গলাচিপায় নবম শ্রেণির এক ছাত্রী ধর্ষনের শিকার সালিশ বৈঠকে৪০ হাজার টাকা জরিমানা

2

 

সোহাগ রহমান,গলাচিপা প্রতিনিধিঃ গলাচিপায় ডাকুয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির এক ছাত্রী ধর্ষনের শিকার হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার রাতে উপজেলার পূর্ব আটখালী গ্রামে। স্থানীয় প্রভাবশালীরা ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারটিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে থানায় অভিযোগ না দিয়ে সালিশ বৈঠককে বসতে বাধ্য করে। বুধবার বিকেলে স্থানীয় মানবাধিকার ও সংবাদকর্মীরা ঘটনাস্থানে গিয়ে ধর্ষিতাকে উদ্ধারকরে থানায় মামলা দায়ের করে।

ধর্ষিতার পরিবার সূত্রজানায়, উপজেলার পূর্ব আটখালী গ্রামের দিনমজুর মিলন প্যাদার প্রতিবন্ধী স্ত্রী ও চার মেয়ে নিয়ে সংসার। বড় মেয়ে ডাকুয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৯বম শ্রেনীতে পরে। গত সোমবার রাতে ওই ছাত্রী তাদের নিজ ঘরের বারান্দায় পড়ছিল। প্রতিবেশী নেছার প্যাদা পান খাওয়ার নাম করে ঘরে ঢুকে ওই ছাত্রীকে মুখ চেপে ঘরের পাশে বাগানে নিয়ে ধর্ষন করে। এসময় ওই ছাত্রী ডাকচিৎকার দিলে বাড়ির লোকজন এলে ধর্ষক পালিয়ে যায়। এদিকে ঘটনার পরপরই ধর্ষকের স্ত্রী ফাতেমা বেগম কৌশলে ধর্ষনের আলামত নষ্ট করার জন্য ধর্ষিতা ওই ছাত্রীকে গোসল করায়। এঘটনা শুনে ধর্ষিতার বাবা মিলন প্যাদা বিষ পান করা চেষ্টা করে। তাকে গলাচিপা স্বান্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এদিকে স্থানীয় মেম্বার মজিবর মোল্লার নেতৃত্বে কালাম মোল্লা, শাহালম বাদশা, আমিনুল মাষ্টার, সোহরাব প্যাদা মঙ্গলবার রাতে ধর্ষিতাদের উঠনে এক সালিশ বৈঠকে ধর্ষক নেছার প্যাদাকে ৪০হাজার টাকা জরিমানা ধার্য্য করে। এব্যাপারে ওই এলাকার মেম্বার মজিবর মোল্লা সালিশ বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা অস্বীকার করে বলেন, ঘটনার সাথে জড়িতরা একই বাড়ির লোক শুনেছি তারা নিজেরা মেশার জন্য বসেছিলে। গলাচিপা ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা মো.জাহিদ হোসেন জানান, মামলা নেয়া হয়েছে। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।