গৃহবধূ নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন, সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান

5

আমতলী প্রতিনিধিঃ বরগুনার তালতলীতে স্বামী কর্তৃক ৬ মাসের গর্ভবতী গৃহবধূ মারজানা আক্তার লাইজুকে পৈশাচিক ভাবে অমানুষিক নির্যাতনের প্রতিবাদে এবং বিচারের দাবীতে মানববন্ধন, সমাবেশ ও বরগুনার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবরে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় মহিলা পরিষদ ও ফারিয়ালারা ফাউন্ডেশনের আয়োজনে তালতলী শহরের সদর রোডে এসব কর্মসূচী পালিত হয়।

ঘন্টা ব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচী চলাকালে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, সাংবাদিক চিত্তরঞ্জন শীল, জেলা নারী ফোরামের সভানেত্রী সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান দেলোয়ারা হামিদ, বরগুনা প্রেসক্লাব সম্পাদক আবু জাফর ছালেহ, উপজেলা আওয়ামীলীগ সহ-সভাপতি কামরুল আহসান, নারী নেত্রী নাজমা বেগম, মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ নুরউদ্দিন, মহিলা পরিষদের সভানেত্রী সেলিনা আকতার ইভা ও আবুল বাশার হেলালী প্রমুখ। বক্তারা বলেন, একজন গর্ভবতী নারীকে পাষন্ড স্বামী কর্তৃক পৈশাচিক ভাবে অমানবিক নির্যাতনের কারনে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। তাই নির্যাতনকারীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার আন্দোলন চলবে বলে ঘোষণা দেন বক্তারা।  ৮আগস্ট বরগুনার তালতলী উপজেলার ছোটভাইজোড়া গ্রামে মারজানা আক্তার লাইজু নামের এক গর্ভবতী নারী পাষন্ড স্বামী হুমায়ুন খন্দকার কর্তৃক অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। লাইজুর মা লাইলী বেগম এবং খালা হেপি আক্তার জানান, নির্যাতনের এক পর্যায় লাইজুর গোপনাঙ্গে গরম তেল, বাটা মরিচ ও খুন্তি দিয়ে পাথরের টুকরো ও চুল ঢুকিয়ে দেয়। এক পর্যায়ে ঘর থেকে মাছ ধরার চল (মাছ ধরা যন্ত্র বিশিষ্ট) বের করে ৬ মাসের গর্ভবতী লাইজুকে কুপিয়ে নিষ্ঠুরভাবে নির্যাতন করা হয়। এ নিষ্ঠুর অত্যাচারে লাইজু জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। জ্ঞানহীন অবস্থায় লাইজুকে হুমায়ূনের চাচা ইউপি সদস্য আ: আজিজ এবং স্থানীয় নাগরিক পরিষদের সদস্য সেলিনা আক্তার ইভা ও মজিবর জোমাদ্দার তালতলী থানায় নিয়ে যায়। এ অবস্থায় লাইজুর অবস্থা সংকটজনক দেখে পুলিশ দ্রুত তাকে চিকিৎসার নির্দেশ দেন। পরে আহত লাইজুকে দ্রুত বরিশাল শের-এ বাংলা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সে হাসপাতালেই মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। যৌতুকের দাবিতে এ অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে বলে তারা জানান। এ ব্যাপারে লাইজুর বাবা মকবুল হোসেন  বাদী হয়ে ১০ আগস্ট তালতলী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে স্বামী হুমায়ূনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন।  তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কমলেশ চন্দ্র হালদার জানান, আসামী গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।