চরাঞ্চলে ধান কাটা মৌসুমে তৎপর লাঠিয়াল বাহিনী সীমানা বিরোধকে কাজে লাগিয়ে চলে ধান লুট

5

রিপন কর্মকার, দশমিনা ঃ পটুয়াখালীর দশমিনার চরাঞ্চলে আর কিছু দিনের মধ্যে আমন ধান কাটা শুরু হবে। ধান কাটার মৌসুমকে সামনে রেখে চরাঞ্চলে লাঠিয়াল জোতদার বাহিনী তৎপর হয়ে উঠেছে। ধান কাটার মৌসুম এলেই চরাঞ্চলের কৃষকের চোখেমুখে দেখা যায় আতংকের ছাপ তাদের কষ্টে অর্জিত সোনালী ফসল আমন ধান নিয়ে। প্রতি বছরই জোতদার লাঠিয়াল বাহিনীর রক্তচক্ষু পড়ে কৃষকের পাকা ধানের ওপর। ধান কাটার মৌসুমে জোতদার লাঠিয়াল বাহিনী রাতারাতি চরের জমির মালিক হয়ে যায়। কেউ ডি, সি, আরের মাধ্যমে কেউবা ভূয়া কাগজ পত্রের মাধ্যমে। এছাড়া উপজেলার চরহাদীর সাথে লালমোহন উপজেলার চর কচুখালী এবং চর বোরহানের সাথে চরফ্যাশন উপজেলার চর কচুখালীর এক হাজার একর জমি নিয়ে দীর্ঘ দিন সীমানা বিরোধ থাকায় ঐ এলাকার কৃষকেরাও আতংকে দিন কাটাচ্ছেন। ধান লুটের আশংকায় কৃষকেরা দিনরাত পালাকরে পাহারা দিচ্ছে তাদের কষ্টে অর্জিত ফসল। উপজেলার চরহাদী, চরবোরহান, চরশাহজালাল, চরবাশবাড়িয়া, চরভূথাম, চরহায়দর, চরসায়মুন, চরচঙ্গা, চরকাউয়া ও চরফাতেমায় ধান কাটার মৌসুমে মামলা, হামলা, সংর্ঘষ, ধান লুটপাটের ঘটনা ঘটে থাকে। চরগুলো উপজেলার সংঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় গোলযোগের সৃষ্টি হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছতে ট্রলার যোগে ৩/৪ঘন্টা ও নৌকাযোগে ৭/৮ ঘন্টা সময় লাগে। ততক্ষনে লাঠিয়াল বাহিনী ধান কেটে নিয়ে চলে যায়। দশমিনার চরাঞ্চলে পুলিশি খবরদারি জোরদার করা হলেও অস্থায়ী কোন পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়নি। স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে লাঠিয়ালদের তালিকা করার প্রস্তুতি চলছে। চর বোরহানের কৃষক নেতা নজির সরদার জানান, জোতদার লাঠিয়ালরা চরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থান নিয়ে ধান লুটের পায়তারা চালাচ্ছে বলে তারা খবর পেয়েছেন। চর উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ও চর হাদীর কৃষক কালু মৃধা জানান, লাল মোহনের চর মোতাহার ও দশমিনার চরহাদীর সীমান্তবর্তী এলাকার চাষ করা ৫০০ একর জমির পাকা ধান নিয়ে তারা আতংকে রয়েছেন। ঐ এলাকার কৃষকেরা রাত দিন পালা করে ধান পাহারা দিচ্ছেন। এ ব্যাপারে দশমিনা থানার ওসি মোঃ শাহবুদ্দিন জানান, ধান কাটার মৌসুমে চরাঞ্চলে পুলিশি নজরদারী জোরদার করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আজহারুল ইসলাম জানান, চার নভেম্বর বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ভোলা ও পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ও বিরোধপূর্ন উপজেলার নির্বার্হী কর্মকর্তা ও এ্যাসিল্যান্ডদের নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানেই সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।