ঘুম নেই পটুয়াখালীর দর্জিপাড়ায়

7

স্টাফ রিপোর্টারঃ  টেবিলে কাপড় বিছানো।  স্কেল, ফিতা দিয়ে মাপদেয়া, চক দিয়ে আকা। তারপরে কচ কচ করে কাচিতে কাপড় কাটা।  পোশাক বানানোয় ব্যস্ত দর্জিরা। পাশেই সেলাই মেশিনের খর খর শব্দ। ঘুম নেই পটুয়াখালীর দর্জিপাড়ায়।

ঈদকে সামনে রেখে ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ব্যস্ত সময় পাড় করছেন দর্জিবাড়ির কারিগররা। জেলার বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা  গেছে দর্জির দোকানের কারিগরদের এখন দম ফেলারও সময় নেই। দিন-রাত নতুন নতুন পোশাক বানিয়ে চলছেন দর্জিরা।

জেলা শহরের কালিবাড়ি রোডের চন্দ্রিমা টেইলার্সের স্বত্বাধিকারী সুভাষ চন্দ্র দাস জানান, পাঁচজন কারিগর দিয়ে প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছিলাম। রোজায় কাজের চাপ বাড়ায় আরও কয়েকজন কারিগর নিয়োগ দিয়েছি। তারপরেও গ্রাহক সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কাজের অর্ডার এখন পর্যন্ত ভালো আছে। আরও ৫ থেকে ৭ দিন পরে অর্ডার গ্রহন করা বন্ধ করে দিবো।

পোশাক  সেলাইয়ের মজুরি প্রসঙ্গে জানান, সুতি থ্রি-পিচের মজুরী নেওয়া হয় ২৫০ টাকা, সুতি থ্রি-পিচ ডিজাইন ৩৫০ টাকা, থ্রি-পিচ ডাবল ৪২০ টাকা, আনারকলি থ্রি-পিচ ৫০০ টাকা, ঝিলিক ৫০০ টাকা, লেহেঙ্গা ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা  নেওয়া হচ্ছে।

শহরের লেডিস টেইলার্সে ঈদের পোশাক বানাতে এসেছেন সালমা চৌধুরী। তিনি বলেন,  রেডিমেড  পোশাকের  দোকানে একই নকশার অনেক  পোশাক থাকে। তাই রেডিমেট পোশাক যেটা ক্রয় করা হয় সেটা কমন হয়ে যায়। এজন্য প্রতিবারই ঈদে নিজের পছন্দমতো কাপড় কিনে দর্জির কাছে বানাতে দেই। ফলে আমার ঈদের পোশাক টি সবার থেকে আলাদা হয়।’

সুতা ঘরের মালিক পবিত্র কুন্ড (রঙ্গ) জানান, ‘ঈদের সময় সবাই চায় নতুন  পোশাক পড়তে। রেডিমেড পোশাকের  দোকানে একই নকশার অনেক  পোশাক থাকে। তাই যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিক ফ্যাশনের  পোশাক তৈরি করার জন্য নারীরা ভির করেন আমার দোকানে। কালারের সঙ্গে মিল রেখে বিভিন্ন গলার ডিজাইন ও লেচ পুতি ক্রয় করেন নারীরা। এ কারণে আমার  দোকানে প্রচুর ভিড় হচ্ছে।

পটুয়াখালীর একটি  বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ফুয়াদ রাসেল  পোশাক বানাতে এসেছেন আমিরাত টেইলার্সে। ফুয়াদ রাসেল বলেন,  ছোটবেলা  থেকেই তিনি তৈরি করা শার্ট-প্যান্ট পরেন। তাই এবার ঈদেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। একটি শার্ট ও একটি প্যান্ট ৭০০ টাকা মজুরিতে  সেলাই করিয়েছেন তিনি।

জেলা শহরের আমিরাত মাস্টার টেইলার্সের স্বতাধিকারী মো: আবদুর রব সিকদার জানান, জেলার অন্য দর্জিদের তুলনায় তার সার্ভিস ভালো। এ কারণে আমার  দোকানে ভিড় হচ্ছে বেশী । তাই রমজানের শুরুতে কাজের চাপ  বেড়েছে।

পোশাক সেলাইয়ের মজুরি প্রসঙ্গে জানান, প্রতি পিচ শার্টের মজুরী নেওয়া হয় ৩০০ টাকা, প্যান্ট ৪০০ টাকা, ফতুয়া ৩০০ টাকা, প্রিন্স কোর্ট ৩৬০০ টাকা  নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া এবারে ঈদের বাজার জমতে আরও ২/৩ দিন লাগবে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।