গলাচিপায় ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ কার্যাদেশের মেয়াদ শেষ হলেও নির্মিত হয়নি নতুন ব্রিজ

3

 

সোহাগ রহমান,গলাচিপা প্রতিনিধিঃ গলাচিপার ডাকুয়া ইউনিয়নের জোড়াতালির ব্রিজ পাঙ্গাসিয়া। একই ব্রিজের দুই রূপ। একাংশ আরসিসি ঢালাই অপরাংশ বেইলি ব্রিজ। এ জোড়াতালি দেয়া ব্রিজ দিয়ে ঢাকাগামী যাত্রীবাহী বাস, মালবোঝাই ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপসহ ভারি যানবাহন চলাচল করছে ঝুঁকি নিয়ে। ব্রিজটির অবস্থা এতই ঝুঁকিপূর্ণ যে স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে আরসিসির সঙ্গে স্টিল ডেক স্লাবের ঢালাই দিতে বাধ্য হন। এতে হালকা যান চলাচলের উপযোগী হলেও ভারি যান চলাচলের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানান চিকনিকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান এরশাদ হোসেন বাদল। তিনি আরও জানান, বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে মালামালসহ ভারি যানবাহন হরহামেশা পার হচ্ছে এ ব্রিজ দিয়ে। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। ডাকুয়া ইউপি সদস্য বিশ্বজিৎ রায় জানান, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান ও স্থানীয়ভাবে উপজেলা সদরের সঙ্গে ৪টি ইউনিয়নের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এ ব্রিজটি।

এদিকে নতুন ব্রিজ নির্মাণকাজ শুরু করেছে এলজিইডি। কিন্তু কার্যাদেশের সময়সীমা শেষ হয়ে গেলেও নির্মাণকাজ অর্ধেকও শেষ হয়নি। স্থানীয় সরকার অধিদফতরের গলাচিপা অফিস সূত্র জানায়, দুই দশক আগে ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে ডানিডার আর্থিক সহায়তায় এ ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণকালীন খালের প্রস্থের চেয়ে স্পান সামান্য পরিমাণে বড় করা হয়। ব্রিজটি নির্মাণ করা হয় চিকনিকান্দি নদীর ত্রিমোহনায়। ব্রিজ নির্মাণের জন্য স্থান নির্বাচনে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে খামখেয়ালিপনার অভিযোগ রয়েছে। নদী ও খালের ত্রিমোহনায় ব্রিজ নির্মাণকালীন স্থানীয়রা বাধা দেয়। তাদের এ বাধা উপেক্ষা করে নির্মাণ করা হয় ব্রিজটি। ফলে ভাঙনের মুখে পড়ে ব্রিজটি। এদিকে এ নদীর খারিজ্জমা এলাকা থেকে কালারাজা পর্যন্ত নাব্য সংকটে প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকা ভরাট হয়ে গেছে। ফলে ¯্রােতের গতি পরিবর্তিত হয়ে আরও বেগবান হয়ে এ ব্রিজের খাল দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় ¯্রােত তীব্র রূপ ধারণ করে। এতে ব্রিজ এলাকায় ভাঙন তীব্রতর রূপ লাভ করে। ভাঙনরোধে এলজিইডি সিসি ব্লক স্থাপন করে। কিন্তু রোধ হয়নি ভাঙন। তীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় ব্রিজের দক্ষিণ প্রান্ত। বন্ধ হয়ে যায় সব ধরনের যান চলাচল। তড়িঘড়ি করে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সহায়তার স্টিল স্টাকচারের বেইলি ব্রিজ স্থাপন করে জোড়াতালি দিয়ে মোটামুটি যান চলাচলের উপযোগী করা হয়। নেয়া হয় আরেকটি নতুন ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা। কিন্তু ব্রিজ নির্মাণের আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় পার হয়ে গেছে সাত বছর। এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী আতিকুর রহমান তালুকদার বলেন, দীর্ঘ পথপরিক্রমা শেষে অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দের পর নতুন ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। সরেজমিন দেখা গেছে, এ কাজ এখন পর্যন্ত অর্ধেকও শেষ হয়নি। অথচ ইতিমধ্যেই কার্যাদেশের সময়সীমা পার হয়ে গেছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান একের পর এ সময় বর্ধিতকরণের আবেদন করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও ঠিকাদারের আবেদন অনুযায়ী সময় বাড়িয়ে দিচ্ছেন। কবে নাগাদ নতুন ব্রিজটির কাজ শেষ হবে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও বলতে পারছেন না।