গেজেট না পাওয়ায় মুক্তিযুদ্ধে প্রকৃত শহীদ  পরিবার  এখনও অবহেলিত

6

 

আরিফুর রহমান রিয়াজ :  যুদ্ধ না করে পালিয়ে থেকে যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন অনৈতিক কার্যক্রমের মাধ্যমে সমাজে অর্থের পাহাড় গড়ে দেশ বিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত অনেকের মুখোশ আজ উন্মোচিত।যারা সম্মূখ সমরে যুদ্ধ করেদেশের জন্য প্রান দিয়েছেন তাদের সন্তানরা সমাজে বুক ফুঁলে দাড়াতে পারছে না হাইব্রীডদের ভীড়ে।৭১-এ জীবন বাজীরেখে যুদ্ধ করেছি।তৎকালীন বাকেরগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে যুদ্ধ করতে গিয়ে চষেবেড়িয়েছি বির্স্তীণ অঞ্চল। সহযোদ্ধারা আমার নাম দিয়েছেল ব্লাক ক্যান্ডেল। যুদ্ধে হানাদাররা পটুয়াখালী শহরে অবস্থিত আমাদের বাড়ী-ঘর,ব্যবসা-বানিজ্য সব ধবংস করে দিয়েছিলো।আমার বড় ভাই রশিদ আকন যুদ্ধে শাহাদৎ বরণ করেলেও আমরা কেউই আজ পর্যন্ত পাইনি মুক্তিযোদ্ধার প্রাপ্য সম্মান। কথাগুলো বলেছিলেন ৭১-এ হানাদারের বিমান আক্রমনে পটুয়াখালীতে নিহত আঃ রশীদ আকনের কনিষ্ঠ ভ্রাতা মুক্তিযোদ্ধা আঃ ওহাব আকন। সরকারের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারক মহলের সুপারিশ, স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দাবী তথা সর্ব সাধারণের ক্ষোভ প্রকাশের পরেও আনুষ্ঠানিক ভাবে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের স্বীকৃতি পাচ্ছেন না মুক্তিযুদ্ধে গুলি খেয়ে নিহত শহীদ মুক্তিযোদ্ধা রশীদ আকনের সন্তানেরা। বর্তমান সময়ে শফিউল রশিদ নান্নু, রেজাউল রশিদ আলম ও মোঃ দুলাল আকন এবং বোন যথাক্রমে বেবী আক্তার, রওশন আরা রুনু, রওশন আরা সালমা, নাজমা আক্তার মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের পরিচয়ে মাথা উঁচু করে দাড়াতে চান । ১৯৭১ সনের মহান মুক্তিযুদ্ধে হানাদারের গুলিতে নিহত পটুয়াখালীর এই মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যরা ভুগছেন হীনমন্যতায়। যুদ্ধ পরবর্তী সময়ের দাপ্তরিক যাবতীয় প্রমানপত্র থাকা স্বত্বেও পাননি সরকারি কোন স্বীকৃতি। পটুয়াখালী জেলার সদর উপজেলাধীন বহালগাছিয়ার পূর্ব হেতালিয়া গ্রামের মৃত হাকিম আলী আকন এর পুত্র আঃ রশিদ আকন ছিলেন যুদ্ধ সময়কালীন সংগ্রাম কমিটির জেলা সদস্য এবং ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি। ১৯৭১ সনের ২৬শে এপ্রিল পাক-হাদার বাহিনীর বিমান আক্রমনে পটুয়াখালী জেলা দখলের সময় হানাদার বাহিনীর গুলিতে জেলা প্রশাসকের বাসভবনের দক্ষিন পার্শ্বে তৎকালনি জেলা প্রশাসক এম.এ.আউয়ালের সাথে গুলিবিদ্ধ হন। সৌভাগ্য ক্রমে জেলা প্রশাসক বেচে গেলেও নিহত হন আবদুর রশীদ আকন। শহীদ রশীদ আকনের সম্বন্ধে জানতে চাইলে পটুয়াখালী জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মতিউর রহমান খান বলেন, আঃ রশীদ আকন স্থানীয় আ‘লীগের নেতা ও মুক্তিযুদ্ধের একজন সক্রিয় সংগঠক ছিলেন বিধায় পাক-বাহিনী পটুয়াখালী শহরস্থ পুরান বাজারে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ী অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে ধবংস করে দেয়। যাতে তৎকালীন সময়ে এই শহীদ পরিবারটি আর্থিক এবং মানষিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। পটুয়াখালী সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বাদল ব্যানার্জী বলেন, ১৯৭১ সনে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে   আঃ রশিদ ইউনিয়ন সংগ্রাম পরিষদের কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি সরকারী জুবলী হাই স্কুলের মাঠে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষন গ্রহন করেন এবং যুদ্ধে শাহাদৎ বরণ করেন। আমরা বর্তমান সরকারের কাছে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় শহীদ রশীদ আকনের নাম অর্ন্তভুক্তির জোর দাবী জানাচ্ছি। এ প্রসঙ্গে পটুয়াখালী কালিকাপুর ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শাহ জাহান হাওলাদার, মুক্তিযোদ্ধা আইয়ুব আলী মৃধা, ছোবাহান মৃধা, আয়ুব আলী মাদবর জোর দাবী করে বলেন, রশীদ আকনের পরিবার পটুয়াখালী জেলার একটি সভ্রান্ত পরিবার তার সন্তানরা মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে এ প্রত্যাশা আমাদের সকলের হেতালিয়া গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি আঃ বারেক আকন বলেন, আঃরশীদ আকন আমাদের এলাকার কৃতি সন্তান আমাদের গর্ব। তার শহীদ হওয়ার পরে আমরা তার নামে রাস্তা নামকরনের জন্য দাবী জানিয়েছিলাম যা বাস্তবায়নে সুপারিশ করেছিলেন প্রাক্তন মরহুম প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান সহ প্রভাবশালী মন্ত্রী ও সাংসদরা। শহীদ রশীদ আকনের পুত্র রেজাউল রহমান আলম জানান, যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে তৎকালীন সরকার কর্তৃক প্রদেয় ২০ হাজার টাকা আমরা বঙ্গবন্ধুর হাতে ফেরত দিয়েছিলাম। কিন্তু আজ পর্যন্ত তার পরিবার সরকারী স্বীকৃতি না পাওয়ায় আমরা হতাশ। বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমাদের জোর দাবী, বীর মুক্তিযোদ্ধা রশীদ আকনের নাম গেজেট অর্ন্তভুক্তি করে তার সন্তানদের মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হোক।