ঘুষ-দুর্নীতির প্রতিকার  চেয়ে ২৮ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের অভিযোগ

6

গোফরান পলাশ, কলাপাড়া বিশেষ প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক মোঃ নেছার উদ্দিনের দৌরাত্ম্য থেকে পরিত্রাণ চেয়ে এবার ২৮ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

লিখিত অভিযোগে জানা যায়, কলাপাড়া মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের কর্মচারী মোঃ নেছার উদ্দিন এখন মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুল-মাদ্রাসার শিক্ষকদের কাছে আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। সরকার বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের বই দিলেও তা সংগ্রহে নেছার উদ্দিনকে বই প্রতি পনের পয়সা দিতে হয়। এমনকি ঢাকা থেকে বই আনার খরচ বাবদ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতি পাঁচ শ’ থেকে এক হাজার টাকা, উপবৃত্তি প্রদানে প্রতিষ্ঠান প্রতি দুই হাজার টাকা, শিক্ষক-কর্মচারীর নতুন এমপিও, টাইম স্কেল, ইনডেক্স ডিলেট ও সংশোধনীসহ অনলাইনে আবেদন অগ্রায়ণে দশ থেকে পনের হাজার টাকা আদায় করা হয়। প্রতিষ্ঠানের সাধারণ তথ্য জমাদানে পাঁচ শ’ থেকে দেড় হাজার, উপ-বৃত্তির আপিল ফরম জমাদানে দুই হাজার টাকা, ইএমআইএস ও ব্যানবেইজ বার্ষিক জরিপ হার্ডকপি জমাদানে ছয় শ’ টাকা, মাসিক বেতনের রিটার্ণ ফরমে দুই শ’ টাকা, সেকায়েপ কর্তৃক এসিটি শিক্ষক পাওয়ার আবেদন/চুক্তি অগ্রায়নে প্রতিষ্ঠান প্রতি আট হাজার টাকা দিতে বাধ্য করা হয়। এসব অপকর্ম ছাড়াও উপ-বৃত্তির টিউশন ফি, আইসিটি গ্রান্ট. পিটিএ গ্রান্টসহ সবকাজে নেছারুদ্দিনকে আর্থিকভাবে যোগান দিতে হয়। নইলে কোন কাজ সম্পাদন করতে পারেন না শিক্ষকরা। এমন দুর্নীতি আর জিম্মিদশা থেকে প্রতিকার চেয়ে পহেলা ফেব্রুয়ারি কলাপাড়ায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদকের) গণশুনানি চলাকালে শিক্ষক মোঃ জুনায়েত হোসেন একটি লিখিত অভিযোগ উত্থাপন করেন। জুনায়েত নেছার উদ্দিনের বিরুদ্ধে এন্তার অভিযোগ তুলে ধরেন। এ কর্মচারীর অনিয়ম-দুর্নীতির প্রতিকার চেয়ে ২০০৯ সালে ৩৮ জন শিক্ষক যৌথ স্বাক্ষরে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়। কিন্তু অদৃশ্য শক্তির কারনে তার বিরুদ্ধে কোন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

ভুক্তভোগী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানগণ জানান, ১৯৯৮ সাল থেকে রহস্যজনকভাবে নেছার উদ্দিন কলাপাড়ায় কর্মরত রয়েছেন। শিক্ষকরা নেছার উদ্দিনকে অন্যত্র দ্রুত বদলী করে নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন।

অভিযুক্ত নেছার উদ্দিন জানান, তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কাজী রুহুল আমিন জানান, বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।