জনজীবনে চরম ভোগান্তি কুয়াকাটার মৎস্য বন্দর মহিপুর সড়কের বেহাল দশা

2

কুয়াকাটা প্রতিনিধি ঃ কুয়াকাটার মৎস্য বন্দর মহিপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়ীবাঁধ সড়ক বেহাল দশায় পরিনত হয়েছে। রাস্তার মধ্যে খানাখন্দের সৃস্টি হওয়ায় ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছে জনসাধারণ। সড়কটির বিভিন্ন পয়েন্টে বড় বড় গর্তের সৃস্টি হয়ে মরণ ফাঁদে পরিনত হয়েছে।

 

সরেজমিনে জানা গেছে, কুয়াকাটাসহ উপকূলীয় এলাকার অন্যতম সাপ্তাহিক বাজার মৎস্য বন্দর মহিপুর। ফলে এ অঞ্চলের প্রান্তিক চাষি ও সাধারণ মানুষ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য আসেন এখানে। কৃষকদের উৎপাদিত ফসলাদি বাজারজাত করতে পরিবহন নিয়ে এসে পড়তে হচ্ছে ভোগান্তিতে। অন্যদিকে মহিপুরে রয়েছে একটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র, ভূমি অফিস, কয়েকটি সরকারি-বেসরকারী ব্যাংক, সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল কলেজ, ২০-২২ টি বরফকল ও দক্ষিণ বঙ্গের বৃহত্তম মৎস্য বন্দর। ফলে বিভিন্ন এলাকা থেকে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার লোকের আগম ঘটে। অপরদিকে স্কুল, কলেজ পড়–য়া ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকদের অনেকেরই এ রাস্তাদিয়ে মহিপুর আসতে হচ্ছে। মৎস্য বন্দরের নদী ঘেষা বরফকল থেকে বিভিন্ন সময় নৌ-পথ ছাড়া স্থল পথ দিয়ে বরফ নিতে হচ্ছে ক্রেতা সাধারণের।

দেখা গেছে, মহিপুর জিরো পয়েন্ট থেকে পশ্চিম দিকে ৩ কিঃ মিঃ এবং পূর্ব দিকে ৪ কিঃ মিঃ রাস্তা চলাচলের জন্য অনুপযোগি হয়ে পড়েছে। অপর দিকে মহিপুরের অদুরে নিজামপুর বেড়ীবাঁধ ভেঙ্গে ভিতরে পানি প্রবেশ করায় সেখানকার হাজার হাজার মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছে। সমুদ্রের পানি প্রবেশ করায় শত শত একর জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। প্রতি অমাবশ্যা-পূর্ণিমার জোয়ারে পানি ভিতরে প্রবেশ করে। তখন অসহায় হয়ে দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন যাপন করতে হচ্ছে ওই সকল মানুষদের। দু’মুঠো ভাতের সন্ধানে দিনের বেলা কৃষকরা মাঠে, জেলেরা সমুদ্রে, শ্রমিকরা বিভিন্ন জায়গায় কাজ সেরে বাড়ি ফিরে কুটিরে আসেন বিশ্রামের জন্য। অথচ একটু শান্তিতে ঘুমাতে পাওে না সমুদ্র কোল ঘেষা মানুষগুলো। কখন যেন সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ এসে তাদের ভিটে ছাড়া করে এমন দুশ্চিন্তার মধ্যে জীবন যাপন করতে হচ্ছে তাদের।

 

নিজামপুর নিবাসী নুর মোহাম্মাদ জানান, নিত্যদিন আমাদের মৃত্যুর সাথে যুদ্ধকরে বাচতে হচ্ছে কে নেয় কার খবর। সেখানকার আরেক বাসিন্দা মোকলেছ গাজীর সাথে কথা হলে তিনি জানান, নির্বাচন এলে নেতারা বিভিন্ন সময় অনেক আশার বাণী শুনান, কিন্তু কাজ শেষ হলে তাদের আর খবর থাকে না।

বেড়ীবাঁধ হচ্ছে পাউবো’র, কার্পেটিং হচ্ছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের এ জন্য কাজে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

 

মহিপুর ইউনিয়ন আ’লীগ নেতা ও সমাজ সেবক বশির আকন জানান, ডিজিটাল যুগে এ অঞ্চলের রাস্তা-ঘাট এ অবস্থায় থাকার কথা নয়। এখানকার নেতাদের কাজ করতে আন্তরিকতার অভাব রয়েছে। রাস্তা সংস্কারে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করলে এর থেকে পরিত্রান পাওয়া সম্ভব।

এ ব্যাপারে মহিপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আঃ ছালাম আকন বলেন, আমি অল্পদিন হলো চেয়ারম্যান হলাম, একদিনেতো সব করা সম্ভব নয়। রাস্তা-ঘাট সংস্কারের জন্য এমপি মহোদ্বয়ের সাথে যোগাযোগ করেছি এবং চেষ্টা চালাচ্ছি।

 

স্থানীয় সরকার প্রকৌশ অধিদপ্তর’র কলাপাড়া উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ আঃ মান্নান জানান, ক্ষতিগ্রস্থ রাস্তাগুলো ইতোমধ্যে আমরা তালিকা করে বিভিন্ন দপ্তরে প্রেরণ করেছি এখন বরাদ্দ পেলে কাজ করা যাবে।

 

কলাপাড়া উপজেলা পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আবুল খায়ের জানান, বর্তমানে কোন বরাদ্দ নেই, বরাদ্দ পেলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে। # # #