টাহা পয়সা য্যা লাগে মোর স্বামীরে আইন্না দ্যান তালতলীতে অপহরনের ৭ দিনেও মেলেনি জেলেদের সন্ধান

2

 

জয়দেব রায়, বরগুনা প্রতিনিধি ঃ “টাহা পয়সা য্যা লাগে মোর স্বামীরে আইন্না দ্যান, আইজ এক সপ্তাহ অইয়্যা গ্যালো মোর স্বামীর খোঁজ পাইনা ” কান্না জড়িত কন্ঠে এই কথাগুলি বলেন, ফারুক মাঝির স্ত্রী নুরুন্নাহার বেগম।

বঙ্গোপসাগরে জাল ফেলতে গেলে মুক্তিপনের দাবীতে জলদস্যুরা ২টি ট্রলার থেকে দুই জেলে মাঝি মিলন খান (৪০) ও ফারুক ঘরামীকে (৪২) অপহরন করে নিয়ে যায়। অপহরনের ৭ দিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও সন্ধান মেলেনি এদের কারো ।

অপহৃত মাঝিদের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ অক্টোবর সকালে এফবি সাকিল ও এফবি ফাতেমা ইসলাম নামের দুটি ট্রলার বরগুনার তালতলী উপজেলার ফকিরহাট মৎস্য আড়ৎঘাট থেকে দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে পশ্চিম বয়া ও সুন্দরবনের বাইরে মাছ ধরতে যায়। ১২ অক্টোবর দিবাগত রাতে জলদস্যুরা নাম বিহীন একটি ট্রলারে এসে জেলে ট্রলার দুটির উপর হামলা চালায়। এ সময় জলদস্যুরা জেলেদের শারীরিক নির্যাতন করে জেলে ট্রলারের জাল ও মাছ নিয়ে যায়। এ ছাড়াও মুক্তিপনের দাবীতে জলদস্যুরা অপহরন করে নিয়ে যায় ওই ট্রলার দুটির মাঝি মিলন খান ও ফারুক ঘরামীকে। অপহরনের ৭ দিন অতিবাহিত হলেও জলদস্যুরা অপহৃত জেলেদের অভিভাবক ও মালিকদের সাথে কোন যোগাযোগ করেনি। অদ্যবদি ওই জেলেদের কোন সন্ধান না পাওয়ায় তাদের পরিবারের লোকজনের মধ্যে উৎকন্ঠা ও হতাশা বিরাজ করছে।

এফবি ফাতেমা ইসলাম ট্রলার মালিক রহমান মিয়া জানান, মাঝিদের সন্ধান চলছে। অবশ্যই কোন জলদস্যু বাহিনী ওই জেলেদের নিয়ে গেছে। জলদস্যুদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কেউ যোগাযোগ করেনি। কোন প্রকার সন্ধান পেলেই তাদের সাথে কথা বলে মাঝিদের ফিরিয়ে আনা হবে।

এ বিষয়ে নিদ্রা-সখিনা কোস্টগার্ড স্টেশনের পেটি অফিসার মো. জাহিদ হোসেন জানান, অপহৃত জেলেদের উদ্ধারের চেষ্ঠা চলছে এবং ট্রলার মালিক ও উদ্ধতন কতৃপক্ষের তথ্য এবং নির্দেশনা অনুযায়ী অপারেশন চালিয়ে যাচ্ছি।