টানা ১৩ বছর এক উপজেলায় মির্জাগঞ্জে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার খুটির জোর কোথায়!

6

মোঃ ফারুক খান, মির্জাগঞ্জ ঃ পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার বিরূদ্ধে সার্টিফিকেট বানিজ্য, নি¤œমানের প্রক্ষিণের উপকরণ বিতরণ, উৎকোচের বিনিময়ে লোন বিতরণ,যথাযথ প্রশিক্ষক ছাড়া যাকে তাকে দিয়ে নাম মাত্র প্রশিক্ষণ করিয়ে বিপুল পরিমান অর্থ আত্মসাৎসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

 

যুব উন্নয়ন দ্পতর জানায়, মির্জাগঞ্জ উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সৈয়দ ফারুক হোসেন ২০০২ সাল থেকে টানা ১৩ বছর অত্র উপজেলায় কর্মরত আছেন। সরকারি চাকুরীর বিধিমালা উপেক্ষা করে অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে তিনি এক যুগের বেশি অত্র উপজেলায় চাকরি করছেন। এতে ঝিমিয়ে পড়ছে বিভিন্ন যুব কার্যক্রম।

 

২০১৪-১৫ অর্থ বছরের উপজেলার মহিষকাটায় একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এগ্রিকালচারের উপর প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। মাষ্টাররোলে ৩৫জন শিক্ষার্থীর নাম থাকলেও সরেজমিনে দেখা যায়, ১০ থেকে ১২ জনার উপস্থিতি। প্রশিক্ষণের জন্য ৭দিন নির্ধারিত থাকলেও ৩ দিনেই তা শেষ হয়ে গেছে বলে জানাযায়। জনপ্রতি শিক্ষা উপকরণের জন্য ৫০ টাকা বরাদ্ধের মধ্যে প্রত্যেক প্রশিক্ষনার্থীকে দেওয়া হয়েছে নি¤œমানের ১টি কলম ও ৫ টাকার ১টি খাতা । প্রশিক্ষণ চলাকালীন একজন গেজেটেড অফিসার ও যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিজের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও গেজেটেড অফিসারতো দুর থাক ওই ৩ দিনে তার দেখাও মেলেনি। মাত্র ৮৫০ টাকা সম্মানি ভাতার মাধ্যমে জনৈক জাকির নামে এক ব্যক্তিকে দিয়ে প্রশিক্ষণ সমাপ্ত করা হয়েছে বলে জানান প্রশিক্ষনার্থীরা। এ ভাবে নানা অনিয়ম ওই কর্মকর্তার কাছে নিয়মে পরিণত হয়েছে। প্রশিক্ষণ না নিয়েও কিছু অর্থ ধরিয়ে দিলেই তার দপ্তর থেকে মেলে সার্টিফিকেট। কখনও কখনও ৩০ দিনের প্রশিক্ষণ মাত্র ৫/৭দিনেই শেষ হয়ে যায় পরে যথারীতি মেলে সার্টিফিকেট। বিনিময়ে কিছুই শিখতে পারছেনা শিক্ষার্থীরা।

 

লোন দেয়া-নেয়ার ক্ষেত্রেও তাকে দিতে হয় উৎকোচ। উপজেলা সদরস্থ সুবিদখালী বন্দরের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মোঃ শহিদুল ইসলামকে ৭০ হাজার টাকা লোন দেয়ার কথা বলে ১০ হাজার টাকা উৎকোচ গ্রহন করেন উপজেলা যুব উন্নযন কর্মকর্তা। এ ব্যাপারে ওই ব্যবসায়ী মির্জাগঞ্জ প্রেসক্লাবে এসে অভিযোগ করেন। অভিযোগে তিনি জানান, “আমি ধার-দেনা করে ১০ হাজার টাকা দিয়েছি ৭০ হাজার টাকা লোন পাবার আশায়। কিন্তু কর্মকর্তা আমাকে মাসের পর মাস ঘুরিয়ে বলেন এত টাকা লোন দেওয়া যাবে না। লোনের টাকা না পেয়ে অগ্রিম ১০ হাজার টাকা ফেরত চাইলে কর্মকর্তা বলেন ওই টাকাও খরচ হয়ে গেছে। এছাড়াও অফিসের সরকারি মোটরসাইকেলটিও তার ব্যবহৃত হয় তার ব্যক্তিগত কাজে।   যুব উন্নয়ন জোরদার প্রকল্প এবং রেভিনিউ প্রকল্প খাত থেকে প্রচুর টাকা ভূয়া ভাউচারের মাধ্যমে উত্তোলন করেছেন বলে জানাগেছে বিস্বস্ত সূত্রে।

 

 

উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার সৈয়দ ফারুক হোসেন বলেন, শহিদের লোনের ব্যাপারে ফাইল তৈরী করে জেলা অফিসে প্রস্তাব প্রেরন করা হয়েছিল। কিন্তু জেলা অফিস লোন পাশ করেনি। এখানে আমার করার কিছু নেই।

 

পটুয়াখালী জেলা যুব উন্নয়নের উপ-পরিচালক মোঃ নূরে আলম আক্তার(চলতি দ্বায়িত্ব) বলেন, মির্জাগঞ্জ উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোন উৎকোচ গ্রহনের অভিযোগ হয়ে থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা নেয়া হবে।