গোটা দক্ষিণাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহে ভয়াবহ বিপর্যয়

1

অতুল পাল বাউফল বিশেষ প্রতিনিধিঃ বাউফলসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহে ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। দিন রাত মিলিয়ে ৪/৫ ঘন্টাও বিদ্যুৎ থাকছে না। দুর্বিসহ গরমে শিশু ও বৃদ্ধদের নানা রকম জটিলতা দেখাসহ সাধারন মানুষ অস্থির হয়ে পরছে। ব্যাবসা-বাণিজ্য, কলকারখানার উৎপাদন স্থবির হয়ে রয়েছে। বিপর্যয় কাটিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরো ৩/৪ মাস সময় লাগবে বলে পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে যে পরিমান বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয় তার পরিমান চাহিদার তুলনায় অনেক কম। একারণে পদ্মার ওপার কুমিল্লা ও ঢাকা অঞ্চলের দুটি ২৩০ কেভি লাইন থেকে দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে চাহিদা মোতাবেক বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো। কিস্তু সাম্প্রতিক ঝড়ে ওই দুটি লাইনের ভৈরব নদী ক্রোসিংয়ের টাওয়ারটি মারাতœক ক্ষতি হয়। যারফলে ঢাকা ও কুমিল্লা থেকে এখন একটি মাত্র লাইন দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু একটি লাইন দিয়ে চাহিদা মোতাবেক বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছেনা। ভৈরবের টাওয়ারটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৩৮ টি জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিপর্যয় ঘটেছে বলে সূত্র জানিয়েছেন। সূত্র আরো জানান, ক্ষতিগ্রস্ত টাওয়ারটি পূন:নির্মাণ করতে ইতিমধ্যেই দক্ষিণ কোরিয়া থেকে একটি প্রকৌশলীর দল এসে কাজ শুরু করেছেন। তবে ওই টাওয়ারটি পূননির্মাণে ৩ থেকে ৪ মাস সময় লাগতে পারে। অপরদিকে ভোলার ২২৫, ভেড়ামারার ৩৬০ ও সিরাজগঞ্জের ২২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জেনারেশন রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ রয়েছে। ফলে গোটা দক্ষিণাঞ্চলেই বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হতে ৩/৪ মাস সময় লাগবে। বাউফল পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার একেএম আযাদ জানান, কাল বৈশাখী ঝড়ে ভৈরবের ক্রোসিং টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ছাড়াও বাউফল, দশমিনা, গলাচিপা, কলাপাড়াসহ পটুয়াখালী জেলার বিভিন্ন এলাকার অভ্যন্তরীন লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সেগুলো মেরামত করতে পল্লী বিদ্যুতের কর্মীরা দিন রাত কাজ করছেন। তবে অভ্যন্তরীন লাইনগুলোও ঠিক হতে এক মাসের বেশি সময় লেগে যাবে। ভোলা, ভেড়ামারা ও সিরাজগঞ্জের জেনারেশন অচিরেই চালু হতে পারে। ওই জেনারেশনগুলো চালু হলে বিদ্যুৎ সরবরাহে কিছুটা স্বস্তি আসবে। এদিকে আসন্ন রমজানে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে ব্যাবসায়িদের অনেক ক্ষতির সম্মূখীন হতে হবে বলে ব্যাবসায়িক নেতৃবৃন্দরা আশংকা প্রকাশ করেছেন। ইলিশ মৌসুমে বরফকল চালু রাখতে না পারলে মিল মালিকসহ দেশের অর্থনীতির ওপর মারাতœক প্রভাব পরতে পারে বলেও আশংকা রয়েছে। এদিকে পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পক্ষ থেকে এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সাময়িক এ দুর্ভোগ কাটিয়ে উঠতে গ্রাহকদের সার্বিক সহযোগিতা চেয়েছেন।