গলাচিপায় মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা করে বিপাকে বাদি

1

 

নাসির উদ্দিন,গলাচিপা প্রতিনিধিঃ গলাচিপার মানিকচাঁদ মাদ্রাসা সুপার মাওলানা মোঃ নুরউদ্দিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির  মামলা করে বিপাকে পড়েছেন বাদি মোঃ হাফিজুর রহমান। সুপার নিজে এবং তার সাঙ্গোপাঙ্গোরা মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে। মামলা তুলে না নিলে তাকে খুন এবং পরিবারের সদস্যদের এলাকা ছাড়া করা হবে। তিনি এখন ভয়ে  পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে মুঠোফোনে  জানান। সুপার মাওলানা মোঃ   নুরউদ্দিন এ অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং তার দুর্নীতির ব্যাপারে কোন কথা বলতে রাজি হননি।

উপজেলার রতনদি তালতলী ইউনিয়নের মানিকচাঁদ দাখিল মাদ্রাসা সুপার মাওলানা মোঃ নুরউদ্দিনের বিরুদ্ধে ওই মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মোঃ হাফিজুর রহমান গত ৭ সেপ্টেম্বর  উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। এতে সুপারের বিরুদ্ধে ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা সেশন ফি, ভর্তি ফি, বিশেষ চাঁদার ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা, শিক্ষার্থীদের বেতনের ৭২ হাজার টাকা, পরীক্ষার ফি ৩৫ হাজার টাকা, প্রতিষ্ঠানের গাছ বিক্রির ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা, মাদ্রাসা মঞ্জুরী করার জন্য ৩৩ হাজার টাকা, ইনডেক্স বদল করে নিজস্ব আত্মীয় স্বজনদের ৫০ হাজার টাকাসহ মোট ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেন। আদালত বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। এর আগে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় মাদ্রাসা ম্যানেজিং কমিটি গত ২৯ ফেব্রুয়ারি সুপারকে সাময়িক বরখাস্ত করেন।  শিক্ষক প্রতিনিধি ও ম্যানেজিং কমিটির মহিলা সদস্যর স্বাক্ষর জাল  করার অভিযোগ করা হয় মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে। এর তদন্ত ভার দেয়া হয় গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরেজমিন তদন্ত করে জাল জালিয়াতির প্রমান পেয়ে  ০৫.১০.৭৮৫.৭.০০.১০৩০০১.১৪.৪৯২ স্মারকে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে তদন্ত প্রতিেেবদন পাঠান। শিক্ষা বোর্ড ম্যানেজিং কমিটি ভেঙে দেয়। এর বিরুদ্ধে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হানিফুজ্জামান হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। হাইকোর্ট ৬ মাসের জন্য কমিটির মেয়াদ বড়িয়ে দেন। এ সুযোগে প্রতিষ্ঠানের ৬টি শুন্য পদ সহকারি সুপার, সহকারি মৌলভী, কৃষি শিক্ষক, এবতেদায়ী ক্বারী, সমাজ বিজ্ঞান ও অফিস সহকারি কাম কম্পিউটার অপরেটর পদে নিয়োগ দানের জন্য প্রক্রিয়া শুরু করেন। সভাপতি এবং সুপার তাদের পছন্দের প্রার্থীদের কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা আদায় করেন। সভাপতি হানিফুজ্জামান প্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। গলাচিপা পৌর শহরের কালামের গ্যারেজ সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত সাময়িক বরখাস্তকৃত সুপারের বাসায় বসে কোন প্রকার পরীক্ষা ছাড়াই তাদের পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ দানের প্রক্রিয়া করেন। এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ হুমায়ুন কবির বলেন, মানিকচাঁদ দাখিল মাদ্রাসায় দুটি পদে নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ নির্ধারন করা হয়ে ছিল। কিন্তু ওই মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির মধ্যে দ্বন্দ থাকার কারনে পরীক্ষা নেয়া হয়নি। তার পরেও বরখাস্ত হওয়া সুপার কিভাবে নিয়োগ দেন তা তার জানা নেই। এসব দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবরে অভিযোগ করা হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দেন।