টোপের গন্ধে চাঁইয়ের ফাঁদে ছোট পাংগাশ 

3
OLYMPUS DIGITAL CAMERA

স্টাফ রিপোর্টারঃ পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার বিভিন্ন নদ-নদীতে চলছে চাঁই পেতে মাছ শিকার। পুঁটি মাছের শুঁটকি, সরিষার খৈল ও আরও কিছু উপাদান মিশিয়ে তৈরি করা হয় এই টোপ। বিশেষ ওই টোপ পাটের বস্তায় ভরে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় বাঁশ দিয়ে তৈরি চাঁইয়ের (বড় আকৃতির এক ধরনের খাঁচা) ভেতরে। এরপর চাঁইয়ের সঙ্গে ইট বা পাথর বেঁধে ডুবিয়ে দেওয়া হয় নদীতে। টোপের গন্ধে ঝাঁকে ঝাঁকে ছোট পাঙাশ (১২ ইঞ্চির ছোট) ও টেংরা মাছ ঢুকে পড়ে বাঁশের চাঁইয়ে। এরপর মাছভর্তি চাঁই টেনে তোলা হয় নৌকা বা ট্রলারে। এই পদ্ধতিতে তুলনামূলক কম সময় ও  অল্প পরিশ্রমে প্রচুর মাছ শিকার করা যায়। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের টোপ ব্যবহার করে মাছ শিকার চলতে থাকলে মৎস্যবৈচিত্র্য নষ্ট হওয়াসহ মাছের ওইসব প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।

শিকারীরা জানান, টোপের শুঁটকি ঢাকায় মহাজনদের কাছ থেকে কিনে আনা হয়। মুঠোফোনে চাহিদা জানালে লোক দিয়ে টোপের শুঁটকি পৌঁছে দেওয়া হয়। এক হাঁড়ি (প্রায় ৪০ কেজি) শুঁটকির দাম সাড়ে তিন হাজার থেকে চার হাজার টাকা। আর তা দিয়ে ছয়বার চাঁই পাতা যায়।

গলাচিপার বোয়ালিয়া গ্রামের মাছ শিকারি মো. ইব্রাহীম মাতুব্বর (৫০) বলেন, ‘টোপ বাইন্ধ্যা (বেঁধে) নদীর মইধ্যে রাইতের সময় চাঁই ফালাই, আর সকালবেলা চাঁই টানি। কোনো কোনো দিন একবারে পাঁচ-ছয় মণ মাছ পাই। পুঁটির শুঁটকির এমনই বাসে (ঘ্রাণ) পাংগাশ-টেংরা পাগল অইয়া চাঁইতে হান্দে (ঢোকে)।’

গলাচিপার মৎস্য ব্যবসায়ী মো. মনসুর আলী বলেন, আগে বড়শি দিয়ে নদ-নদী থেকে পাংগাশ ও টেংরা মাছ ধরে বাজারে বিক্রি হতো। কয়েক বছর ধরে বড়শিতে আর ওই জাতের মাছ ধরা পড়ছে না। বাজারে যেসব পাঙাশ-টেংরা আসে, তা সবই চাঁই দিয়ে ধরা। এভাবে চাঁই দিয়ে ধরতে থাকলে দুই-এক বছর পর ওই মাছ নদীতে আর থাকবেই না।’

এ প্রসঙ্গে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি এম আখতার হোসেন বলেন, বিশেষ খাদ্য বা টোপ ব্যবহার করে নদ-নদী বা জলাশয় থেকে অতিরিক্ত মৎস্য আহরণ (ওভারফিশিং) পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। নষ্ট হতে পারে মৎস্যবৈচিত্র্য। দীর্ঘদিন এভাবে চলতে থাকলে মাছের বিশেষ কোনো প্রজাতির বিলুপ্তি ঘটতে পারে।

গলাচিপা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অঞ্জন ঘোষ জানান, নদী বা খালে মাছ ধরার জন্য ফিক্সড ইঞ্জিন স্থাপন করা (স্থায়ীভাবে কোনো জাল বা চাঁই ফেলে রাখা) বেআইনি। গলাচিপার বিভিন্ন নদ-নদীতে চাঁই পেতে মাছ শিকার করা হচ্ছে বলে শুনেছি। তবে কখন, কোথায় চাঁই ফেলা হচ্ছে, তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। আমরা ওই সব শিকারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।