গলাচিপায় আমন ধানের বাম্পার ফলন উৎপাদন খরচ না ওঠায় কৃষকের মাথায় হাত

5

pic-2

 

নাসির উদ্দিন, গলাচিপা : যত দুর চোখ যায় শুধুই সোনালীর সমারোহ গলাচিপা উপজেলার আমনের ক্ষেতের দিকে তাকালে চোখ ফেরানো যাবেনা। উপজেলার বড় কৃষক, প্রান্তিক চাষী, বর্গা চাষী ক্ষুদ্র চাষীরা বিভিন্ন দুর্যোগের পড়েও উৎপাদন করেছে বিভিন্ন জাতের আমন ধানের ফলন। এবার উপজেলার ২শত ৪৫টি গ্রামেই ধনের বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু বাজার মন্দা হওয়ায় সোনার ধান বিক্রি করে উৎপাদন খরচও উঠছেনা চাষিদের। যদি যথাসময়ে সরকার ধান ক্রয় করত তবে লাভবান হতো এলাকার কৃষক। ফসল ফলানোর আগ্রহটাও বেড়ে যেত অনেক গুণ। কিন্তু অবস্থায় কৃষক হালচাষ ছেড়ে অথবা পেশা পরিবর্তন করে অন্য দিকে মূখ ফিরিয়ে নিতে পারে বলে ধারণা করছে সচেতন মহল।

গলাচিপা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গলাচিপা উপজেলায় একটি পৌরসভা ১২টি ইউনিয়নে ৩৯ হাজার ৭শত ৫৪জন কৃষক ৩৩ হাজার ৫শত হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ করেছে। এর মধ্যে উচ্চ ফলন শীল(উফসি) চাষ হয়োছে ২১ হাজার হেক্টর স্থানীয় জাতের ১২ হাজার শত হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের ধান চাষ হয়েছে।

ধানের বাম্পার ফলনে কৃষক খুশি থাকলেও বাজারে ধান বিক্রি করতে গিয়ে আর হাসি ধরে রাখতে পারেনি শেষ পর্যন্ত। চরখালী গ্রামের আঃ সোবাহান মিয়া হাবিব আকন, ফুলখালী গ্রামের মজিবর খন্দকার, কচুয়ার উত্তম মিস্ত্রী জানান, হালুটি করতে গিয়ে জমিতে সেচ, বীজ, সার, ওষুধ, শ্রমিক খরচ, ধান কাটা শ্রমিক খরচ, মারাই মেশিন, বাজারে নিতে টমটম খরচসহ প্রতি কড়া জমিতে ৭শত ৫০থেকে৮০০শত টাকা খরচ পড়ে যায়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শনিবার সকালে মন প্রতি ধান বিক্রি হয়েছে ৫শত ৩০টাকা দরে। বিকালে দর হ্রাস পেয়ে হয় ৫শত টাকা। বর্তমানে মধ্যসত্বভোগীরা ,ফরিয়া ,দালালরা ধান কিনছে। গলাচিপা উপজেলার অধিকাংশ কৃষক ধার দেনা লগ্নি করে জমি চাষাবাদ করেছে তাদের ধান উঠতে না উঠতে বাড়ি গিয়ে সুদসহ টাকা আদায় করার জন্য অস্থির হয়ে পড়েছে সুদখোরেরা। ফলে কৃষক বাধ্য হয়ে কম দামে ধান বিক্রি করে তাদের টাকা পরিষোধ করতে বাধ্য হচ্ছে। কৃষকরা সংরক্ষণ করার চেষ্টা করলেও তারা তা পারছে না। বর্তমানে বিআর২৬, ব্রি ধান৩৩,৫৭,৬২ উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয় আড়ৎদার শিবু দাস জানান, কোন মোকামেই ধান কিনতে আগ্রহী নয় মালিক মহাজন। প্রতিবছর দূর দূরন্ত থেকে পাইকারেরা আসে বছর খুলনা বাগেরহাট, পাবনা, ঈশ্বরদি, কুষ্টিয়া, নাটোর,আশুগঞ্ছ থেকে কোনো পাইকার ধান কিনতে আসেনি বলে জানায় কয়েকজন আড়ৎদার। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আড়ৎদার জানান, বিদেশ থেকে এলসির মাধ্যমে চাল আমদানি বন্ধ না করা হলে ধানের দাম বাড়বে না বলে তিনি ধারনা করেন। সুশিল সমাজের নেতৃবৃন্দ মনে করেন কৃষকের দাবী অনুসারে ক্ষেতে ধান থাকতেই যদি সরকার মন প্রতি আট শত টাকা দরে ধান ক্রয় করত তা হলে কৃষককূল লাভের মুখ দেখত। অন্যথায় দিন দিন কৃষকেরা ধান চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে যা আমাদের অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে।

ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা : মান্নান জানান, বছর গলাচিপায় আমন ধান লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। সরকার যদি সরাসরি মাঠ থেকে কৃষকের ধান কিনত তা হলে কৃষকেরা লাভের মুখ দেখত পারত।