গলাচিপায় মুক্তিযোদ্ধা বাছাই কমিটি নিয়ে বির্তক মুক্তিযোদ্ধার মাঝে ক্ষোভ

11

 

সোহাগ রহমান,গলাচিপা প্রতিনিধিঃ গলাচিপায় মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটি নিয়ে বির্তক সৃষ্টি হয়েছে। সাবেক কমান্ডার ও ডেপুটি কমান্ডারদের অভিযোগ বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দিয়ে বির্তকিত ও দূর্নীতি পরায়নদের কে বাছাই কমিটিতে রাখা হয়েছে। বর্তমান বাছাই কমিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগকৃত ও নতুন আবেদনকারীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এনিয়ে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া বাছাই কমিটিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য বা তার প্রতিনিধি থাকার কথা থাকলেও তা মানা হয়নি।

মুক্তিযোদ্ধারা জানায়, মুক্তিযুদ্ধের পর গলাচিপায় উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ছিল ২৪জন। বিভিন্ন সময় মিথ্যা তথ্য দিয়ে মোট ৬৫ জন গেজেট ভূক্ত হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপি-জোট সরকারের আমলে ৩৯ জন অমুক্তিযোদ্ধা গেজেট ভূক্ত হয়েছে। সাবেক কমান্ডার আবুল কালাম মোহম্মদ ইসা জানান, ভারতীয় তালিকা ও লাল মুক্তিবার্তা নিয়ে গলাচিপা উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ছিল ২৪জন। বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ৩৯জন অমুক্তিযোদ্ধা গেজেট ভূক্ত হয়। একটি বিশেষ মহল ওই সকল অমুক্তিযোদ্ধাদের ঠিক রাখার জন্য বর্তমান বাছাই কমিটিতে উপজেলার বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দিয়ে বির্তকিত ও দূর্নীতিবাজদেরকে নেয়া হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান মল্লিক জানান, বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির কছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা করতে চাচ্ছে। কিন্তু বর্তমান বাছাই কমিটি ও নতুন আবেদনকারীদের দেখে মনে হয় অমুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা আরও বাড়বে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তাফা টিটো বলেন, আমি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ভারতে প্রশিক্ষণ শেষে ১৯৭১ সালে অক্টোবর মাসের শেষে দিকে মুক্তিযোদ্ধাদেরকে নিয়ে এসে পানপট্টির সম্মূখ যুদ্ধে অংশ নেই। ১৯৭২সালে পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক পানপট্টির যুদ্ধে অংশ নেয়া ৪১জন মুক্তিযোদ্ধাকে  সংবর্ধনা দেয়। বর্তমানে জেলায় পানপট্টির যুদ্ধে অংশ নেয়া মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৩ শতেরও বেশী। গুটি কয়েক অসৎ মুক্তিযোদ্ধা অর্থের বিনিয়ম অমুক্তিযোদ্ধাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সনাক্ত করছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক সন্তোষ দে বলেন, বাছাই কমিটিতে এমপির প্রতিনিধি রাখার বিধান থাকলেও রাখা হয়নি। এই বাছাই কমিটি দিয়ে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা বাছাই সম্ভব হবেনা। এব্যপারে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল্লা আল বাকী জানান, বিষয়টি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের। বাছাই কমিটি গঠনে আমাদের কিছু করার নেই।