জলকেলি উৎসবের মধ্যদিয়ে রাখাইনদের বর্ষবরণ

2

ডেক্স রিপোর্ট ঃ পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আদিবাসী রাখাইন সম্প্রদায় জলকেলি  উৎসবের মাধ্যমে বর্ষবরণ পালন করেছে। সোমবার দুপুরে উপজেলার গোড়াআমখোলা রাখাইন পল্লীতে বাংলাদেশ রাখাইন স্টুডেন্ট’স ইউনিটি (বিআরএসইউ)’র আয়োজনে ও কারিতাস আইসিডিপি রাখাইন প্রকল্পের সহযোগিতায় জলকেলি উৎসবটি পালিত হয়েছে। পটুয়াখালী-বরগুনা জেলার কয়েক’শ রাখাইন এসময় উপস্থিত ছিলেন। কুয়াকাটা পৌর মেয়র আঃ বারেক মোল্লা ফিতা কেটে এ জলকেলি (ওয়াটার ফেসটিবল) উৎসব উদ্বোধন করেন।

রাখাইন সম্প্রদায় বিশ্বাস করে বর্ষবরণ উৎসব জলকেলিতে মিলিত হয়ে একজন অন্যজনকে জল ছুড়ে মারলে পুরণো দিনের পাপ পন্কিলতা মোচন হয়। এ ব্রত নিয়ে এ অঞ্চলের রাখাইন নারী, পুরুষ, আবাল, বৃদ্ধা, শিশু বনিতারা নতুন পোশাকে উৎসবস্থলে সমবেত হয়। দিনবর নানা ধরনের পিঠা পুলি দিয়ে আতিথিয়েতা করার তারা। উৎসব ঘিরে বিহারগুলোতে আলোক সজ্জ্বা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান শেষে বিকেল ২টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উৎসবে মিলিত হয়। সার্বজনিন এ জলকেলি উৎসব নানা পেশার অসংখ্য মানুষ উপভোগ করেছেন।

বাবু চোতেন জানান, তিন দিনের এ জলকেলি উৎসবটি আর্থিক সংকটের কারনে একদিনে সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি আরোও বলেন, উৎসবের জন্য সংগৃহিত পানি রাখাইন ছেলেদের নির্ধারিত মূল্যে সংগ্রহ করতে হবে এবং মেয়েদেরকে বিনামূল্যে সরবারহ করবে আয়োজকরা। এ পানি যুবকরা যুবতীদের গায়ে ছুরে মারবে। তেমনি যুবতীরাও যুবকের গায়ে মারবে। এক্ষেত্রে একজন যুবক শুধুমাত্র তাদের পছন্দের একজন যুবতীকেই পানি ছুরবে। সঠিক পরিচর্চার অভাবে আদিবাসী রাখাইনদের নতুন প্রজন্ম ভুমি, ভাষা, শিক্ষা ও সংস্কৃতি ভুলতে বসেছে এমনটাই দাবী করেছেন রাখাইন অধিকার আন্দোলনকর্মী মিঃ মংম্যা ।

কারিতাস রাখাইন আইসিডিপি রাখাইন প্রকল্পের বরিশাল অঞ্চলের ইনচার্জ মেইনথিন প্রমিলা বলেছেন, ‘বিলুপ্তি হওয়া কুয়াকাটার আদিবাসী রাখাইনদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি পুনুরুদ্ধারের জন্য কারিতাস চেষ্টা চালাচ্ছেন।

আয়োজক কমিটির সভাপতি ও বাংলাদেশ রাখাইন স্টুডেন্ট’স ইউনিটি(বিআরএসইউ)’র কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি  অংনাইন বলেন, কুয়াকাটার আদিবাসী রাখাইনদের সংস্কৃতি এখন বিলুপ্তির পথে। সকলের আন্তরিকতা থাকলে পুনরায় এ সম্প্রদায়কে মূল ধারায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে ।