ঢাকাগামী সুন্দরবন-১১ দোতলা লঞ্চ থেকে নদীতে পড়া বাদল মোল্লার কোন হদিস মেলেনি

3

মজিবুর রহমান, দুমকি প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালী-ঢাকা নৌ-রুটের চরগরবদি টার্মিনাল অদূরে ঢাকাগামী সুন্দরবন-১১ লঞ্চ থেকে নদীতে লাফিয়ে পড়ার ২০ঘন্টা অতিক্রান্ত হলেও দুমকির বাদল মোল্লার (৩২) কোন হদিস মেলেনি। নিকট স্বজনদের ঢাকাগামী লঞ্চে ওঠানোর সময় লঞ্চটি ছেড়ে দেয়ায় সে ঘাটে নামতে পারেনি। পরে লঞ্চের দায়িত্বশীল লোকজনের পরামর্শ মতে ঝিলনা মোড়ে লাফিয়ে পড়ার পর  থেকে  সে নিখোঁজ রয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় চরগরবদি লঞ্চ টার্মিনালের অদূরে এ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। নিখোঁজ বাদল মোল্লার স্বজন ও বন্ধুবান্ধবরা খবর পেয়ে ট্রলার নিয়ে ঘটনার সময় থেকে শনিবার পর্যন্ত ঘটনাস্থল  থেকে চরগরবদি, ঝিলনা, আমরখালী, পাংসিঘাট, কারখানা এলাকার অন্তত: ৭-৮কি.মিটার নদীতে ও দু’তীরে  খোঁজাখুঁজি করলেও তাঁর হদিস পাওয়া যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শী ওই লঞ্চের যাত্রী ও স্বজনদের অভিযোগ লঞ্চ কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালীপণা ও দায়িত্বহীনতাই বাদল মোল্লাকে তাঁর জীবনের অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। লঞ্চের দায়িত্বে থাকা লোকজন চাইলে সামনের নিরাপদ কোন চর বা নৌকায় তাঁকে (বাদল মোল্লা) নামিয়ে দেয়া যেত। কিন্ত তা না করে বরং নদীতে লাফিয়ে পড়ে যেতে উদ্ভুদ্ধ করেছে। সুন্দরবন-১১’র দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা অবশ্য অভিযোগটি মানতে নারাজ। মোবাইল ফোনে সুপারভাইজার ইউনুস জানান, স্ব-উদ্যোগে চলন্ত অবস্থায় ওই ব্যক্তি আচমকা নদীতে লাফিয়ে পড়েছে।

পারিবারিক সূত্রের দাবি, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টায় জলিশা গ্রামের মরহুম মোকছেদ আলী মোল্লার ছেলে  গোলাম মোস্তফা বাদল মোল্লা তার ঢাকার যাত্রী আপন ভাইয়ে ছেলে-বউকে চরগরবদি টার্মিনাল থেকে সুন্দরবন লঞ্চে আগাইয়া দিতে যায়। পটুয়াখালী থেকে ছেড়ে সন্দরবন-৯ চরগরবদি ঘাটে ভেড়ার সাথে সাথে অন্যান্য যাত্রীদের ভীর ঠেলে ছেলে-বউকে কেবিনে পৌছে দিয়ে ফেরত নামতে যায়। ইত্যাবসরে লঞ্চটি ছেড়ে মাঝনদীতে চলে গেলে সে দৌড়ে সারেং, চুকানী ও মাষ্টারকে ঘাটে নামিয়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করতে থাকে। দায়িত্বরত লঞ্চকর্মকর্তা ও স্টাফরা কোন ক্রমে ভেরাতে রাজি হননি। এক পর্যায়ে তাঁকে ঝিলনা মোড় ঘোড়ার সময় লাফিয়ে তীরে পড়ার পরামর্শ দেয়। চলমান লঞ্চটি ঝিলনা মোড়ে পৌছলেও কোন রকম গতি না কমালেও হঠাৎ নদীতে ঝাপিয়ে পড়ে ডুবে যায়। এর পর থেকে আর জেগে ওঠতে দেখা যায়নি। এলাকায় খোঁজাখুজি করা হলেও জীবিত কিম্বা মৃত কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে দুমকি থানায় একটি সাধারণ ডায়রী করা হয়েছে। দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ দিবাকর এ প্রসঙ্গে বলেন নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে একটি জিডি করা হয়েছে। তদন্ত করে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে। নিখোঁজ বাদল মোল্লা বিশিষ্ট সাংবাদিক নেতা, জাতীয় প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী সদস্য এবং দৈনিক বর্তমান’র চীফ রিপোর্টার হাসান আরেফিনের ছোট ভাই এবং তিনি একজন ঔষধ ব্যবসায়ী। উপজেলা হাসপাতাল এলাকার মোল্লা ফার্মেসীর মালিক। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শনিবার তাঁর কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি।