‘খাল কাডায় মোগো যে কি উপগার হইছে কইয়া শ্যাষ করতে পারমুনা’

4

 

কে এম সোহেল ,আমতলী প্রতিনিধি ঃ আহারে, হেই কত বড় খাল আছিল, মোরা নৌকা নিয়া আডে (বাজারে)গেছি, খাল গুলা এক্কালে মইর‌্যা গ্যাছিল, এলাকাডা এক্কালে মরুভূমি অইয়া গেছিল।‘খালকাডায় যে কি উপগার হইছে কইয়া শ্যাষ করতে পারমুনা’।

 

বরগুনার আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের পূর্ব চিলা ড্রেনেজ এবং ডব্লিউসি উপপকল্পের আওতায় কালির খাল, আশিকা খাল, ডুমুরিয়া খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়িত হওয়ার অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বয়োবৃদ্ধ সোহরাব মিয়া কথা গুলো বলেন। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) ক্ষুদ্রাকারপানি সেচ প্রকল্পের আওতায় এ খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়েছে।

 

এতে প্রকল্প এলাকার উভয় পাড়ের প্রায় তিন হাজার মানুষের পানি সংকটের সমাধান হয়েছে। এছাড়া ওসময় মত সেচ ও নিরসন সুবিধার আওতায় আসায় একদিকে যেমন কৃষিতে পানি সংকট ও সমস্যার সমাধান হয়েছে অপরদিকে এক ফসলী জমি তিন ফসলী জমিতে রুপান্তর হবে বলে সুবিধা ভোগীদের প্রত্যাশা।

এলজিইডিবরগুনা জেলাকার্যালয়ের  তথ্যমতেপ্রকল্পেরআওতায় আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের পূর্ব চিলা ড্রেনেজএবংডব্লিউসি উপ-প্রকল্পের আওতায় কালিরখাল, আশিকাখাল, ডুমুরিয়া খাল,

 

সরেজমিন আশিকাখাল, ডুমুরিয়া খাল খাল খনন কর্মসূচি পরিদর্শনে গিয়ে দেখাযায়,  খালটি খননের ফলে নির্বিগ্নে জোয়ারের পানি প্রবাহিত হচ্ছে। উভয় পাড়ের বাসিন্দারা দৈনন্দিন কাজের পাশাপাশি খালের উভয়পাড়ে তোলা মাটিকে বিভিন্ন সব্জি আবাদ করতে পারবেন। ওই এলাকার বাসিন্দা গৃহবধু ফিরোজা বেগম বলেন, মোগো রান্দনের পানিডুও পাইনাই এতদিন। খালডা কাডায় এহন রান্দন, নাওয়া খাওয়ার সব কাজ সারতে পারি। হ্যার পর শিম, বরবটি বেগুন গাছ লাগাইতে পারমু। মোগো এহন বাজার দিয়াতরকারি কেনা লাগবেনা।

 

খাল খনন প্রকল্পের সুবিধা ভোগীরা জানান, এলাকায় পানি সরবরাহ ও অপসারন ব্যবস্থা না থাকায় কৃষিতে ধ্বস নেমেছিল। খাল গুলো খননের ফলে পানির পর্যাপ্ত সরবরাহে সেচদিয়ে ইচ্ছেমত চাষাবাদ করা সম্ভব হবে, অপরদিকে জলাবদ্ধতা সমস্যার ও নিরসন হয়েছে । ফলে এলাকার জমি তিন ফসলীতে রুপান্তর হবে। এতে এ এলাকার কৃষিতে ব্যপক বিপ্লব ঘটবে বলে তাদের প্রত্যাশা।

 

পূর্ব চিলা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়,ফসলি জমির ভেতর থেকে প্রবাহিত খালে থই থই পানি। এলাকার কৃষক কার্তিক চন্দ্র বলেন, বাজান, কি কমু, মোগো খ্যাতে এবার তরমুজের চাষে ব্যামালা উপকার হইবে। মোগো এলাকায় তরমুজের চাষ বেশিহয়। সময়মত পানি ইচ্চা (সেচদিয়ে) দিতে পারি। মৌসুমে তরমুজের বাম্পার ফলন হইবে। সুবিধা ভোগীদের দাবী, অন্যান্য খালগুলো ও প্রকল্পের আওতাভুক্ত করে খনন করা হলে গোটা ইউনিয়নে কৃষিতে বিপ্লব ঘটবে।

 

প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্তসামাজিক অর্থনীতিবিদ আব্দুর রহিম মিয়া বলেন, এলাকার কৃষকদের সেচ ও জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানে খালগুলো খননের কাজ হাতে নেয়া হয়েছিল। কর্মসূচি বাস্তবায়িত হওয়ায় প্রকল্প এলাকার প্রায় লক্ষাধিক মানুষের পানি সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি কৃষিতে সেচ ও জলাবদ্ধতা নিরসন হবে।ইউপি সদস্য নির্মল তালুকদার বলেন এ খাল খননের ফলে এলাকার কৃষকসহ সাধারন মানুষ উপকৃত হবে।

 

ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম মৃধা বলেন স্থানীয় জনসাধারনের কৃষি ও গৃস্থলির কাজে ব্যবহারের জন্য এ মরা খালগুলো খনন করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে ইউনয়নের সকল খাল খনন করা হবে। যাতে কৃষকরা তাদেও জমিতে ফসলের বাম্পার ফলন ফলাতে পারে।

 

এতে এলাকার কৃষিতে বেশ পরিবর্তন ঘটবে বলে তার প্রত্যাশা। এলজিইডি বরগুনা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃআনোয়ারুল ইসলাম বলেন, দক্ষিনাঞ্চল কৃষি ও মৎস্য প্রধান এলাকা হলেও খাল গুলো খনন না করায় এলাকার কৃষিতে উন্নয়ন বাধা গ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, খাল খনন প্রকল্প গোটা এলাকায় বাস্তবায়ন হলে এলাকা টি তিন ফসলী জমিতে রুপান্তর হবে।