জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের পরিবর্তন হুমকিতে উপকূলের কৃষি ব্যবস্থা

0

 

কামরুল হাসান, বিশেষ প্রতিনিধিঃ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের পরিমাণ-ধরন পরিবর্তনে উপকূলের কৃষি ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়েছে। এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে কৃষির ওপর। ফলে ক্ষতির মুখে পড়ছে কৃষকরা। আর এমনি পরিবর্তন উপকূলের পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরাঞ্চলে দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন কৃষক জানান, তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের পরিবর্তনে ধান উৎপাদনের ওপর প্রভাব পড়ছে। লাগাতার খরায় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে পুড়ে যাচ্ছে বীজতলা। এছাড়া টানা বৃষ্টিপাতে জমিতে পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে বীজতলা পচন ধরছে। এসব কারণে দিন দিন কৃষি ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়ছে। ক্ষতির পরিমাণও বেড়ে চলছে। গবেষকদের মতে, জলবায়ুর প্রভাবে তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং  আবহাওয়ার স্বাভাবিক অবস্থাকে অস্বাভাবিক ও অস্থিতিশীল করে তুলছে, যার বিরূপ প্রভাব পড়ছে কৃষির ওপর। কোনো একটি নির্দিষ্ট শস্যের বেড়ে ওঠার জন্য একটি পরিমিত মানের জলবায়ুর তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, আর্দ্রতা, বায়ুপ্রবাহ প্রভৃতি উপাদানগুলোর প্রয়োজন হয়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে ইতোমধ্যে ৫০০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু গত দুই সপ্তাহের টানা বৃষ্টিপাতের কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে পচন ধরে ৯৬ হেক্টর জমির বীজতলা নষ্ট হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় আরো ৩ হেক্টর জমির বীজতলা। এ মৌসুমে আমন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৬ হাজার হেক্টর ।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, টানা বৃষ্টিপাতে রাঙ্গাবালীর বাহেরচর, কাজির হাওলা, গঙ্গিপাড়া, পুলঘাট, নেতা, ছোটবাইশদিয়ার চতলাখালী, গহিনখালী, চরতোজাম্মেল, চরইমারশন, চরমোন্তাজ,  চালিতাবুনিয়া ও বড়বাইশদিয়াসহ অন্তত ২৫ টি গ্রামের ফসলের ক্ষেত হাটু-কোমর সমান পানিতে তলিয়ে গেছে। দুই সপ্তাহ ধরে ওইসব ক্ষেতে পানি জমে থাকায় বীজ পচে গেছে। দেখা দিয়েছে বীজ সঙ্কট।

উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের চরইমারশন গ্রামের কৃষক আলমগির হোসেন বলেন, ‘এবার তিনি ৬৪০ শতাংশ জমিতে আমন বীজতলা তৈরি করেছিলেন। কিন্তু আষাঢ় মাসের শুরুতে লাগাতার খরায় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে বীজ পুড়ে গেছে। পরে আবার নতুন করে বীজ বপন করলেও গত দুই সপ্তাহের  টানা বৃষ্টিপাতে ক্ষেতে পানি জমে পচে যায় বপনকৃত বীজ। এখন দেখা দিয়েছে বীজ সঙ্কট।’ ওই গ্রামের অপর এক কৃষক হান্নান চৌকিদার বলেন, ‘বৃষ্টি ও তাপমাত্রা পরিবর্তনে চরের কৃষি ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়েছে। এর প্রভাবে দিন দিন ক্ষতির পরিমান বেড়ে চলছে। এসব কারণে হতাশ হয়ে পড়ছে কৃষকরা। তাই এর প্রতিকারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন বলে মনে করছেন তিনি।’

উপজেলার রাঙ্গাবালী ইউনিয়নের গঙ্গিপাড়া গ্রামের কৃষক শামসুল হক বলেন, ‘তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে কৃষির ওপর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। এ মৌসুমে তিনি ২০০ শতাংশ জমিতে আমন বীজ বপন করেছেন। কিন্তু শুরুতে খরায় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে ওইসব বীজ পুড়ে গেছে। এরপরে আবার বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি পচে গেছে বীজ ।’

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘টানা বৃষ্টিপাতে আমন বীজতলা বপনকৃত ক্ষেতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে বীজ পচে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বীজতলা তৈরির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।’ কৃষিবিদ মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘জলাবায়ু পরিবর্তণের কারণে জমিতে লবণাক্ততা সৃষ্টি হচ্ছে। একারণে কৃষকদের লবণাক্ততা নির্মূল জাতের ধানের চাষের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া খরাসহ বিভিন্ন কারণে দেশে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দিনে দিনে নিম্নমুখী হয়ে সেচকাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে। এর ফলে বিভিন্ন কৃষির উৎপাদন বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে।’