তহশিলদাররা হাতিয়ে নিচ্ছে অর্থ গলাচিপা ও রাঙ্গাবালীতে লাল নিশান আতংক

2

 

pic-1

নাসির উদ্দিন/কামরুল হাসান : গলাচিপা ও রাঙ্গাবালী উপজেলার দ্বীপচরাঞ্চলীয় ইউনিয়নগুলোতে ধানের ক্ষেতে উড়ছে লাল নিশান। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি অফিস কর্তৃপক্ষ এ নিশান উড়ানোর ফলে  কৃষকদের মধ্যে বিরাজ করছে আতংক। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ধান ঘরে তুলতে পারবেন কিনা এ নিয়ে রয়েছেন দুঃশ্চিন্তায়।

সরেজমিন পরিদর্শনে দেখাযায়, এ দুই উপজেলায় কয়েক হাজার একর জমির আমন ধান ক্ষেতে উড়িয়ে দেয়া হয়েছে লাল নিশান। কৃষকরা যাতে ধান কাটতে না পারে এ জন্য নিয়োগ করা হয়েছে সরকারি দলের ক্যাডার ও গ্রাম পুলিশ  (চৌকিদার)। অধিকাংশ কৃষক ধান লুট হয়ে যাওয়ার আশংকায় ভুগছেন।  ক্যাডারদের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়ায় বইছে আনন্দের বন্যা। প্রতি বছরের মতো ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারীরা এ কাজটি করছেন। এ ব্যপারে গলাচিপা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাজী সায়েমুজ্জামান  জানান, দিয়ারা জরিপের মাধ্যমে পক্ষিয়া মৌজায় কয়েক একর খাস জমি চিহ্নিত করা হয়েছে। এ জমিতেই লাল নিশান তোলা হয়েছে। কিন্তু বুধবার উত্তর চরকাজল মৌজার অনেক জমিতে লাল নিশান উড়তে দেখে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: মাহবুব আলম স্থানীয়দের কাছে জানতে চান এসব জমিতে লাল নিশান কেন। স্থানীয়রা নির্বাহী অফিসারকে জানান, খাজনা আদায়ের জন্য এসব নিশান উড়ানো হয়েছে। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে প্রতিবছর ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তাদের  লাল নিশান উড়নোর আসল তথ্য। খাজনা আদায়ের নামে ধান আটক করে কৃষকদের কাছ থেকে জোর করে আদায় করা হয় মোটা অংকের টাকা। এ টাকার বিনিময়ে তহশিলদাররা কৃষকদের কোন দাখিলা বা কাগজপত্র দেননা। তার ব্যক্তিগত নোট বইয়ে নাম লিখে রাখেন। প্রকাশ না করার শর্তে চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের এক কৃষক জানান, তার বাবা ১৯৫৯-৬০ সালে ওই ইউনিয়নের চর লতা মৌজায় ৩ একর খাস জমি বন্দোবস্ত পান। তিন বছর আগে ওই জমির ধান কাটতে গেলে তহশিলদার খাজনা বাবদ তার কাছে দাবি করেন ৫২ হাজার টাকা। ওই জমিতে ধান হবে না ১৫ হাজার টাকার। অথচ খাজনা দিতে হবে এতো বড়ো অংকের টাকা। এরই মধ্যে জুটে যায় দালাল। দর কষাকষির পর দালালের মাধ্যমে ৩ হাজার টাকায় রফা। এ টাকার জন্য দেয়া হয় না দাখিলা। টাকার পরিমান বেশি হওয়ায় গত কয়েকবছর যাবত তিনি এভাবে ধান কেটে নিয়েছেন। চরাঞ্চলের শত-শত কৃষক এ পন্থা অবলম্বন করেন। এতে তহশিলদারের পকেট ভারি হলেও সরকারি কোষাগারে জমা হয় না সিকি পরিমান অর্থ। অপরদিকে কৃষক ভিন্নপথে টাকা দিলেও খাজনার খাতা তার শুধু ভারি হতেই থাকে। এভাবে প্রতিবছর কৃষকদের লাখ লাখ টাকায় তহশিলদাররা আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ।

কৃষকেরা আরও জানায়, নিয়ম মাফিক সরকারি খাস জমি বন্দোবস্ত ও কবুলিয়ত, রেজিষ্ট্রি, খতিয়ান খুলে যুগের পর যুগ এসব জমি কৃষকরা ভোগদখল করলেও প্রতিবছর ধান কাটার মৌসুম এলেই শুরু হয় এ কর্মযজ্ঞ। ভূমি দফতরের কর্মকর্তা কর্মচারীরা চরের কথিত খাজনা আদায় ও খাস জমি চিহ্নিত করার নামে বাঁশের মাথায় লাল কাপড় বেঁধে ধান ক্ষেতে উড়িয়ে দেয়। ক্ষেতে যখন ফসল থাকে না তখন একদিনের জন্যও খাস জমি চিহ্নিত করতে ভূমি দফতরের কেউ এসব চরে যায় না। চাষাবাদের সময় বহু আবেদন নিবেদন করেও খাস জমি চিহ্নিত করতে সার্ভেয়ারসহ সংশ্লিষ্ট কাউকেই নেয়া যায় না বলে ভূক্তভোগী কৃষকরা অভিযোগ করেন। কিন্তু ধান পাকা আরম্ভ করলেই খাস জমি চিহ্নিত ও রাজস্ব আদায়ের উপ-সহকারি ভূমি কর্মকর্তারা ধানী জমিতে লাল নিশান তুলে দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক অমিতাভ সরকার জানান, যারা ধান চাষ করেছে সেই কৃষকরাই ধান কেটে ঘরে তুলবে। এ জন্য পুলিশি সহয়তা দিতে মাঠ পর্যায়ে পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। ভূমি অফিসের কেউ কোন অনৈতিক কাজে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।##