গলাচিপা পৌরসভা উপনির্বাচন বিএনপিতে বিদ্রোহী সুবিধা নিবে আওয়ামী লীগ

4

 

সোহাগ রহমান,গলাচিপা প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর গলাচিপা পৌরসভার মেয়রপদে উপনির্বাচন জমে উঠেছে। এই উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন নিয়ে সাবেক মেয়র মরহুম আবদুল ওহাব খলিফার ছেলে আহসানুল হক তুহিন অপর দিকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন নিয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো,জাহাঙ্গীর হোসেন খান প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। তবে উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা এবং এর আগে বিএনপি সমর্থন নিয়ে মেয়র পদে নির্বাচনে অংশ নেওয়া  সাবেক পৌর চেয়ারম্যান মু,আবু তালেব মিয়া এবারও মেয়র পদে প্রার্থী হয়েছেন । বিএনপির এই নেতা এবার  স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। এই উপনির্বাচনে বিএনপির দুইজনে  প্রার্থী হওয়ায় একক প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগ এই সুবিধাটুকু কাজে লাগাতে চেষ্টা করবে বলে মনে করছেন অনেকেই।

এদিকে এই উপনির্বাচনকে ঘিরে ইতিমধ্যে প্রার্থীরা জোড়েশোরে মাঠে নেমে পরেছেন। নানা প্রতুশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন। তবে  গলাচিপা মানুষের  নতুন করে এখন  হিসেব-নিকেশ শুরু করেছেন। একদিকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী  আহসানুল হক তুহিন এই প্রথম বারের মত  নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দীতায় নেমেছেন।  অপর দিকে বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী  জাহাঙ্গীর হোসেন খান একসময় উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন এবং আবু তালেব মিয়া এক সময় গলাচিপা পৌরসভার নির্বাচিত চেয়ারম্যান  এবং পরবর্তীতে বিএনপির সমর্থন নিয়ে মেয়রপদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছেন। এই অবস্থায় তরুন না অভিজ্ঞ প্রার্থী পৌরবাসির কল্যানে বেশি ভূমিকা রাখতে পারবেন, এ নিয়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষন।

সরেজমিন ভোটারদের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বললে, গলাচিপা পৌর শহরের ৪নং ওয়ার্ড সদর রোড এলাকার ভোটার মেজবাহ্ উদ্দিন মুফতী বলেন, নতুন নির্বাচন কমিশনারের অধীনে নির্বাচন হচ্ছে, কাজেই আমরা আশা করবো  ভোটের পরিবেশও ভালো থাকবে। আমরা চাই এলাকার উন্নয়ন। যিনি এলাকার উন্নয়ন করতে পারবে, তরুন সাহসী,  তাকেই বেছে নেবে পৌরবাসী।  পৌর শহরের ৯ নং ওয়ার্ডের কলেজ পাড়া এলাকার  ভোটার আবুল হোসেন বলেন, গত নির্বাচন  ভোট গ্রহনের  সঙ্গে সঙ্গে বিএনপি ভোট বর্জনের ঘোষনা দিয়েছিল। আমরা চাই  সকল দল মাঠে থাকবে। উৎসব মূখর পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

এদিকে বিএনপির সমর্থিত  মো.জাহাঙ্গীর হোসেন খান উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেছেন। কৃষিজীবী এই নেতা ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। দলের বিদ্রোহী হিসেবে প্রার্থী সম্পর্কে তিনি বলেন, আমাদের জেষ্ঠ্য নেতা আবু তালেব মিয়া এর আগে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছেন। এই উপনির্বাচনেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বীতার না করার কথা জানালে আমি প্রার্থী হই। কেন্দ্র থেকে আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। এখন তিনি আবার প্রার্থী হয়েছেন।  তবে এই নির্বাচন দলীয় ভাবে হচ্ছে। কাজেই দলের সমর্থকরা আমাকেই সমর্থন করছে।

এদিকে উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা  আবু তালেব মিয়া মাধ্যমিক পাশ করেছেন। পেশায় তিনিও কৃষিজীবী। নারকেল গাছ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন তিনি। আবু তালেব মিয়া বলেন, নির্বাচনী তফসিল ঘোষনার সময় আমি এলাকায় না থাকায় কেন্দ্রে গিয়ে দলের মনোনয়ন এনেছেন জাহাঙ্গীর হোসেন। এর আগের নির্বাচনে দল থেকে আমাকে মনোনয়ন দিয়ে ছিল। সেই নির্বাচনে কারচুপির মাধ্যমে আমাদের জয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল। আমি নির্বাচনে লড়বো না,  কেন্দ্রে এরকম মিথ্য তথ্য দিয়ে মনোনয়ন আনলেও দলের তৃনমূল পর্যায়ে সমর্থকসহ এলাকার ভোটাররা তার পক্ষে রয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো.গোলাম মোস্তফা জানান বলেন, উপজেলা বিএনপি ঐক্যবদ্ধ, তবে দলের দুইজন প্রার্থী হওয়ায় একটু সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি কেন্দ্রে জানানো হয়েছে।

এদিকে আওয়ামী লীগের আহসানুল হক তুহিন উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেছেন। তিনি  পেশা হিসেবে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। একসময় ছাত্রলীগ ও বর্তমানে উপজেলা যুবলীগের সদস্য তুহিন আওয়ামী লীগের সমর্থন পেয়ে নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন।  তুহিন বলেন, আমার বাবা মরহুম হাজী আবদুল ওহাব খলিফা গলাচিপা পৌরসভার ৩বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও মেয়র ছিলেন। তিনি গলাচিপাবাসির একজন প্রিয় মানুষ ছিলেন। বাবার স্মৃতি ধরে রাখতে ও বাবার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি। পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবিদ হাসান রুবেল বলেন, আমাদের প্রার্থী তুহিন খলিফা তরুন, কর্মঠো এবং সৎ। আমরা আশা করছি বিগত নির্বাচনের চেয়ে আরও বেশী ভোট পেয়ে আমরা বিজয়ী হব।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৭ আগাস্ট গলাচিপা পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে গলাচিপা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি  আবদুল ওহাব খলিফা তৃতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন। তবে নির্বাচিত হওয়ার মাত্র তিন মাসের মাথায় গত বছরের ৮ নভেম্বর ওহাব খলিফা মারা যান। তার মৃত্যুতে মেয়র পদটি শূন্য হওয়ায় এ উপ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। গলাচিপা পৌরসভার মোট ভোটার সংখ্যা ১৪ হাজার ৬৬১ জন ভোটার রয়েছেন। এর মধ্যে নারী ভোটার সাত হাজার ৩৩৪ জন।  আগামি ৬ মার্চ সোমবার এই উপনির্বাচনের  ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।