ডিও লেটারে স্বাক্ষর না করায় তালতলীতে  মাদ্রাসার সুপারকে কুপিয়ে জখম

8

 

আমতলী প্রতিনিধি : বরগুনার তালতলীতে মাদ্রাসার নামে বরাদ্ধের ১০ টন চাল ছাড়ানোর ডিও লেটারে স্বাক্ষর না দেয়া ও একটি নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন পক্ষে না হওয়ায় ঐ তদন্ত কর্মকর্তা ছোটবগীর গাবতলী দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা ওবায়দুল¬াহকে (৪৫) বাড়ী থেকে ডেকে এনে পিটিয়ে ও ধারালো রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে বাদী পক্ষের ভাই হিমু ও তার সহযোগিরা। ঐ সুপারকে আশংকা জনক অবস্থায় রাতেই পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানাগেছে, গত বছর ১৫ সেপ্টেম্বর পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার তেলিখালী গ্রামের রেহেনা আকতার শীলা বরগুনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করে। ওই মামলার তদন্ত সরেজমিনে যাচাই করে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার জন্য আদালত তালতলী উপজেলার ছোটবগীর গাবতলী দাখিল মাদ্রাসার  সুপার মাওলানা ওবায়দুল¬াহকে দায়িত্ব দেন। সুপার আদালতের নির্দেশ অনুসারে এ বছরের ৩ জানুয়ারী আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। ওই তদন্ত রিপোর্ট বাদীর বিপক্ষে যায়। অন্যদিকে ঐ মামলার নায়ক হিমুর স্ত্রী খাদিজা বেগম একই মাদ্রাসায় করনিক পদে চাকুরি করেন। সেই সুবাদে হিমু বরগুনার সংরক্ষিত আসনের এমপি নাসিমা বেগমের নিকট থেকে মাদ্রাসার উন্নয়নের জন্য ১০ টন চাল বরাদ্ধ করান। বরাদ্দকৃত চালদ্বারা আদৌ কাজ না করে চাল ছাড়ানোর জন্য কাগজপত্র তৈরী করে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মাওলানা ওবায়দুল¬াহকে বাড়ী থেকে ডেকে এনে গাবতলী স্ব-মিলের পাশে নিয়ে  হিমু সুপারের কাছে স্বাক্ষর চায়। সুপার এরকম অন্যায় কাজে স্বাক্ষর না দেয়ায় তখনই হিমুর সাথে থাকা তার শ্যালক সরোয়ারসহ ৫/৬ জন সন্ত্রাসীরা অকথ্য ভাষায় গালাগালির এক পর্যায়ে মারধর শুরু করে। মারধরের একপর্যায় ধারালো রামদা দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। মাওলানার  ডাক চিৎকার শুনে লোকজন ছুটে আসলে সন্ত্রাসীরা মোটর সাইকেল যোগে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাৎক্ষনিক মাওলানা ওবায়দুল্ল¬াহকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। খবর শুনে ওই রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ ঘটনায় তালতলী থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

তালতলী থানার এসআই আলমগীর হোসেন জানান, একটি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন এক পক্ষের মনঃভুত না হওয়াতে তারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

মাওলানা ওবায়দুল্ল¬াহ’র ছোট ভাই জিয়াউল হক জোবায়ের জানান, থানায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।

তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আখতার জানান, হামলার  খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে তাৎক্ষনিক পুলিশ পাঠিয়েছি। হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।