গলাচিপায় একটি পরিবারকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ

1

সোহাগ রহমান, গলাচিপা প্রতিনিধিঃ স্বার্থ উদ্ধার বা প্রতিপক্ষকে সামাজিকভাবে হেয় বা হয়রানি করতে আমাদের সমাজে অহরহ মিথ্যা মামলার কথা শোনা যায়। গোষ্ঠিগত ও পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে নিরাপরাধ মানুষকে ফাঁসাতে মিথ্যা কল্প কাহিনী সাজিয়ে থানায় কিংবা আদালতে এসব মামলা রুজু করা হয়। কোন কোন সময় যা সিনেমার কাহিনীকেও হারমানায়। মামলা চালাতে গিয়ে অনেক ভূক্তভোগী হন অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন। এমনই একটি ঘটনা ঘটেছে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার পানখালী গ্রামে। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ওই গ্রামের কাওসার হাওলাদারসহ তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশি রবিউল ইসলাম মোল্লার বিরুদ্ধে। মামলা থেকে বাঁচতে আদালত পাড়ায় ঘুড়তে ঘুড়তে দিশেহারা হয়ে পড়েছে অসহায় এই পরিবারটি। মামলাটির এজাহার বিশ্লেষণ করে একাধিক আইনজীবি বলেন, মামলায় তথ্যগত নানা অসঙ্গতি রয়েছে। এতে প্রতীয়মান হয়, হয়রানি করতেই মামলাটি করা হয়েছে। একই কথা জানান স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

মামলার এজহার, হয়রানির শিকার পরিবার সূত্রে জানাযায়, উপজেলার চিকনিকান্দি ইউনিয়নের পানখালী গ্রামের রবিউল ইসলাম মোল্লা ও কাওসার হাওলাদারের পরিবারে মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে দুই পরিবারের লোকজনের মধ্যে একাধিকবার কথা কাটাকাটি হয়। এরই জেরে গত ০৩মে মোঃ রবিউল ইসলাম মোল্লা (৪০) বাদী হয়ে মোঃ কাওসার হাওলাদার (১৫), মোঃ হাসিব হাওলাদার (১৫)  আসামি করে গলাচিপা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি পর্যালোচনা করে গলাচিপার একাধিক সিনিয়র আইনজীবি বলেন, মামলার অভিযোগে তথ্যগত নানা অসংগতি রয়েছে। তাতে প্রতীয়মান হয়, মুজাফ্ফর হাওলাদার ও তাঁর পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয় ও হয়রানির উদ্দেশ্যেই মামলাটি করা হয়েছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও একই মতামত দিয়েছেন। তাঁরা জানান, সামাজিক ভাবে ছোট করার জন্যই মামলাটি উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও সম্পূর্ণ মিথ্যা।

এদিকে ০৩মে দায়ের করা মামলার ঘটনাস্থল পানখালী সাকিনস্থ হাওলাদারে বাড়ীর পূর্ব পাশে খালের পূর্ব পাড়ে পানের বরজের পাশে কাচা রাস্তায় ৩০ এপ্রিল এধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি। এধরণের কোনো ঘটনা ঘটলে তাঁরা জানতেন। একই কথা বলেন, কৃষক হাচোন হাওলাদার ও আলাউদ্দিন।  এ দুই কৃষক জানান, আমরা প্রতিদিনের ন্যায় ৩০এপ্রিল পানের বরজের কাজ করে আসছি সকাল ০৯ থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত পানের বরজের পাশেই কাচা রাস্তায় ছিলাম।  এদিন রাস্তার উপরে কোনো কিছুই ঘটতে দেখিনি।

এ বিষয়ে জানতে মামলার বাদি মোঃ রবিউল ইসলাম মোল্লার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মামলা আমার সত্য, তারপরেও একই এলাকার লোক আমরা। এখন চিন্তা করতেছি স্থানীয় পর্যায় ফয়সালা করার।