্রমিত সমস্যা। যার নাম ম্যাস্-সাইকোজেনিক ডিজঅর্ডার । ম্যাস সাইকোজেনিক ডিজঅর্ডার আক্রান্ত রুগীর শরীর ঘামিয়ে শ্বাসকস্ট বৃদ্ধি পায়। ¯œায়ু দুর্বল শিশুরা এ রোগে সবচে বেশী আক্রান্ত হয় এবং একযোগে বহু সংখ্যেক শিশু আক্রান্ত হতে পারে। তবে দ্রুত অক্সিজেনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসায় স্বল্প সময়েই সুস্থ হয়ে যাবে।  এতে আতঙ্কিত হওয়ার কোন কারন নেই।