জাল দলিল রেজিষ্ট্রি করে জমি দখলের চেষ্টা

2

কে এম সোহেল,আমতলী প্রতিনিধিঃ বরগুনার তালতলী উপজেলার মরানিদ্রা গ্রামে প্রায় ৬০ বছর আগের ক্রয়কৃত দখলীয় ১০.৬১ শতাংশ জমি সম্প্রতি ব্যাপক ক্ষমতা সম্পন্ন আম মোক্তারনামা ভুয়া দলিল রেজিষ্ট্রি করে সেই জমি দখলের পায়তারা চালাচ্ছে। ঐ জমির ৪জন মালিক আঃ গফুর, সেতারা, হাতেম আলী ও গিয়াস উদ্দিন বর্তমান দখলীয় লোকজনের কাছে ১৯৫১,১৯৫৬, ১৯৬১ ও ১৯৬৪ সালে সাব কবলা রেজিষ্ট্রি দলিল দিয়ে তখনই দখল বুঝিয়ে দেন। পরবর্তিতে ঐ দাতাগন পর্যায়ক্রমে মারা যান। ক্রয়ের পর জমি বুঝে পেয়ে এপর্যন্ত তারা ভোগ দখল করে আসছে। অথচ কতিপয় স্বার্থন্বেষী মহল তাদের স্বার্থসিদ্ধি করার জন্য ভূয়া লোক দাড় করিয়ে ঐ ৪জন মালিকের নাম দিয়েই আমতলী সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে গত ১১ এপ্রিল-২০১৬ ইং তারিখে ১৯৭৩/১৬ নং ব্যাপক ক্ষমতা সম্পন্ন আম মোক্তারনামা দলিল সম্পন্ন করেন। কিন্তু ঐ ৪জন মালিকের মধ্যে হাতেম আলী ও গিয়াস উদ্দিন নামের ২ জন ৩ যুগেরও বেশী আগে মারা গেছে বলে প্রত্যায়ন পত্র দিয়েছেন মঠবাড়ীয়া উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইব্রাহিম খলিল ফরাজী। অন্য দু’জনের মধ্যে উক্ত দলিলে উল্লিখিত আ. গহুরের এনআইডি ০৪১৮৫৩৫৬১৬২৯৩ তে উপজেলা নির্বাচন অফিসে খোজ নিয়ে জানা যায় ঐ আইডির ব্যক্তির নাম পাথরঘাটা উপজেলা মোসা. মিনারা বেগম ও অন্যজন সেতারা’র এনআইডি ০১২৫৮০১৩১৬২৯৪ তে খোজ নিয়ে জানা যায় ঐ আইডির ব্যক্তির নাম একই উপজেলার নুরুন্নাহার বেগম। ঐ স্বার্থন্বেষী মহলের মুল নায়ক ও ঐ দলিলে পরিচিত দাতা উপজেলার মরানিদ্রা গ্রামের আ. খালেক মৃধা ঐ জমি দখলে যাওয়ার জন্য তার সহযোগী আমতলী পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের শহিদুল ইসলাম শানু বাদী হয়ে গত জুন মাসে উকিল নোটিশ করান এবং ২৫ জুলাই উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি ফৌজদারী মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের কাছে দায়িত্ব দেন। উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এইচ এম খলিলুর রহমান সম্প্রতি ঐ মামলার তদন্তকালে এ সকল তথ্য জানা গেছে। ভাইস চেয়ারম্যান আরও জানান, এ মামলার তদন্তের জন্য তারিখ নির্ধারন করে ঘটনাস্থলে বাদী পক্ষকে হাজির হওয়ার জন্য নোটিশ প্রদান করা হয়েছিল কিন্তু অজ্ঞাত কারনে তারা কেউ উপস্থিত হয়নি। কারন তাদের দলিলের কোন সত্যতা আছে বলে মনে হয়না।