তানিয়া হত্যা মামলায় বাদীর  নারাজী

2

আমতলী প্রতিনিধিঃ বরগুনার তালতলীতে  চাঞ্চল্যেকর তানিয়া হত্যা মামলায় নারাজীর  আবেদন করেছেন  মামলার বাদী  মো.রুস্তুম আলী কবিরাজ ,   জানা গেছে,  ২০১৫ সালের ৭  ডিসেম্বর  তালতলী থানার  সোনাকাট ইউনিয়নের ইদুপাড়া গ্রামে দেবরের দায়ের কোপে খুন হয়েছে গৃহবধূ তানিয়া আক্তার। তার  স্বামীর নাম দুলাল খা। তাদের দু’টো ছেলে সন্তান রয়েছে। ঘটনার সময় ওই গৃহবধূর স্বামী বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরছিলো।

তালতলী থানার ওসি বাবুল আখতার জানিয়েছেন, মন্নান খায়ের মৃত্যুর পরে তার ২ ছেলে দুলাল খা ও হাবিব খা একই ঘরের ভিতরে মাকে নিয়ে বসবাস করছিলেন। দেবর হাবিব খা পটুয়াখালী সরকারি কলেজে দ্বাদশ শ্রেনীতে পড়ে। ৭  ডিসেম্বরের  দু’দিন আগে বাড়ি এসে সে তার মাকে নিয়ে আলাদাভাবে বসবাসের দাবী জানায়।

বড় ভাই তার ছোট ভাইকে জানিয়ে দেয়, তার পক্ষে দুটো পরিবারকে টাকা দেয়া সম্ভব নয়। আলাদাভাবে বসবাস করতে হলে তাদেরই আয় করে চলতে হবে। হাবিব তার বড় ভাইয়ের কথা ক্ষুব্ধ হয়ে ভাবীকে হত্যার পরিকল্পনা করে। সকালে ঘুম থেকে উঠে তানিয়া হেউলিপাতার হোগলা বুনতে ছিলো। হঠাৎ করেই হাবিব একটি ধারালো দা দিয়ে তানিয়ার ঘাড়ে কোপ বসিয়ে দেয়।

এসময় আরো একটি কোপ তানিয়ার বুকে লেগেছে। মূমুর্ষূ অবস্থায় তানিয়াকে প্রথমে আমতলী হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে পটুয়াখালী নেয়া হলেও তানিয়াকে আর বাচানো যায়নি। এ ঘটনায় তানিয়ার পিতা মো. রুস্তুম আলি কবিরাজ ৭ ডিসেম্বর  ২০১৫ রাতে তালতলী থানায়  দেবর হাবিল ওরফে হাবিব (১৮)  দেবর ইসমাইল (৩০)  শাশুড়ী মোসাঃ জাহানা বেগম (৫৫) কে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি দীর্ঘ তদন্ত শেষে বরগুনার সি আই ডি পুলিশের  পরিদর্শক এস এম এনামুল হক  ১৬ জুন ২০১৬ মামলার ১ নং আসামী হবিল ওরফে হবিব কে অভিযুক্ত করে  চার্জসিট প্রদান করেন। অন্য দুই আসামীকে অব্যাহতি প্রদান করেন।

এ চার্জসিটের বিরুদ্ধে  বাদী রুস্তুম আলী কবিরাজ ২৫ জুলাই বিজ্ঞ আদালতে  নারাজী দাখিল করেন।

নারাজী আবেদনে বাদী উল্লেখ করেন  এ মামলায় তন্তকারী কর্মকর্তা   তাকে  ও তার মানিত স্বাক্সীদের কোন কিছ না জানিয়ে  এ মামলায় চার্জসিট দিয়েছেন।

 

বাদী আরো উল্লেখ করেন  তানিয়া হত্যা মামলায় তার শাশুড়ী জাহানারা বেগমও দেবর ইসমাইলের  পরিক্লপনায় করা হয়েছে । কিন্তু তদন্তকারী কর্মকর্তা তানিয়া হত্যার মুল পরিকল্পনাকারীদের  বাদ দিয়ে চার্জসিট দিয়েছেন।