জলবায়ু অভিযোজনের ক্ষতিপূরন হিসেবে ঋন নয়,অনুদান চাই পটুয়াখালীতে মানব বন্ধন

2

pic-1

 

চিনময় কর্মকার : “জলবায়ু অভিযোজনের ক্ষতিপূরন হিসেবে ঋন নয়, অনুদান চাই” এই স্লেগান নিয়ে শনিবার সকাল সাড়ে ১০ টায় পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের সামনে মানব বন্ধন করেছে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)।

২৯ নভেম্বর ২০১৫ থেকে ১২ ডিসেম্বর ২০১৫ পর্যন্ত জাতিসংঘ ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (ইউএনএফসিসিসি) কর্তৃক প্যারিসে অনুষ্ঠিতব্য কপ-২১ উপলক্ষে টিআইবি কিছু সুনির্দিষ্ট দাবী আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরতে ধারাবাহিক প্রচারণামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২৮-২৯ নভেম্বর পৃথিবীকে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি থেকে বাঁচাতে প্যারিস সম্মেলনে আইনী বাধ্যতায় চুক্তির জন্য শিল্পোন্নত দেশগুলোর প্রতি দাবি জানাতে বিশ্বব্যাপী ক্লাইমেট মার্চের অংশ হিসেবে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) দেশব্যাপী ২৮ নভেম্বর ২০১৫ মানববন্ধনের আয়োজন করে।

সনাক সভাপতি মো: আবদুর রব আকন এর সভাপতিত্বে ও টিআইবি’র এরিয়া ম্যানেজার মো: হুমায়ুন কবীর এর সঞালনায় মানববন্ধনে সনাকের জলবায়ু বিষয়ক উপকমিটির আহ্বায়ক পীযূষ কান্তি হরি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, জাতিসংঘ ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (ইউএনএফসিসিসি) কর্তৃক প্যারিসে অনুষ্ঠিতব্য কপ-২১ উপলক্ষে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে জলবায়ু তহবিলের বরাদ্দ ও ব্যবহারে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, শুদ্ধাচার এবং নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিতে চাহিদা বৃদ্ধি করাই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।

 

সনাক সভাপতি মো: আবদুর রব আকন বলেন, জলবায়ু তহবিলের বরাদ্দ ও ব্যবহারে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, শুদ্ধাচার ও নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)’র জলবায়ু অর্থায়নে সুশাসন কার্যক্রমের আওতায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে চাহিদা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন ধরণের সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সুনির্দিষ্টভাবে টিআইবি জলবায়ু অভিঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত জনসাধারণকে জলবায়ু তহবিলের সঠিক বরাদ্দ, বরাদ্দকৃত তহবিল সংক্রান্ত তথ্য জানানো, প্রকল্প প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নে তদারকিতে নাগরিক অংশগ্রহণ, প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিতে গবেষণা ভিত্তিক এডভোকেসি এবং প্রচারণা চালাচ্ছে।

 

মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সনাক সদস্য পুষ্প রানী সাহা। উপস্থিত ছিলেন, এফপিএবি’র জেলা কর্মকর্তা মো: লিয়াকত হোসেন, মেরী স্টোপস এর ম্যানেজার মো: মিজানুর রহমান, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ, সনাক সদস্য অধ্যাপক মফিজ উদ্দিন চৌধুরী, এড. সহিদুর রহমান, স্বজন সদস্য তপন কর্মকার, কামাল হোসেন রফিক, বঙ্কিম চন্দ্র সুকুলসহ সনাকের ইয়েস ও ইয়েস ফ্রেন্ডস সদস্যগণ। মানববন্ধনে সনাক টিআইবি’র পক্ষ থেকে টিআইবি’র সহকারি ম্যানেজার (অর্থ ও প্রশাসন) মো: সহিদুল ইসলাম নি¤েœাক্ত দাবীসমূহ উত্থাপন করেন…..

দাবী সমূহ: বৈশ্বিক :বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলায় শিল্পোন্নত ও উদীয়মান অর্থনীতির দেশসমূহ প্রাক-শিল্পায়ন সময়ের তুলনায় বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির গড় হার সর্বোচ্চ ২ ডিগ্রী সেলসিয়াসে সীমাবদ্ধ রাখতে আইনী বাধ্যতামূলক চুক্তি বাস্তবায়ন করা; প্যারিস চুক্তিতে আইনী বাধ্যতার আওতায় ‘দুষণকারী কর্তৃক ক্ষতিপূরণ’ নীতি মেনে কোনো অবস্থাতেই ঋণ নয়, উন্নয়ন সহায়তার “অতিরিক্ত” ও “নতুন” শুধুমাত্র অনুদানকে স্বীকৃতি দিয়ে জলবায়ু অর্থায়নের সর্বসম্মত সংজ্ঞা নির্ধারণ করতে হবে; শিল্পোন্নত দেশসমূহ কর্তৃক ২০১৬ হতে ২০৩০ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত দেশসমূহকে দীর্ঘমেয়াদে যথার্থ এবং চাহিদা ভিত্তিক অর্থায়নের পথনকশা (রোডম্যাপ) প্রণয়ন করা; টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতে দারিদ্র বিমোচনে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন তহবিলের বরাদ্দ অব্যাহত রাখা এবং প্রতিশ্রুত জলবায়ু তহবিল প্রদানের সুস্পষ্ট অঙ্গীকার প্রদান ও তা বাস্তবায়নে দিকনির্দেশনা প্যারিস চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা; জিসিএফ এবং অন্যান্য উৎস হতে ক্ষতিগ্রস্ত দেশসমূহকে তহবিল প্রদানে অভিযোজনকে অগ্রাধিকার দেওয়া; জিসিএফ ও অন্যান্য উৎস হতে জলবায়ু তহবিল প্রদানের ক্ষেত্রে শিল্পোন্নত ও উদীয়মান অর্থনীতির দেশসমূহের কাঙ্খিত স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ প্যারিস চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা; এবং জলবায়ু তহবিলের স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিতে জলবায়ু তহবিল প্রদানকারী ও গ্রহণকারী উভয় পক্ষ কর্তৃক সকল প্রকার আর্থিক লেনদেনের প্রতিবেদন স্বেচ্ছায় প্রকাশ করা; আন্তর্জাতিক অর্থ লগ্নিকারী সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সমুহ হতে তহবিল ছাড় এবং সংগ্রহের ক্ষেত্রে ইউএনএফসিসি’র আওতায় একটি নিবন্ধিত দপ্তর প্রতিষ্ঠা করা; জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা সংক্রান্ত সকল কার্যক্রমে ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী বিশেষ করে নারী, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং আদিবাসীদের ব্যাপক ও কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা ও ঝুঁকি সংক্রান্ত বিজ্ঞান-ভিত্তিক তথ্যের ভিত্তিতে সমন্বিত অভিযোজন কর্মপরিকল্পনা দ্রুত প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা থাকা; প্যারিস চুক্তিতে অভিযোজন বাবদ তহবিল প্রদান, প্রকল্প অনুমোদন, বাস্তবায়ন, তদারকি, নিরীক্ষা এবং মূল্যায়নের বিষয়টি সুনির্দিষ্টভাবে অন্তর্ভূক্ত করতে হবে; জলবায়ু তহবিল ব্যবস্থাপনায় ন্যায্যতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও শুদ্ধাচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠী সহ নাগরিক সমাজের সক্রিয় ও কার্যকর অংশগ্রহণ সম্পর্কে সম্ভাব্য প্যারিস চুক্তিতে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকা; জিসিএফ হতে সরাসরি তহবিল গ্রহণে এক বা একাধিক জাতীয় বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান (এনআইই) নির্ধারনে জিসিএফ সচিবালয় হতে বাংলাদেশ সহ ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর সক্ষমতা অর্জনে সুস্পষ্ট সময়াবদ্ধ পদক্ষেপ গ্রহণের অঙ্গীকার করা; জলবায়ু তাড়িত বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীকে বিশ্ব বাণিজ্য চুক্তির মোড-৪ এর আওতায় সার্বজনীন ‘প্রাকৃতিক ব্যক্তি’ (ঘধঃঁৎধষ চবৎংড়হ) হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তাদের পুনর্বাসন, কল্যাণ ও উন্নয়নে কানকুন চুক্তি ২০১০ এর আলোকে নীতিমালা প্রণয়ন, এবং জিসিএফ ও অন্যান্য উৎস হতে অভিযোজন বাবদ প্রয়োজনীয় তহবিল বরাদ্দে জোর দাবি জানানো।

জাতীয় : বিসিসিটিএফ এবং বিসিসিআরএফ পরিচালনায় প্রয়োজনীয় তহবিল বরাদ্দ অব্যাহত রাখা; জলবায়ু অর্থায়ন ব্যবস্থাপনায় ন্যায্যতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, শুদ্ধাচার ও নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিতে সকল অংশীজনের সমন্বয়ে জাতীয়ভাবে একটি সমন্বিত কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করা।