গলাচিপায় বর্ষা মৌসুমের তরমুজ চাষ করে জাহাঙ্গীরের মুখে হাসি

44

মো. নাসির উদ্দিন গলাচিপা বিশেষ প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর গলাচিপায় বর্ষা মৌসুমে তরমুজ বিক্রি করে চাষী জাহাঙ্গীর ফরাজীর মুখে ফুটেছে হাসি। উপজেলার গ্রামর্দ্দন গ্রামে নিজের ২০ শতক জমিতে মাত্র ২০ হাজার টাকা খরচ করে গাছে সময়মত কীটনাশক প্রয়োগ করে ও সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে বাম্পার ফলনের তরমুজ বাজারে বিক্রি করে অধিক লাভ করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। এতে তার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এ সফলতা দেখে প্রতি নিয়ত দূর-দুরান্ত থেকে অনেক চাষী আগ্রহ প্রকাশ করে জাহাঙ্গীরের কাছ থেকে তরমুজ চাষের দীক্ষা নিচ্ছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, জাহাঙ্গীর ফরাজী মাটির বেড তৈরী করে তরমুজের বীজ বপন করেছেন। বেডের ওপরে জাল দিয়ে মাঁচা তৈরি করেছেন যাতে মাঁচার ওপরে তরমুজ গাছের লতা বাড়তে পারে। মাঁচার সাহায্যে বেড়ে ওঠা শূণ্যে ঝুলে থাকা তরমুজ নেটের ব্যাগ দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। প্রতিটি তরমুজের ওজন হবে ৭-৮ কেজি। অধিক দাম পাওয়ার আশায় ক্ষেতের কাছে ট্রাক বোঝাই করে ১ হাজার পিস বড় তরমুজ বিক্রি করতে ঢাকার উদ্দ্যেশে নিয়ে গেছেন তিনি।
প্রতিদিন জাহাঙ্গীর ফরাজীর তরমুজ ক্ষেতে বিভিন্ন এলাকা থেকে নানা বয়সের মানুষ এসে ভিড় করেন। এতে অনেকে তরমুজ চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেন। জাহাঙ্গীরের মত অন্য চাষীও তরমুজ চাষ করে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।
জাহাঙ্গীর ফরাজী জানান, ঢাকার কাওরান বাজার মোকামে ৬০ টাকা কেজি দরে তরমুজ বিক্রি করে ৪ লাখ টাকার উপরে তার লাভ হয়েছে। ক্ষেতে আরো কিছু তরমুজ অবশিষ্ট রয়েছে। তিনি আরো জানান, মাছের ব্যবসার উদ্দ্যেশে খুলনায় গিয়ে মাছের ঘেরে মাঁচার সাহায্যে তরমুজ চাষ করতে দেখে আগ্রহী হন তিনি। পরে বর্ষা মৌসুমে নিজের গ্রামে এসে তিনি মাঁচার সাহায্যে তরমুজ চাষ শুরু করেন। এতে তার স্ত্রী তাকে সর্বাত্বক সহযোগিতা করেন। কঠোর পরিশ্রম ও মনোবলের কারনে তার সাফল্যে এলাকায় ব্যাপক আলোড়নের সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ আর এম সাইফুল্লাহ জানান, বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে জাহাঙ্গীরসহ অন্য চাষীদেরকেও প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে। চাষীদের উদ্বুদ্ধ করার জন্য তরমুজ চাষের পাশাপাশি অন্যান্য কৃষি খামারের প্রদর্শনী করা হবে।