জাবি ছাত্র জুবায়ের হত্যা মামলায় রায় আজ এখনও ছেলের কবরের পাশে স্মৃতি খোঁজেন বাবা নি¤œ আদালতের রায় পূর্নবহালের দাবী

3

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ছাত্র জুবায়ের আহমেদ হত্যা মামলায় রায় ২৩ জানুয়ারী মঙ্গলবার ঘোষনা করার কথা রয়েছে। মৃত্যুদন্ড প্রাাপ্ত আসামিদের আপিল ও ডেথরেফারেন্সের শুনানি শেষে এ মাসের ৯ জানুয়ারী হাইকোর্ট এ মামলার রায় ঘোষনার তারিখ নির্ধারন করে। এদিকে নিম্ম আদালতের আদেশ বহাল রেখে তা দ্রুত কার্যকরের দাবী জানিয়েছেন জুবায়েরের পরিবার। আর অভিযুক্ত আসামীদের অনেকেই পলাতক থাকায় নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছেন তারা।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা সদরের মদিনা বাগ এলকার বাসিন্ধা তোফায়েল আহমেদ। বাংলাদেশ নেী বাহিনীর সাবেক এই কর্মকর্তার দুই ছেলের মধ্যে জুবায়ের ছিল ছোট। মেধাবী জুবায়ের খেপুপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও কলাপাড়া মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস কলেজ থেকে এইসএসসি পাস করে ভর্তি হয়েছিলো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে। বাবা’র স্পপ্ন ছিলো ছেলে বড় হবে প্রতিষ্ঠিত হবে। তবে তার সেই স্পপ্ন ভেঙ্গে যায় ২০১২ সালের ৮ জানুয়ারি। সে সময়ে ছাত্রলীগের অভ্যান্তরীন দন্ধে জুবায়েরকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তবে আজও জুবায়েরের কবরের পাশে ছেলের স্মৃতি খুজে বেড়ান বাবা তোফায়েল আহমেদ।

জুবায়ের হত্যার তিন বছর পরে ২০১৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার ৪ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ বি এম নিজামুল হক জুবায়ের আহমেদ হত্যা মামলার রায়ে পাঁচজনকে ফাঁসি ও ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আদেশ দেন। এ ছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় দু’জনকে খালাস দেওয়া হয়। আদালতের ওই রায়ের বিরুদ্ধ হাইকোর্টে আপিল করেন মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামি রাশেদুল ইসলাম রাজু। হাইকোর্টের বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ শুনানি শেষে ২৩ জানুয়ারি এ মামলার রায়ের জন্য দিন ধার্য করেন।

জুবায়েরের বাবা তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘আমি চাই নি¤œ আদালত যে রায় টি দিয়েছে উচ্চ আদালত যেন সেই রায়টি বহাল রাখে এবং যে সমস্থ আসামীরা বাহিরে পলাতক আছেন তাদের গ্রেফতার করে রায় কার্যকর করা হোক। তা হলেই আমার ছেলের আত্মায় শান্তি পাবে। তার হত্যাকারীরা সুষ্ঠ বিচার পাবে।’

ফাঁসির দন্ডাদেশ পাওয়া আসামিরা হলেন প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের আশিকুল ইসলাম আশিক, খান মোহাম্মদ রইছ ও জাহিদ হাসান, দর্শন বিভাগের রাশেদুল ইসলাম রাজু এবং সরকার ও রাজনীতি বিভাগের মাহবুব আকরাম। তাদের মধ্যে রাশেদুল ইসলাম রাজু ছাড়া বাকি ৪ জন পলাতক।

যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আদেশ পাওয়া আসামিরা হলেন পরিসংখ্যান বিভাগের ছাত্র শফিউল আলম সেতু ও অভিনন্দন কুন্ডু অভি, দর্শন বিভাগের কামরুজ্জামান সোহাগ ও ইশতিয়াক মেহবুব অরূপ, ইতিহাস বিভাগের মাজহারুল ইসলাম এবং অণু জীববিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র নাজমুস সাকিব তপু। যাবজ্জীবন দন্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে অরূপ পলাতক, বাকিরা কারাগারে রয়েছেন। পলাতক আসামীদের নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলেও তাদের গ্রেফতারে নেই কোন অগ্রগাতি। ফলে এখন তাদের নিরাপত্তা নিয়ে সঙ্কিত জুবায়েরের পরিবার।

জুবায়েরের মা হাসিনা আহমেদ বলেন, ‘আমার এখন একটি সন্তান আছে। জুবায়েরের হত্যাকারীরা গ্রেফতার না হওয়ায় আমি সব সময়ে একটি ভিতিকর পরিস্থিতর মধ্যে থাকি। সরকার তো রায় দিয়েছে, কিন্তু রায় তো কার্যকর হচ্ছে না। আমি তো আর ছেলে পাব না । আমার যে ভয় ভিতি তা যেন না থাকে এ জন্য দ্রুত রায় কার্যকর করা হোক। এ ছাড়া আমার পরিবারের উপর যেন কোন প্রভাব না পরে সে জন্য সরকারের কাছে আমি জোর দাবী জানাই। ’

ছাত্রলীগ কর্মী জুবায়ের হত্যার ঘটনায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তার পরিবারকে দুই লাখ টাকা দেয়া হলেও সরকারের পক্ষ থেকে কোন সাহায্য সহযোগীতা কিংবা পরিবারটি খোঁজ খবর নেয়া হয়নি।