গলাচিপায় চেয়ারম্যান পদে বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে বিপাকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি

3

 

 

নাসির উদ্দিন, গলাচিপা : পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলই বিপাকে পড়েছে। এসব প্রার্থীদের মনোনয়ন দাখিলের পিছনে উপজেলা কমিটির অনেক নেতাদের সরাসরি ইন্ধনের অভিযোগ রয়েছে। নিজস্ব বলয়ের প্রার্থী মনোনয়ন না পাওয়ায় তারা ইন্ধন দিয়ে দলের তৃনমূল থেকে নির্বাচিত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ হিসাবে তাদের অনুগতদের দার করিয়েছেন। ফলে একাধিক ইউনিয়নে দলের সমর্থিত প্রার্থীরা নানা ধরণের শঙ্কায় ভূগছেন।

উপজেলার ১২ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে মোট ৬৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এরমধ্যে আওয়ামী লীগেই বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ১৫ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন বলে দলীয় সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। বিএনপিতে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ৮ জন।

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি গলাচিপা উপজেলার ১২ টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী নির্বাচন করতে আওয়ামী লীগের তৃনমূলে কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে আমখোলা ইউনিয়নে মনির হোসেন, গোলখালী ইউনিয়নে নাসির উদ্দিন, গলাচিপা সদরে জাহাঙ্গীর হোসেন টুটু, পানপট্টি ইউপিতে আবুল কালাম, রতনদি তালতলীতে গোলাম মোস্তফা খান, কলাগাছিয়ায় দুলাল চৌধুরী, গজালিয়ায় খালিদুল ইসলাম, চিকনিকান্দিতে এরশাদ হোসেন বাদল, চরবিশ^াসে তোফাজ্জেল হোসেন বাবুল মুন্সী, চরকাজলে সাইদুর রহমান রুবেল, বকুলবাড়িয়ায় আবু জাফর খান, ডাকুয়া ইউনিয়নে বদরুল ইসলামকে মনোনয়ন দেয়া হয়। তৃনমূলে ভোটে পরাজিত হয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে আমখোলা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন, গোলখালীতে আঃ রাজ্জাক, আঃ রব মৃধা, চরবিশ^াসে জাহিদুল ইসলাম লিটন, আবুবকর সিদ্দিক, হাবিবুর রহমান, এস্কান্দার আলী, সাইদুর রহমান, গলাচিপায় ইসরাত হোসেন, রেজাউল করিম ফোরকান, বকুলবাড়িয়ায় শহিদুল ইসলাম , কলাগাছিয়ায় শহিদুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম গজালিয়ায় আ. ছত্তার খান, চিকনিকান্দিতে সর্দার আ. রহমান নয়া, জাকির হোসাইন, ডাকুয়ায়  তাসরুন নেছা ইভা, মাসুদ সর্দার রতনদি তালতলীতে মিজানু রহমান বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করেছেন।

অপরদিকে বিএনপি’র দলীয় মনোনয়নপ্রাপ্তরা হলেন, চরকাজলে গোলাম মোস্তফা পরান, চরবিশ^াসে রেনু আক্তার, আমখোলায় মুস্তাফিজুর রহমান মঈন, গলাচিপায় বাহাউদ্দিন খলীফা, পানপট্টিতে মাসুম বিল্লাহ, বকুলবাড়িয়ায় হুমায়ুন কবির, কলাগাছিয়ায় এ্যাড. মোশারেফ হোসেন, চিকনিকান্দিতে শিপলু খান, ডাকুয়ায় মিজানুর রহমান খোন্দকার, রতনদি তালতলীতে শহিদুল ইসলাম মোল্লা। ইউনিয়নের নামের ধারাক্রম অনুসারে বিএনপি’র বিদ্রোহী প্রার্থীরা হলেন, সাইদুর রহমান, মতিউর রহমান, মাহতাব উদ্দিন, মোশারেফ হোসেন, মোসলেম মিয়া, ইউসুফ মোল্লা, শাহ আলম আকন, হীরন চন্দ্র শীল।

বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিষ্ক্রিয় করে দল মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নামানোর জন্য স্থানীয় ভাবে চেষ্টা চলছে, এ তথ্য জানিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক সন্তোষ কুমার দে জানান, বিদ্রোহী প্রার্থীদের তালিকা জেলা কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়ভাবে সমঝোতার চেষ্টা ব্যর্থ হলে কেন্দ্রীয় কমিটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। একই ভাবে উপজেলা বিএনপির একাংশের সাধারণ সম্পাদক মোঃ সোহরাব মিয়া জানান, স্থানীয় ভাবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের সাথে আপোসের চেষ্টা চলছে। অন্যথায় দলের কেন্দ্রীয় কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে। এদিকে, কয়েকজন বিদ্রোহী প্রার্থী অভিযোগ করেছেন প্রার্থী মনোনয়নে পদ্ধতিগত ত্রুটির কারণে তারা দলের প্রার্থী হতে পারেন নি।

চরবিশ্বাস ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য ও বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু বকর সিদ্দিক অভিযোগ করেন, তৃণমূল ভোটে অর্থের প্রভাব কাজ করেছে। একজন প্রার্থী অর্থ দিয়ে তৃণমূল ভোট কিনে নিয়েছেন। যে কারণে দলে ব্যাপক অবদান সত্ত্বেও তিনি দলের মনোনয়ন পাননি। এলাকার মানুষের চাহিদার প্রেক্ষিতে তিনি প্রার্থী হয়েছেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও গোলখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুর রাজ্জাক একই অভিযোগ করে জানান, এলাকাবাসীর দাবির কারণে তিনি প্রার্থী হয়েছেন। উভয় দলের আরও কয়েকজন প্রার্থী একই ধরণের বক্তব্য দিয়েছেন। বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে দলের মনোনীত কয়েকজন প্রার্থী নানা আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। চরবিশ্বাস ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ তোফাজ্জেল হোসেন বাবুল, চরকাজল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী সাইদুর রহমান রুবেল, গলাচিপা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন টুটু জানান, মূলত দলের একটি প্রভাবশালী চক্র বিরোধী দলের সাথে ষড়যন্ত্র করে অর্থের বিনিময়ে বিদ্রোহীদের মাঠে নামানো হয়েছে। বিদ্রোহীদের বিষয়ে তারা কেন্দ্রের কঠোর সিদ্ধান্তের আশা করছেন।