গলাচিপার ডাকুয়া গ্রামে বাবার কবরের পাশে সমাহিত হলেন সাংবাদিক নেতা আলতাফ মাহমুদ

9

pic-5নাসির উদ্দিন, গলাচিপা : শেষ ইচ্ছে অনুযায়ী গলাচিপার রামনাবাদ নদির পাড়ে ডাকুয়া গ্রামে বাবা সুন্দর আলী খানের কবরের পাশে সমাহিত করা হল সাংবাদিক নেতা আলতাফ মাহমুদকে। সোমবার সকাল দশটায় গলাচিপা পৌর শহরের জৈনুপুরী হুজুরের খানকা মাঠে আলতাফ মাহমুদের প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বেলা ১১ টায় ডাকুয়া গ্রামের বাড়িতে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে বাবার পাশে দাফন করা হয়। দাফন ও দোয়া অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আ.খ.ম. জাহাঙ্গির হোসেন, উপজেলা চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান লিখন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী সায়েমুজ্জামান, পৌর মেয়র আবদুল ওহাব খলীফা, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন নেতা আবু জাফর সূর্যসহ বিভিন্ন পেশাজীবী বিপুল সংখ্যক মানুষ। পটুয়াখালী-৩ আসনের এম পি আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন জানাজায় অংশগ্রহণকারী মুসুল্লীদেরকে বলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক আলতাফ মাহমুদ ছিলেন নিরহংকারী, নির্লোভী সৎ ও নিষ্ঠাবান। তাকে খুব কাছে থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে কারণ আমরা এক সাথে লেখা পড়া করতাম। তিনি এত বড় সাংবাদিক হয়েও ঢাকায় একটা তিন রুমের ভাড়া বাসায় থাকতেন এক পর্যায় তিনি আরো বলেন, মহামান্য রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার শোকবাণী দিয়েছেন শ্রদ্ধাও জানিয়েছেন, দক্ষিণ বাংলায় এ ধরণের সম্মান আর কেউ পাবে কিনা আমার জানা নেই ।

গতকাল বিকেলে বিএফইউজে সভাপতি বিশিষ্ট সাংবাদিক আলতাফ মাহমুদের মৃতদেহ হেলিকপ্টার যোগে পটুয়াখালীর গলাচিপা পৌছে। এসময় কফিনবাহী কপ্টারে স্থানীয় সংসদ সদস্য আ.খ.ম. জাহাঙ্গির হোসাইন, মরহুমের স্ত্রী তাহমিনা মাহমুদ, একমাত্র ছেলে আসিফ মাহমুদ তপু ও ভাই আবদুল খালেক খান ছিলেন। বড় মেয়ে আইভি মাহমুদসহ অন্যান্য স্বজনরা ভোররাত ও সকালে এসে পৌছলেও ছোট মেয়ে আফরিন মাহমুদ অসুস্থতা জনিত কারনে আসতে পারেননি। গতকাল বিকেলে উপজেলা আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে প্রথমে তার কফিন রাখা হলে উপজেলা আওয়ামী লীগ, পটুয়াখালী ও গলাচিপা প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সংগঠন পুস্পস্তবক অপর্নের মাধ্যমে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। রাতে তার মৃতদেহ গলাচিপা পৌর এলাকার রুপনগরের বাসার সামনে রাখা হয়। সকালে জানাজাস্থলে শ্রদ্ধা জানানো হয় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে।

উল্লেখ্য, গত রবিবার সকাল ৬ টায় বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এই বিশিষ্ট সাংবাদিক মৃত্যুবরণ করেন ( ইন্না লিল্লাহি……..রাজিউন )।মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল আনুমানিক ৬৫ বছর আলতাফ মাহামুদ স্ত্রী, ১ ছেলে ও দুই মেয়েসহ অসংখ গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।