চাঁদা না পেয়ে  ব্যবসায়ীর হাত ভেঙ্গে দিয়েছে  র্দূবৃত্তরা

6

কে এম সোহেল, আমতলী প্রতিনিধিঃ বরগুনার তালতলী উপজেলার কচুপাত্রা বাজারের এক ওষুধ ব্যবসায়ীর নিকট দাবীকৃত চাঁদার ৫ লাখ টাকা না পেয়ে মঙ্গলবার সকালে দীপঙ্কর নন্দী (৩৫) নামে এক ওষুধ ব্যবসায়ীকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে হাত ভেঙ্গে দিয়েছে ছাত্রলীগ নেতা মামুন ও ওয়ার্ড আওয়ালীলগ সভাপতি সস্তফা সিকদার নামে দুনেতা।  দীপঙ্করকে গুরুতর আহত অবস্থায় বরিশালের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হামলায় আহত দীপঙ্কর নন্দীর বড় ভাই তাপস নন্দী অভিযোগ করে বলেন, সোমবার বিকেলে শারিখখালী ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন বাবুলের ভাতিজা ও শারিখ খালী ই্উনিয়নের ছাত্রলীগ নেতা মো: মামুন   হাওলাদার (২৮) নন্দী ড্রাগ হাউজের মালিক দীপঙ্কর নন্দীর নিকট ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে। দাবীকৃত চাঁদার টাকা সোমবার রাতের মধ্যে তার নিকট পৌছে দিতে বলে। দাবীকৃত টাকা না পেলে পরিনতি ভয়ঙ্কর হবে বলেও শাসিয়ে যায়। দাবীকৃত চাঁদার টাকা না পেয়ে  মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে মামুন এবং তার সহযোগী শারিখখালী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড আওয়ালীগ সভাপতি মস্তফা  সিকদার নন্দী ড্রাগ হাউজে ঢুকে চাঁদার টাকা দাবী করেন। এসময় দোকানে থাকা দীপঙকর নন্দী টাকা দিতে অস্বীকার করেন। টাকা না পেয়ে  ক্ষিপ্ত হয়ে মামুন ও মস্তফা সিকদার দোকান ভাংচুর শুরু করে। এসময় দোকানে উপস্থিত দীপঙ্কর নন্দী বাঁধা দিলে তাকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। হামলায় দীপঙ্করের বাম হাত ভেঙ্গে যায়। স্থানীয় এবং স্বজনরা তাকে   উদ্ধার করে তাৎক্ষনিক বরিশাল আরিফ মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই জানান, অভিযুক্ত মামুন একজন মাদকাশক্ত। সে চাকামইয়া ইউনিয়নের চাঞ্চল্যকর বিএনপি নেতা মনির হত্যা মামলার একজন এজাহার ভূক্ত আসামী।

আহত দীপঙ্কর নন্দী জানান, কিছু বুঝে ওঠার আগেই মামুন এবং মস্তফা সিকদার দোকানে ঢুকে দাবী কৃত ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করেন না পেয়ে আমাকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে  হাত ভেঙ্গে দেয় এবং রক্তাক্ত জখম করে।

অভিযুক্ত মামুন হাওলাদার জানান, সোমবার বিকেলে নন্দী ড্রাগ হাউজের তাপসের কাছ থেকে মাথা ঠান্ডা রাখার ঔষধ ‘ট্রান্সফ্রি’ নামক ট্যাবলেট  নিয়ে খাই। ওই ট্যাবলেটে ডিসেম্বরের ১৬ তারিখ পর্যন্ত মেয়াদ থাকলেও খাওয়ার পর আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। এনিয়ে  মঙ্গলবার সকালে  নন্দী ড্রাগ হাউজে গিয়ে জিজ্ঞাসা করতে গেলে তাপস ও তার ভাই দ্বীপঙ্কর নন্দী খেপে গিয়ে আমাকে গালাগাল করে। এ নিয়ে তাদের সাথে মারধরের ঘটনা ঘটে।  চাঁদা দাবীর বিয়টি তিনি মিথ্যাদাবী করেন।

তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কমলেশ চন্দ্র হালদার জানান, ঘটনার খবর পেয়ে একজন উপ-পরিদর্শকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। এখনো মামলা হয়নি। মামলা হলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।